২০১৮-১১-২৪ ১৮:১২ বাংলাদেশ সময়

আজকের আসরে আমরা কথা বলার চেষ্টা করবো পরিবারে পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্ব এবং তার ইতিবাচকতা নিয়ে।

বিশ্বব্যাপী আজ   একটি বিষয় বেশ ভাবিয়ে তোলার মতো। তা হলো বহু সমাজেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে পরিবারের ভিত কেমন যেন নড়বড়ে হয়ে উঠেছে। আগের সেই মজবুত ভিতটা যেন নেই আর। এমনকি তালাকের পরিমাণও এখন ভয়াবহ রকমে বেড়ে গেছে এবং প্রতিনিয়তই বাড়ছে।  

পরিবার বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থা তো একটি পরিবারকে বাইরে থেকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেয়ই, এর বাইরেও নৈতিক এবং আচরণগত সমস্যাও রয়েছে যা একটি পরিবারকে ভেতর থেকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। পরিবারের প্রতি ভালোবাসা কিংবা সম্পৃক্ততা ধীরে ধীরে কমে যায় এবং তার জায়গা দখল করে নেয় দু:খ, কষ্ট আর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা ও মমত্ববোধের পরিবর্তে বিচিত্র বিরক্তি ও কষ্ট জায়গা করে নেয়।

যে বিষয়গুলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কে চিড় ধরায় কিংবা হুমকির কারণ হয়ে ওঠে তার মধ্যে একটি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান নষ্ট হয়ে যাওয়া কিংবা মর্যাদাবোধ না থাকা। আকদ কিংবা বিয়ে হয়ে যাবার পর স্বামী-স্ত্রী হয়ে ওঠে পরস্পরের জন্য সবচেয়ে কাছের মানুষ। সেটা ভালোবাসার দিক থেকেই হোক কিংবা আত্মিক সম্পর্কের দিক থেকেই হোক। সন্দেহ নেই যে স্বামি-স্ত্রীর প্রতি পারস্পরিক দয়া, মমত্ববোধ এবং সম্মান অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। দু:খজনকভাবে আজকাল তরুণ দম্পতিদের অনেকের মধ্যেই এমন আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে যা থেকে বোঝা যায় স্বামি-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট হয়ে গেছে। স্বামি-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবন শুরু হবার খানিক পরেই তাদের মধ্যকার বন্ধুত্ব, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক সময় এমন সব শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করা হয় যা মোটেই শোভন নয়।

স্বামি-স্ত্রী একজন আরেকজনকে অন্যদের সামনেই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার চেষ্টা করে। একবারও চিন্তা করে দেখে না যে এই তাচ্ছিল্যপূর্ণ অভিব্যক্তি তার জীবনসাথীর অন্তরাত্মায় কী রকম নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। এই প্রতিক্রিয়ার পরিণতি কিন্তু প্রত্যাশিত নয় কারো জন্যেই। যেখানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক হবে দ্বিধাহীন বিশ্বাসের, নির্দ্বন্দ্ব ভালোবাসার, পরস্পরের প্রতি আস্থার সেখানে এ ধরনের তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণের ফলে প্রেম ভালোবাসাহীন পরিণতি ছাড়া আর কী ফল হতে পারে?

স্বামি স্ত্রীর মধ্যে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যপূর্ণ ভাষার ব্যবহার করলে কী পরিণতি হতে পারে সে ব্যাপারে বলছিলাম আমরা। এবার বিপরীতটা বলার চেষ্টা করি। এমনিতেই ভালোবাসার দাবি হচ্ছে পরস্পরকে শ্রদ্ধা করা, সম্মান করা। এই শ্রদ্ধা সম্মান উভয়ের প্রতি থাকলে স্বাভাবিকভাবেই দু'পক্ষের কথাবার্তায়, আচার-আচরণের ওপর তার প্রভাব পড়বে। সুতরাং পরস্পরের প্রতি মায়া-মমতা, প্রেম এবং ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। সব মিলিয়ে দাম্পত্য জীবনটা উপভোগ্য হয়ে উঠবে। তো কীভাবে স্বামী বা স্ত্রী পরস্পরকে শ্রদ্ধা করবে, সম্মান জানাবে? উত্তরটা হলো সুন্দর কথাবার্তা ও আচরণের মাধ্যমে।

