২০১৮-১০-২০ ১৯:১৯ বাংলাদেশ সময়

আসলে সুস্থ থাকার কথা বললেও সুস্থ থাকা সবসময় ততটা সহজ নয়। সুস্থ থাকতে হলে প্রয়োজন বহু বিষয় জানা এবং মানা।

বিশেষ করে একটি সুস্থ পরিবার কী করে গড়ে তোলা যায় কিংবা অন্যভাবে বলা চলে পারিবারিক সুস্থতার জন্য কী কী কাজ করা প্রয়োজন-সেসব বিষয় নিয়ে আমরা নতুন এই ধারাবাহিকে আলোচনা করার চেষ্টা করবো। এই ধারাবাহিকের নাম 'সুস্থ পরিবার'। গত আসরে আমরা নিরাপদ খাবারের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি।

মানুষের শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী একটি দিক হলো খাদ্য ও পুষ্টি। শরীরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে এই খাদ্য এবং তার পুষ্টিগুণ। পুষ্টিহীনতার কারণেই মানুষ বিচিত্র রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। সে কারণেই সবার উচিত খাবারের সুচিন্তিত একটি পরিকল্পিনা গ্রহণ করা। প্রয়োজনে একটি খাদ্যসূচি তৈরি করে নেয়া ভালো।আজকাল অবশ্য খাদ্য ও পুষ্টি সম্পর্কে জনসচেতনতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।তারপরেও আরও বেশি জ্ঞান এবং যথাযথ অনুশীলনের প্রয়োজন রয়েছে। কেননা জেনেশুনেও ক্ষতিকর বহু খাবার মানুষ এখনো নির্দ্বিধায় গ্রহণ করে থাকে।

সর্বসাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে এখনো বয়স্কদের মধ্যে শতকরা ৪৫ ভাগ স্থূলতা ও অতিরিক্ত ওজন সমস্যায় ভুগছেন। বয়স্ক বলতে বোঝানো হয়েছে ১৫ বছর থেকে ৬৪ বছর পর্যন্ত বয়সের লোকজন। দু:খজনকভাবে শিশুদের মধ্যেও বিরাট সংখ্যক প্রয়োজনীয় ওজনের তুলনায় অনেক বেশি মোটা এবং অনেক বেশি ওজন সমস্যায় ভুগছে।এর কারণ হলো শারীরিক অনুশীলনবিহীন জীবনযাপন পদ্ধতি।আগেকার দিনে এই সমস্যাটা এতোটা ব্যাপক ছিল না, কারণ তখন শারীরিকভাবে পরিশ্রম করার প্রবণতা এখনকার তুলনায় বেশি ছিল।

বলছিলাম ১৫ বছর থেকে ৬৪ বছর পর্যন্ত বয়সের মানুষের মধ্যে রোগ-ব্যাধি বৃদ্ধির পরিমাণ আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। এর কিছু কারণের কথা আমরা বলেছি। অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে তেলে ভাজা খাবার গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি,লবণযুক্ত খাবার গ্রহণ,ফ্রোজেন খাবার খাওয়া, বিচিত্র ক্যানের খাবার,চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি,পাস্তুরিত ও রেডিমেড খাবার, কোল্ড ড্রিংকস,সফট ড্রিংকস খাওয়া, অপ্রাকৃতিক জুস, চর্বিপূর্ণ গোশতের তৈরি খাবারসহ আরও বিচিত্র খাবার খাওয়ার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি হ্রাস পেয়ে গেছে। আর এই রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে যাওয়াই বিভিন্ন রকমের রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া অর্থাৎ পরিপূর্ণ সুস্থতা অর্জনের উপায় হলো পুষ্টি সংক্রান্ত সুন্দর একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করা। এই পরিকল্পনার মধ্যে প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট একটা খাদ্যসূচি থাকা উচিত যার মধ্যে থাকবে: পরিমাণমতো কাবোর্হাইড্রেড, চর্বি, প্রোটিন, বিভিন্ন রকমের ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, পানি এবং ফাইবার গ্রহণের সঠিক মাত্রা ও পরিমাণ। কায়িক বৃদ্ধি, শরীরের যথার্থ কার্যক্ষমতা ও উন্নয়নের স্বার্থে এই খাদ্যোপাদানের সঠিক মাত্রা ও পরিমাণের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সব উপাদান যদি আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় থাকে এবং আমরা যদি সঠিকভাবে তা গ্রহণ করি তাহলে বলা যেতে পারে আমাদের খাদ্যসূচি ভারসাম্যপূর্ণ এবং সঠিক।

