২০১৮-১১-১০ ১৭:১৮ বাংলাদেশ সময়

নি:সন্দেহে প্রতিটি মানুষই চায় সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে।কোনোরকম রোগ-ব্যাধি যাতে আক্রমণ করতে না পারে সে ব্যাপারে সবাই সচেতন থাকতে পছন্দ করে।

মোটকথা সবাই প্রত্যাশা করে রোগব্যাধি থেকে নিরাপদ থাকতে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে রোগমুক্ত জীবন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।আর এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য হলো মাছ কিংবা সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য।মাছের খাদ্যমান খুবই উন্নত পর্যায়ের।সপ্তাহে অন্তত দুই তিনবার মাছ বা মাছজাতীয় সামুদ্রিক খাদ্য খাবার খাওয়া প্রয়োজন। বহুরকমের রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকতে এগুলো সাহায্য করে। এ নিয়ে আমরা আরও কথা বলার চেষ্টা করবো আজকের আসরে। আপনারা আমাদের সঙ্গেই আছেন যথারীতি এ প্রত্যাশা রইলো।

গবেষণায় প্রমাণিত যে মাছ কিংবা মাছের মতো জলজ খাদ্যে ওমেগা-থ্রি নামে ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় আমাদের রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল মানে এলডিএল কমাতে সাহায্য করে। এমনকি টেরিগ্লিসারাইড কমানোর ক্ষেত্রে ওমেগা-থ্রির প্রভাব বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের চর্বি কমাতেও মাছের গুরুত্ব অপরিসীম। সুতরাং শরীরের ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এবং রক্তচাপ ভারসাম্যপূর্ণ করতে ওমেগা-থ্রি ভালো কাজ করে। তাই আমাদের সাপ্তাহিক খাদ্যতালিকায় অবশ্যই মাছ রাখা জরুরি। ফিনল্যান্ডের কোপিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী সপ্তায় অন্তত দুই থেকে তিন দিন মাছ খেলে ডিফ্রেশন,আত্মবিনাশী চিন্তাভাবনা কমে যায়।

জাপানিরা ১৭ বছরে দুই লাখ পঁয়ষট্টি হাজার লোকের ওপর এক গবেষণা চালায়। ওই গবেষণায় দেখা গেছে যারা দৈনিক মাছ খায় তাদের মাঝে আত্মহত্যার প্রবণতা অন্যদের তুলনায় কম। মাছের আরও অনেক খনিজ গুণ রয়েছে। যেহেতু চর্বি কমায় মাছ এবং খারাপ কোলেস্টেরলও কমায় সেজন্য হৃদরোগসহ ব্লকেজ কিংবা ব্রেইন স্ট্রোক কমাতেও সাহায্য করে। মাছসহ জলজ খাদ্যে ভিটামিন ই, এ, বি, ডি এবং কে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। খনিজ উপাদান যেমন ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, আয়রন, সেলেনিয়াম, মেনজিয়ামসহ আরও বহু রকমের খনিজ উপাদানে ভরা মাছের মাংস। মানব দেহের সুস্থতার ক্ষেত্রে এগুলোর প্রভাব অনস্বীকার্য। মাছের মানব স্বাস্থ্যের জন্য মাছের আরও বহু উপকারিতা রয়েছে। যেমন, মাছ আমাদের শরীরের বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করে।

মাছের উপকারিতা নিয়ে কথা বলছিলাম। মানব শরীরের বৃদ্ধির জন্য প্রাণীজ প্রোটিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ,কোষ,কলা,ঝিল্লি ও পেশীর সঠিক বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন ও এমাইনো এসিড প্রয়োজন। মাছে উচ্চ মাত্রার প্রোটিন ও প্রায় সকল ধরনের এমাইনো এসিড আছে। আগেও বলেছি মাছ আমাদের দেহের ওজন কমাতে সহায়তা করে। যারা ওজন কমাতে ডায়েট করছেন কিংবা ক্যালোরি গ্রহণ কমাতে চান তারা মাছকে আদর্শ খাবার হিসেবে বেছে নিতে পারেন। মাছ আমাদের হাড়ের গঠনে সাহায্য করে। মাছে ফসফরাস নামের খনিজ উপাদান আছে। এটি হাড়,নখ ও দাঁতের গঠনের জন্য অপরিহার্য । ফসফরাস এই অঙ্গ গুলোকে মজবুত ও টেকসই করে। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে ফলে অস্টিওপোরোসিস হতে পারে। ফসফরাস অস্টিওপোরোসিস এর বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে।

মাছ প্রোস্টেট ক্যান্সার নিবারণ করে। মাছে প্রচুর সেলেনিয়াম খনিজ উপাদান থাকায় প্রোস্টেট ক্যান্সার এর ঝুঁকি কমায়। সেলেনিয়াম এ এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করতে পারে। মাছ আমাদের হৃদপিণ্ডের সুস্থতা নিশ্চিত করে। মাছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড থাকে যা মানুষের কারডিওভাস্কুলার সিস্টেম থেকে কোলেস্টেরল ও ট্রাই গ্লিসারাইড লেভেলকে কমিয়ে আনে। ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও বিভিন্ন ক্রনিক অসুখ সৃষ্টিতে বাধা প্রদান করে। মাছের পটাশিয়াম রক্তচাপ কমিয়ে হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে। মাছ অকালবার্ধক্য রোধেও সহায়তা করে। মাছ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও থাইরয়েড গ্রন্থির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। মাছের সেলেনিয়াম শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি করে জীবাণুর ও টক্সিনের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়। যার ফলে শরীরের  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সেলেনিয়াম থাইরয়েড এর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। মাইগ্রিন,রিউম্যাটিজম,অ্যাজমাসহ আরও অনেক দূরারোগ্য রোগের উপশমে মাছ বেশ কার্যকর।     

হার্ভার্ড মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির ডাক্তাররাও মনে করেন যেসব মানুষ দ্বীপে বসবাস করে তারা মাছ খায় বেশি।এ কারণে তাদের মাঝে দূরারোগ্য সব রোগ-ব্যাধি খুবই কম লক্ষ্য করা যায়। তাই সাধারণ মানুষেরও উচিত বেশি বেশি মাছ খাওয়া কিংবা মাছের তেল ব্যবহার করা।যেসব নারী অন্তসত্ত্বা কিংবা বাচ্চাকে দুধ খাওয়ান তাদের জন্যও মাছ খাওয়া কেবল উত্তমই নয় বরং দুগ্ধপোষ্য শিশুর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মাছের ভূমিকা অনেক।এরফলে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের পাশাপাশি অন্তসত্ত্বা নারীর শরীরের ওজনও থাকবে ভারসাম্যপূর্ণ।

পুষ্টিবিজ্ঞানীরা মনে করেন যেসব মাছ দ্রুতগামী কিংবা বেশি বেশি আঁশযুক্ত সেসব মাছই বেশি উপকারী।মাছের মাংস খুব বেশি তেলে ভাজা ঠিক নয়। মাছ তরতাজা খাওয়া উত্তম। কোনোভাবেই বিশ্রি গন্ধযুক্ত মাছ খাওয়া ঠিক হবে না।মাছ সবচেয়ে ভালো হয় কাবাব করে খেলে।তেলে ভাজা মাছের তুলনায় কাবাব করা মাছ অনেক বেশি উপাদেয়। #

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/মো.আবুসাঈদ/  ১০

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন 

ট্যাগ

মন্তব্য