২০১৮-১০-২৫ ২১:১৪ বাংলাদেশ সময়

ইন্টারনেট তথা ভার্চুয়াল জগতে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সবারই একটি বিষয় মনে রাখা উচিত, আর তাহলো কোনো কিছু সিলেক্ট করে একবার সেন্ড বাটনে চাপ দিলে তা নিমিষের মধ্যে অন্যের কাছে পৌঁছে যায়।

শুধু তাই নয়, নিমিষে ছড়িয়ে পড়তে পারে গোটা সাইবার জগতে। একবার কিছু পাঠানোর পর তা দ্রুত মুছে ফেললেও তা ওই সময়ের মধ্যে অন্যের চোখে পড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ভুলে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ও ভিডিও অন্যের কাছে চলে গেছে। যিনি ছবি বা ভিডিও পেলেন তিনি ভাবতে পারেন ছবিটি তাকে উদ্দেশ্য করেই পাঠানো হয়েছে। কিন্তু যিনি পাঠিয়েছেন তিনি হয়তো কখনোই চান নি তার ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও এমন কেউ দেখুক। এ ধরনের সমস্যাগুলো সাধারণত নিজের তৈরি করা সমস্যা। কিন্তু কিছু সমস্যা রয়েছে যা অন্যদের মাধ্যমে তৈরি হয়। এর মধ্যে কম্পিউটার ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার অন্যতম।

কম্পিউটার ভাইরাস হচ্ছে এক ধরনের প্রোগ্রাম যা সাধারণত অন্য একটি সফটওয়্যার এর সাথে সংযুক্ত অবস্থায় থাকে এবং পরবর্তীতে পুরো সিস্টেমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাস বেশির ভাগ সময় সফটওয়্যার অথবা ফাইল শেয়ারিং এর মাধ্যমে কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়ে। এ জগতের আরেকটি বড় হুমকি হচ্ছে ম্যালওয়্যার। ভালোভাবে যাচাই-বাছাই না করে কোনো সফটওয়্যার ইন্সটল কিংবা ব্রাউজার প্লাগিন ইন্সটল করলে কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার ঢুকে পড়তে পারে।  এছাড়া কিছু ম্যালওয়্যার রয়েছে যা কম্পিউটারকে লক করে দিতে পারে। লক করার পর আনলক কোডের জন্য টাকা চাইতে পারে। এছাড়া সাইবার জগতে আরও বেশ কিছু হুমকি রয়েছে। যেমন ব্যাকডোর। এটি এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে একজন হ্যাকার কিংবা স্প্যামার অন্যের নেটওয়ার্ক সংযোগ ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়া রয়েছে 'কি লগার' নামের ম্যালওয়্যার। এর কাজ হলো ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড ও অন্য যেকোনো স্পর্শকাতর তথ্যসহ যা কিছু কম্পিউটারে টাইপ করা হবে তার সব কিছু রেকর্ড করবে এবং পরবর্তীতে কি লগারের প্রোগ্রামার কে পাঠিয়ে দেবে।

একটি ভয়ানক ম্যালওয়্যার হচ্ছে 'রুট কিট'। সহজে এটা ধরা যায় না। রুট কিট অন্য ম্যালওয়্যারকে লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। স্পাইওয়্যার হচ্ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ওপর গোয়েন্দাবৃত্তি করার একটি মাধ্যম। ইন্টারনেটে যা কিছু করা হবে তার সব কিছু মনিটর করা যায় এর মাধ্যমে। অনেক পরিচিত একটি ম্যালওয়্যার হচ্ছে ট্রোজান হর্স। এটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর আর্থিক তথ্য চুরি করতে ব্যবহার করা হয়। এটি পুরো কম্পিউটারকে নষ্ট করে দিতে পারে।

এছাড়া সাইবার জগতে রয়েছে ওয়ার্ম। এটি এক ধরনের খাদক। ওয়ার্ম এর খাবার হলো বিভিন্ন ফাইল। একটি ড্রাইভে যখন ওয়ার্ম ঢুকে পড়ে, তখন এটি আস্তে আস্তে ড্রাইভটি খালি করে ফেলে। সব ফাইল নষ্ট করে দেয়।

বর্তমানে আরও নানা উপায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারীদেরকে বিপদে ফেলা হচ্ছে। অনেক সময় আকর্ষণীয় নানা অফার দিয়ে ব্যক্তিগত ইমেল একাউন্টে চিঠি আসে। অনেক সময় বিখ্যাত কোনো প্রতিষ্ঠান ও পরিচিত বন্ধুর নাম ব্যবহার করে প্রতারকরা। তারা এ ধরনের নাম ব্যবহার করে। কারণ এর ফলে যিনি ইমেইল পেলেন তিনি আস্থার সঙ্গে তা খুলে দেখেন এবং পড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এগুলো আসলে ফিশিং ইমেইল।  এ ধরনের ইমেইলের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করা হয়। এ অবস্থায় সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে সবার আগে সচেতনতা জরুরি। নিজে সচেতন হলে অনেক ঝুঁকিই সহজে মোকাবেলা করা সম্ভব।

এর পাশাপাশি কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম আপ টু ডেট রাখা উচিত। এন্টিভাইরাস ব্যবহার করলে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে কম্পিউটার সিস্টেমকে নিরাপদ রাখা সম্ভব। নিজের প্রয়োজনীয় তথ্যের ব্যাকআপ রাখা উচিত। বিজ্ঞাপন দেখলেই ক্লিক দেওয়া যাবে না। অপরিচিত ইমেইল খোলা ঠিক নয়। শুধু মাত্র ইমেইল ওপেন করার কারনেই তথ্য চলে যেতে পারে হ্যাকারের কাছে। অনেক সময় দেখা যায় উগ্রপন্থীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে নানা উপায়ে  মানুষকে নিজেদের কাছে টেনে নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে।

ক্রমাগত সাইবার অপরাধ বেড়ে চললেও তা মোকাবেলায় দরিদ্র দেশগুলোর পক্ষ থেকে তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অনেক দেশই সাইবার পুলিশ গঠন করেছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানেও সাইবার পুলিশের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। সাইবার পুলিশের মাধ্যমে অনেক অপরাধীকে চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও এর একটা বড় অংশই থেকে যায় ধরাছোয়ার বাইরে। কারণ তারা এমন কৌশলে কাজ করে যে, তাদেরকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না।#

 

পার্সটুডে/সোহেল আহম্মেদ/মো: আবুসাঈদ/ ২৫

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

মন্তব্য