২০১৯-০১-১২ ১৬:১৪ বাংলাদেশ সময়

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা:১২ জানুয়ারি শনিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম

  • ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের সম্পদের হিসাব জমা দেয়ার নির্দেশ মন্ত্রীর -দৈনিক ইত্তেফাক
  • এক সপ্তাহের মধ্যে চালের দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী-দৈনিক প্রথম আলো
  • ‘ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন নিয়ে বিদেশি প্রভুদের কাছে নালিশ করছে’-দৈনিক যুগান্তর
  • ‘আল্লামা শফি ইসলাম জানেন বলে মনে হচ্ছে না’-দৈনিক মানবজমিন
  • সংলাপের দাবি অযৌক্তিক : কাদের-দৈনিক নয়া দিগন্ত

ভারতের শিরোনাম:

  • বিজেপির রক্তচাপ বাড়িয়ে জোট ঘোষণা মায়াবতী, অখিলেশের-দৈনিক আনন্দবাজার
  • অপসারণে ক্ষোভ, ইস্তফা দিয়েই কেন্দ্রকে তোপ অলোক ভার্মার-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • চৌকিদার কাউকে ছাড়বে না, নাম না করে রাহুলকে নিশানা মোদির- দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। 

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

১. ভূমি অফিসের সবাইকে সম্পদের হিসাব দিতে হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। আমরা গত কয়েকদিন ধরে আরো কয়েকজন মন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ রকমের প্রশাসনিক কঠোরতার বিষয়ে বেশকিছু বক্তব্য শুনতে পেয়েছি। এসব বক্তব্য বা ঘোষণা কতটা বাস্তবায়ন হবে বলে আপনি মনে করেন?

২.  মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মাদ বলেছেন, আগামী গ্রীষ্মে তার দেশে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব প্যারা সুইমিং চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে ইসরাইলি ক্রীড়াবিদদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। তার এ সিদ্ধান্তকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:

সংলাপের দাবি অযৌক্তিক : কাদের-দৈনিক নয়া দিগন্ত

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের (ফাইল ফটো)

আওয়ামী লীগের সাধারণা সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে যে সংলাপের দাবি করা হয়েছে তা অযৌক্তিক ও হাস্যকর। শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ভোট নিয়ে কোন প্রশ্ন কিংবা বিতর্ক নেই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সরকার গঠনের আগেই শেখ হাসিনাকে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে- সেখানে নির্বাচন নিয়ে সংলাপের দাবি হাস্যকর। তিনি বলেন, নেতা-কর্মীদের চাঙা রাখতেই বিএনপির নেতারা মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে কোনও প্রশ্ন আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি, কাজেই নির্বাচন নিয়ে যারা আজকে অভিযোগ তোলেন তারা নির্বাচনে হেরে গেছেন বলেই এসব অভিযোগ তুলছেন, তাদের এই অভিযোগ ধোপে টেকে না। দেশে-বিদেশে এর কোনও স্বীকৃতি নেই, জনগণ খুব খুশি।

অচিরেই ধাক্কা খাবে সরকার: রিজভী-দৈনিক প্রথম আলো

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব  রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিরোধী দল, মত ও বিশ্বাসের মানুষেরা সরকারি সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত। সরকার মনে হচ্ছে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ৩০ ডিসেম্বর ভোটের আগের দিন অন্ধকার রাতে ভোট ডাকাতি ও ভোট হরিলুটের মতো অপকর্মটির জন্য অচিরেই সরকারকে বিশাল রাজনৈতিক ধাক্কা খেতে হবে।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, ৩০ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাজানো ডিজাইনে ভোট লোপাটের মহাধুমধাম এখন চলছে এই বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে। মহাভোজ উৎসবের মহাসমারোহ চলছে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে থানার পুলিশ স্টেশনগুলোয়। এভাবে অন্যান্য বাহিনীর ইউনিটেও চলছে ভোজের মচ্ছব। যে দল ভোটে বিজয়ী হয়, সাধারণত তাদের কর্মীরাই উৎসব, ভোজ ইত্যাদিতে মেতে থাকে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি রাজনৈতিক দলের তথাকথিত বিজয়ে উৎসব উদ্‌যাপন করে, এটা শুধু নজিরবিহীন ও হাস্যকরই নয়, হতবাক করা বিস্ময়ও বটে। এটি গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে তামাশার বিকৃত প্রকাশ।

আ.লীগের জয় ও বিএনপির পরাজয় নিয়ে জয়ের ব্যাখ্যা-দৈনিক প্রথম আলো

Image Caption

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট তাদের বিদেশি প্রভুদের কাছে নালিশ করছে ও সাহায্য চাইছে। শনিবার তার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি একথা বলেছেন। স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেয়া হলো:

সাম্প্রতিক নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে বাংলাদেশের মানুষ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই তারা এখন তাদের বিদেশি প্রভুদের কাছে নালিশ করছে ও সাহায্য চাইছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ ও লবিং এর মাধ্যমে তারা প্রমাণ করতে চাইছে যে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, যা পরিসংখ্যান মোতাবেক একেবারেই অসম্ভব। আওয়ামী লীগ বিএনপি থেকে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ বেশি ভোট পেয়েছে। এতো বড় ব্যবধানের জয় কখনোই কারচুপির মাধ্যমে আদায় করা সম্ভব না।

তারা বলছে ভয়ভীতির কথা, কিন্তু যদি আমরা ধরেও নেই আওয়ামী লীগের বাইরের সব ভোট বিএনপি-জামায়াত এর পক্ষেই যেত, তাহলেও ২ কোটি ২০ লাখ ভোটের ব্যবধান থাকতো বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে।

তারপরেও আমাদের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা কেউ কেউ বিএনপির এই আন্তর্জাতিক লবিং এর সাথে সমান তালে গলা মিলিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে। তাদের অভিযোগগুলোর উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি আমি নিজেও কিছু কথা বলতে চাই।

তাদের প্রথম অভিযোগ, ভোটার সংখ্যা ছিল অত্যাধিক, তার মানে ভুয়া ভোট দেওয়া হয়েছে। এবার ভোট দেওয়ার হার ছিল ৮০ শতাংশ, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ নয়। ২০০৮ সালের ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ অধীনে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার হার ছিল ৮৭ শতাংশ, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড। সেই নির্বাচনটিতেও আওয়ামী লীগ ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ব্যাপক ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। ২০০১ সালে ভোট দেওয়ার হার ছিল ৭৫.৬ শতাংশ আর ১৯৯৬ সালে ছিল ৭৫ শতাংশ। ওই দুইটি নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোট দেওয়ার হার সামান্য বেশি ছিল কারণ এক দশকে এটাই ছিল প্রথম অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন।

বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

দ্বিতীয় অপপ্রচার হচ্ছে আওয়ামী লীগ নাকি এবার ৯০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এই কথাটি পুরোপুরি মিথ্যা। আওয়ামী লীগ ভোট পেয়েছে ৭২ শতাংশ। মহাজোটের অন্যান্য শরিকরা পেয়েছে ৫ শতাংশের কম ভোট। এই ৭২ শতাংশও আওয়ামী লীগের এর জন্য সর্বোচ্চ না। কারণ ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৭৩.২ শতাংশ ভোট। সেইবার যেমন স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ বিশাল বিজয় পেয়েছিল, এবারের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের ভোট বাড়ার পেছনে আছে দুইটি সুনির্দিষ্ট কারণ।

প্রথম কারণটি খুবই পরিষ্কার। আওয়ামী লীগ আমলে মানুষের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে যেকোনও সময়ের থেকে বেশি। আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হয়েছি, মাথাপিছু আয় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে, দারিদ্রের হার অর্ধেক করা হয়েছে, মোটামুটি সবাই এখন শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে ইত্যাদি। বাংলাদেশের মানুষের জন্য যে উন্নয়ন আওয়ামী লীগ সরকার করেছে তা এখন দৃশ্যমান।

আমাদের সুশীল সমাজ সবসময়ই বলার চেষ্টা করে বাংলাদেশের ভোটাররা নাকি পরিবর্তন চায়। এইসব ঢালাও কথাবার্তা, যার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এ থেকেই বোঝা যায় আসলে তারা কতটা জনসম্পৃক্ততাহীন। আপনি যদি একজন সাধারণ মানুষ হন, এমনকি ধনী ব্যবসায়ীও হন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশের অর্থনীতি যেই হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার সুফল আপনিও পাচ্ছেন। কেউ কেন এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিতে চাইবে যাদের আমলে তার জীবন বা ব্যবসার উন্নতি ঘটেছে?

দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে আমাদের নির্বাচনি প্রচার কিন্তু গত বছর শুরু হয়নি। আমরা ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে আমাদের প্রচারণা শুরু করে দিয়েছিলাম। জনগণের কাছে আমাদের উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কোনও সুযোগই হাতছাড়া করিনি।

তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, আমরা তাদেরকে বুঝিয়েছি যা উন্নয়ন ও অগ্রগতি হচ্ছে তা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণেই হচ্ছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক যত উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে তার পেছনে আছে আমাদের দলের ভিশন, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিশ্রম। যার কৃতিত্ব আমাদের দলীয় মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, কাউন্সিলরসহ সবার। যখন আমাদের বিরোধীপক্ষ ও সুশীল সমাজ ব্যস্ত ছিল সমস্যা ও নালিশ নিয়ে, আমরা ব্যস্ত ছিলাম জনগণকে সমস্যার সমাধান দিতে।

সুশীল সমাজের একটি বড় অপপ্রচার হচ্ছে নতুন ভোটাররা রাজনৈতিক দল নিয়ে মাথা ঘামায় না ও তাদের বেশিরভাগই নাকি পরিবর্তন চায়। তারা বুঝতে পারেনি যে এই নতুন ভোটাররা আমাদের আমলের উন্নয়নের মধ্যে বড় হয়েছে যা তাদের জীবনকে করেছে আরও সহজ ও উন্নত। তারা কেন আমাদের ভোট দেবে না?