এই আচরণ বা সুন্দর কথাবার্তা বলতে কী বোঝায়? তেমন কিছুই না। কথা বলার সময় পরস্পরকে শ্রদ্ধা করে সম্মান দিতে হবে।এমন কোনো কথা বলা যাবে না কিংবা এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করা ঠিক হবে না যার মাধ্যমে বোঝা যায় দোষ খোঁজার চেষ্টা হচ্ছে। কোনোভাবেই পরস্পরের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরে কথা বলা ঠিক নয়। তাতে বিশ্বাস ও আস্থা নষ্ট হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে সম্মান ও ভালোবাসা কমে যেতে থাকে।স্বামি-স্ত্রীকে হতে হবে পরস্পরের কথার উত্তম শ্রোতা। সবচেয়ে সুন্দর শব্দ প্রয়োগ করে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে।পরস্পরকে আদেশ নিষেধ করাটাও আন্তরিক সম্পর্কে চিড় ধরাতে পারে। সংসারে কেউ কারো সেবক নয় বরং পরস্পর পরস্পরের সহযোগী-এটা মাথায় রাখতে হবে।

সংসারে কেউ কারো সেবক নয় বরং পরস্পর পরস্পরের সহযোগী-এটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। ভুল-ত্রুটিগুলো উপেক্ষা করে পরস্পরের ভালো ও সুন্দর দিকগুলো তুলে ধরতে হবে।সকল ক্ষেত্রে এবং সবসময় পরস্পরের আবেগ বা মনের অবস্থাটাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সেটা পরিবারেই হোক কিংবা আত্মীয়-স্বজনের মাঝেই হোক।একইভাবে একজনের অনুপস্থিতিতে আরেকজন যেন অপরের কাছে স্বামী বা স্ত্রীর ভুল-ত্রুটি নিয়ে গল্প না করে। কোনোরকম গোপন বিষয় যেন ফাঁস করে না দেয়-সেটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।এটা খুব সহজেই স্বামী-স্ত্রীর সম্মানহানী ঘটায়। আর এটা চলতে থাকলে ভালোবাসার অপমৃত্যু ঘটে। মনে রাখতে হবে প্রতিটি মানুষেরই কোনো না কোনো দুর্বল দিক রয়েছে। সেটাকে বড় করে দেখলে সর্বনাশ হয়ে যাবে দাম্পত্য জীবনের।

সুতরাং স্বামি স্ত্রী যদি পরস্পরকে মূল্য দিয়ে,সম্মান দিয়ে কথা বলে, আচরণ করে, তাহলে কতোই না মঙ্গল। কোনো একটি দায়িত্ব পালন করলে কিংবা সহযোগিতা করলে পরস্পরের প্রশংসা করা উচিত। ধন্যবাদ দেওয়া হলে মনে করা হবে তার কাজের প্রশংসা করা হয়েছে এবং এর ফলে পারস্পরিক প্রীতি ও ভালোবাসা দৃঢ় হবে। পরস্পরের চিন্তা-চেতনা সম্পর্কে নিবীড়ভাবে জানার চেষ্টা করা ভালো। মানে হলো পরস্পরকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে চরম প্রতিকূল পরিবেশ পরিস্থিতিতেও কিংবা মতানৈক্যপূর্ণ অবস্থাতেও পরস্পরের সমালোচনা থেকে বিরত থাকার পথ সৃষ্টি হবে। আর সেটাই হবে ভালোবাসার নিদর্শন। রাসূল (সা) বলেছেন, যারাই বিয়ে করে তাদের উচিত পরস্পরকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করা।#

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/মো.আবুসাঈদ/   ২৪

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন 

ট্যাগ

মন্তব্য