খাদ্যসূচি ভারসাম্যপূর্ণ হলে তার লক্ষণ ফুটে উঠবে আমাদের দেহে। যেমন বয়স অনুযায়ী ওজন ও উচ্চতার মধ্যে মিল থাকবে। স্কিন ও চুল তরতাজা ও সতেজ থাকবে। নখ থাকবে নিরোগ এবং গোলাপি রঙের, চোখগুলো হয়ে উঠবে প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন ও অনুসন্ধানী, ক্ষুধা থাকবে, বৃহদন্ত এবং ক্ষুদ্রান্ত থাকবে পরিষ্কার, বুদ্ধি ও উপলব্ধি থাকবে পরিপূর্ণ, প্রতিক্রিয়া থাকবে দৃঢ় আর ব্যক্তিত্ব থাকবে গ্রহণযোগ্য ও ভারসাম্যপূর্ণ। তবে যে বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে তাহলো যে কয় প্রকারের খাবারের কথা আমরা বলেছি সেগুলো কীভাবে এবং কী পরিমাণ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ বিষয়টি ব্যক্তির দৈহিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, চাহিদার চেয়ে বেশি পরিমাণ গোশত কিংবা গোশতযুক্ত খাবার খেলে ক্যানসার হবার আশংকা থেকে যায়। আবার সিরিয়াল জাতীয় খাবার যাতে ভিটামিন-বি থাকে, কম খেলে পাগলামি কিংবা মেজাজ খারাপের মতো মানসিক রোগ দেখা দেওয়ার আশংকা থেকে যায়। অনেকেই মনে করছেন উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি, মোটা হয়ে যাওয়া, হার্টের রোগ ইত্যাদি অনেকেটাই জেনেটিক বা বংশাণুক্রমিক। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন যথাযথ খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে বংশাণুক্রমকি রোগগুলোকে প্রতিহত করা সম্ভব কিংবা একটু বেশি বয়সে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। হার্ট অ্যাটাক, ডায়াবেটিস, ব্রেইন স্ট্রোক, বিচিত্র ক্যানসার ইত্যাদি পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে প্রতিহত করা যায় বলে মনে করেন তারা।

পুষ্টি জ্ঞান তাই খুবই জরুরি। যে কয় প্রকারের খাবার আমাদের দৈনন্দিন গ্রহণ করা উচিত সেগুলোর প্রতি মনোযোগী হতে হবে। লবণ কম খেতে হবে। চিনি বা শর্করাযুক্ত খাবারের পরিমাণ কমাতে হবে। শাকসব্জি বেশি খেতে হবে, ফলফলাদি ও দানাদার শস্য বেশি বেশি খেতে হবে, সিরিয়াল এবং ফাইবারযুক্ত রুটি খেতে হবে। সর্বোপরি শারীরিক পরিশ্রম বাড়াতে হবে। তাহলেই পরিবারে রোগ-ব্যাধির পরিমাণ কমে আসবে এবং বৃদ্ধি পাবে সুস্থতা ও সবলতা। আর এই সুস্থতা ও সবলতাই একটি পরিবার ও সমাজের জন্য হয়ে উঠতে পারে অর্থনৈতিক সুবিধা ও সাফল্যের অন্যতম কারণ। #

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/মো.আবুসাঈদ/২০

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

ট্যাগ

মন্তব্য