২০১৩ সাল থেকেই আওয়ামী লীগের জন্য আমি জনমত জরিপ করাই। আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন যে এবার কিন্তু সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে কোনও জরিপ আসেনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে কিন্তু তারা ঠিকই একের পর এক জরিপ প্রকাশ করছিল দেখানোর জন্য আওয়ামী লীগের অবস্থা কত খারাপ। আসলে বাংলাদেশে খুব কম ব্যক্তি বা সংগঠনই সঠিকভাবে জনমত জরিপ করতে পারে।

হার্ভার্ডে থাকতে আমি জনমত জরিপের ওপর পড়াশুনা করি। জরিপ করতে আমরা যাদের ব্যবহার করি তাদের বাছাই করার আগে আমি নিজে একাধিক গবেষণা সংগঠনের সঙ্গে বসে আলাপ করি। ভুয়া জরিপ করে নিজেদের জনপ্রিয়তা দেখানোর কাজ আমরা করি না, কারণ আমাদের জন্যই সঠিক তথ্যটি পাওয়া খুবই জরুরি। আমরা জানতে চেষ্টা করি নির্বাচনি লড়াইয়ে আমাদের অবস্থান ও সক্ষমতা, তাই জরিপের ব্যাপারে আমরা খুবই সতর্ক থাকি।

বাংলাদেশ আওযামী লীগ

 

নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে আমাদের জরিপ থেকে আমরা জানতে পারি, আওয়ামী লীগ পাবে ৫৭-৬৩ শতাংশ ভোট আর বিএনপি পাবে ১৯-২৫ শতাংশ ভোট। তাহলে আমরা ৭২ শতাংশ ভোট কীভাবে পেলাম? আমাদের জরিপের জন্য স্যাম্পল নেওয়া হয় ৩০০ আসন থেকে, অর্থাৎ ১০ কোটি ৪০ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে থেকে। কিন্তু ভোট দেওয়ার হার কখনোই ১০০ শতাংশ হয় না আর ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হয়েছিল ২৯৮টি আসনে। ২৯৮টি আসনে ১০ কোটি ৩৫ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ৮০ শতাংশ ভোট দিয়েছেন, অর্থাৎ ৮ কোটি ২৮ লাখ। আওয়ামী লীগ পেয়েছে প্রায় ৬ কোটি ভোট। ১০ কোটি ৩৫ লাখ ভোটারের মধ্যে ৬ কোটি মানে ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ, আমাদের জরিপের সঙ্গে এই বিষয়টি মিলে যায়।

কিন্তু বিএনপি-ঐক্য ফ্রন্ট কেন এত কম ভোট পেলো? কিছু যৌক্তিক কারণে। বিএনপির চেয়ারপারসন দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত হয়ে জেলে আছেন। তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনও দণ্ডিত আসামি, আছেন দেশের বাইরে পালিয়ে। তাদের সংগঠনের অবস্থা করুন। তার থেকেও বড় আরেকটি কারণ আছে যা আমাদের সুশীল সমাজ সহজে বলতে চায় না। যেই কারণটি বিএনপির জনপ্রিয়তায় ধসের পেছনে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর বলে আমি মনে করি।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের সম্পদের হিসাব জমা দেয়ার নির্দেশ মন্ত্রীর-দৈনিক মানবজমিন

ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজস্ব সম্পদের বিবরণ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। আজ দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে বঙ্গবন্ধু হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। 

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সততার পুরস্কার হিসেবে আমাকে মন্ত্রী করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতিদান দিতে ভূমি মন্ত্রণালয়কে আমি যে কোনো মূল্যে দুর্নীতিমুক্ত করবো। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী বলেন, এ জন্য আগামী ২৮শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজস্ব সম্পদের বিবরণ জমা দিতে এখন আমি আপনাদের মাধ্যমে মৌখিকভাবে নির্দেশনা দিচ্ছি। মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার পর তাদের সবাইকে লিখিতভাবে নির্দেশনা দেয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা থেকে শুরু করে একদম ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নেবো। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্যদিয়ে আমি এই মন্ত্রণালয়কে শীর্ষ ৫ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নিয়ে আসবো।

এক সপ্তাহের মধ্যে চালের দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী-দৈনিক প্রথম আলো

