২০১৮-১১-১৭ ১৯:৪০ বাংলাদেশ সময়

মানুষের মৌলিক ও প্রাকৃতিক কিংবা বলা ভালো প্রবৃত্তিগত একটি প্রয়োজন ও চাহিদা হলো বিয়ে।

বিশ্বের বিভিন্ন সমাজে পরিবার গঠন ও বিয়ের বিষয়টির বিভিন্ন রকমের লক্ষ্য উদ্দেশ্য রয়েছে। ইসলামি বিধানে জীবনের সকল ক্ষেত্রেই এই বিয়ের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর অন্যতম হিসেবে ইসলামে বলা হয়েছে: বিয়ের উদ্দেশ্য হলো এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা যেখানে নারী ও পুরুষ প্রশান্তি অনুভব করতে পারে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনের সূরা রুমের একুশ নম্বর আয়াতে বিয়ের ব্যাপারে বলেছেন: "আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই জাতি থেকে সৃষ্টি করেছেন স্ত্রীগণকে,যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো এবং তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। অবশ্যই এর মধ্যে চিন্তাশীলদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে ।" বিশ্বব্যাপী আজ বেশিরভাগ তরুণ ও যুবক ক্রমশ ভ্রান্তির বেড়াজালে আটকে পড়ছে। এর কারণ হলো সময়মতো বিয়ে না করা। তরুণ ছেলে মেয়েরা জীবনের উত্থান –পতনের অনিশ্চয়তায় পড়ে যখন, তখন তাদের প্রয়োজন পড়ে একটা নিরাপদ আশ্রয়ের, নির্ভরযোগ্য কাউকে। এরকম পরিস্থিতিতে যে তাদের সর্বোত্তম সহযোগী ও সঙ্গী হতে পারে, সে হলো স্বামী অথবা স্ত্রী। তাই যথাসময়ে তারা বিয়ের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গী হতে পারে, হতে পারে মানসিক সুস্থতা, নিরাপত্তা ও প্রশান্তির মাধ্যম।

মানবিক সম্পর্ক, প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা, স্নেহ-মমতা, দয়া ইত্যাদি প্রকাশের শ্রেষ্ঠ ও প্রভাবশালী মাধ্যম হলো বিয়ে। মনোবিজ্ঞানীরা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনীয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে "ভালোবাসা"র কথা বলেছেন। বয়সের ধাপে ধাপে পর্বে পর্বে মানুষের ভালোবাসার প্রয়োজন পড়ে। অন্যরাও তাকে ভালোবাসুক, পছন্দ করুক, তার ওপর সদয় হোক-এ বিষয়টি সকলেই প্রত্যাশা করে। এই ভালোবাসা গভীর হলে প্রেমে পরিণত হয় এবং গভীর মানসিক সম্পর্ক সৃষ্টি হওয়ার মধ্য দিয়ে নারী-পুরুষ পরস্পরকে কাছে টেনে নেয়। এভাবে একটি পরিবারের পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রেমময়, আন্তরিক ও ভালোবাসার ডোরে উষ্ণ ও মায়াময়।

বিয়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ মঙ্গলজনক দিক হলো নারী ও পুরুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা। এটা যদি যথাযথভাবে এবং যথাসময়ে নিশ্চিত না হয় কিংবা তাহলে ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি সমাজ জীবনেও বিশৃঙ্ক্ষলা দেখা দিতে পারে। মনোদৈহিক চাহিদা পূরণের মধ্য দিয়ে এই সুস্থতা নিশ্চিত হয়। আর এই চাহিদা কেবল বিয়ের মধ্য দিয়েই নারী-পুরুষের জীবনে প্রশান্তি এনে দিতে পারে। বিয়ের ব্যাপক ইতিবাচক দিক রয়েছে। বিয়ের কল্যাণ এবং পরিবার গঠন মানে ব্যক্তির জীবনে চারিত্র্যিক সৌন্দর্য ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠিত হওয়া। বিয়ে মানেই হলো মানসিক সুস্থতা, প্রশান্তি এবং রহমত। বিয়ে একটি পরিবারকে সামাজিক ক্ষেত্রে অনন্য সাধারণ মর্যাদা ও মহিমা দেয়।

বিয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো নারী-পুরুষের জীবনের পূর্ণতা দেয়া এবং তাদের সার্বিক উন্নয়নে সাহায্য করা। কেননা বিয়ের মাধ্যমে গড়ে ওঠা পরিবারে অন্যরকম প্রেম ও ভালোবাসাময় পরিবেশ তৈরি হয়। আর সেই আন্তরিক পরিবেশে পারস্পরিক চিন্তা-চেতনা, সামাজিক উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ও নৈতিক উন্নয়ন নিয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ অন্যান্য সদস্যের মধ্যে পারস্পরিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নিজ নিজ মতামত প্রকাশের উন্মুক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। পারিবারিক ব্যবস্থায় প্রত্যেক সদস্যদের জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি, মতামত ও প্রজ্ঞার প্রভাবে পরিবারের অন্য সদস্যরাও প্রভাবিত হয়। সুতরাং পারিবারিক পরিবেশে নারী-পুরুষ তথা পরিবারের সকল সদস্যের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সেইসঙ্গে এক ধরনের দায়িত্ববোধ তৈরি হয় এবং সামাজিক উন্নয়নও নিশ্চিত হয়। এভাবে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব গঠন ও বিকাশের পথ সুগম হয়।

বিয়ের পারিবারিক ও সামাজিক কল্যাণ নিয়ে কথা বলছিলাম আমরা। বিয়ের মাধ্যমে আরেকটি বড় কাজ হয়। তা হলো প্রজন্মের ধারাবাহিকতা সুরক্ষিত হয়। সন্তান সন্ততি লাভ মানুষের চিরদিনের চাহিদা। এই সন্তানের জন্ম ও প্রজন্মের বিকাশ লাভের সামাজিক ও নৈতিক উপায় হলো বিয়ে। ইতিহাসের কাল পরিক্রমায় তাই দেখা গেছে সবসময়ই বিয়ে ও পরিবারের গঠনের ব্যাপারে ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সামাজিক নীতি-নৈতিকতা ও পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থেও বিয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। সামাজিক ও নৈতিক সুস্থতার ক্ষেত্রে বিয়ে খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখে।

রাসূলে খোদা (সা) বিয়েকে মানুষের অভ্যন্তরে নৈতিকতা ও চারিত্র্যিক সুষমা প্রতিষ্ঠার অন্যতম উপায় বলে উল্লেখ করে বলেছেন: 'অবিবাহিত নারী পুরুষকে বিয়ে করিয়ে দাও, কেননা বিয়ের মাধ্যমে আল্লাহ পাক তাদের চরিত্রকে সুন্দর ও মহিমান্বিত করবেন।'#

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/মো.আবুসাঈদ/  ১৭

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন 

ট্যাগ

মন্তব্য