এক সপ্তাহ মধ্যে চালের দাম কমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। শুক্রবার দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি চালের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে দুই-তিন দিনের জন্য পরিবহন ঘাটতি ছিল উল্লেখ করে টিপু মুনশি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চলের দাম কমে আসবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বৃহস্পতিবার মিল মালিক ও ধান ব্যবসায়ীসহ অন্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা কথা দিয়েছেন যে, সপ্তাহ খানেকের মধ্যে চালের দাম কমে আসবে।

অতিরিক্ত ফি নিলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ভর্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি আদায় নিয়মবহির্ভূত কাজ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া, শিশুদের স্কুলমুখী করা এবং ঝরে পড়া রোধসহ শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। শুক্রবার চাঁদপুর সদর উপজেলায় নির্বাচন পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তিনি এ সব কথা বলেন।

দীপু মনি বলেন, বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপনসহ যেসব সাফল্য রয়েছে, সেসব সাফল্য এগিয়ে নিতে আগামী পাঁচ বছরে এ ধারা অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া অন্য যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা মোকাবিলা করা হবে।

‘আল্লামা শফি ইসলাম জানেন বলে মনে হচ্ছে না’-দৈনিক মানবজমিন

মেয়েদের স্কুল-কলেজে না পড়াতে এবং পড়ালেও সর্বোচ্চ ক্লাস ফোর বা ফাইভ পর্যন্ত পড়ানোর জন্য গতকাল এক মাহফিলে হেফাজত ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর উপস্থিত মুসল্লীদের ওয়াদা করানোর প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘আল্লামা শফি ইসলাম জানেন বলে মনে হচ্ছে না। কারণ হাদীসে আছে, প্রত্যেক মুসলমান নর নারীর জন্য জ্ঞান অর্জন ফরজ। বলা আছে তলাবুল এলমা ফরিদাতুন আলা কুল্লি মুসলেমিন ওয়া মুসলেমাতিন।’

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

‘বিজেপির রক্তচাপ বাড়িয়ে জোট ঘোষণা মায়াবতী, অখিলেশের-দৈনিক আনন্দবাজার

এ বার লোকসভা ভোটে ‘গুরু’ আর ‘চেলা’র ঘুম একই সঙ্গে ছুটিয়ে দেবেন বলে জানালেন বহুজন সমাজ পার্টি (বসপা) নেত্রী মায়াবতী। আসন্ন লোকসভা ভোটে উত্তরপ্রদেশে ‘চিরশত্রু’ সমাজবাদী পার্টি (সপা)-র সঙ্গে জোট গড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে শনিবার মায়াবতী বলেন, ‘‘গুরু নরেন্দ্র মোদী আর চেলা অমিত শাহের ঘুম ছোটাতেই আমরা এই ঐতিহাসিক ঘোষণা করলাম। ১৯৯৩ সালে উত্তরপ্রদেশে জোট বেঁধেছিল সপা এবং বসপা। তখন উত্তরপ্রদেশে সরকার গড়েছিল এই জোট। সেই জোটের নেতৃত্বে ছিলেন কাঁসিরাম ও মুলায়ম সিংহ যাদব। এ বার আমরা যে জোট গড়লাম, তা মোদী-শাহের ঘুম ছোটাবে। কারণ, এই জোট সমাজের গরিষ্ঠ অংশের মানুষের জোট। উত্তরপ্রদেশের দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের জোট।’’ পরে সপা নেতা অখিলেশ যাদব বলেন, ‘‘মায়াবতীর অসম্মান মানেই আমার অসম্মান।’ তবে আসন্ন লোকসভা ভোটে মায়াবতী ও অখিলেশের জোট বাঁধার বিষয়টিকে এ দিন গুরুত্ব দিতে রাজি হননি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেছেন, ‘‘তা সে কোনও জোটই হোক বা মহাজোট, ২০১৪ সালের চেয়েও এ বার ভাল করবে বিজেপি।

অপসারণে ক্ষোভ, ইস্তফা দিয়েই কেন্দ্রকে তোপ অলোক ভার্মার-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

সিবিআই প্রধান থেকে দমকলের ডিজি, হোমগার্ড। সিবিআই প্রধান থেকে অপসারিত করা হয় তাঁকে। এবার ইস্তফা দিলেন অলোক ভার্মা। নতুন দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিলেন তিনি। ইস্তফা দিয়েই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন প্রাক্তন সিবিআই প্রধান। জানালেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অপসারণ করা হয়েছে তাঁকে। এদিকে মইন কুরেশি দুর্নীতি তদন্তে ঘুষ কাণ্ডে গ্রেপ্তার হতে পারেন রাকেশ আস্তানা। বিপাকে সিবিআইয়ের স্পেশ্যাল ডিরেক্টর।

১৯৭৯ সালের আইপিএস ব্যাচ ছিলেন অলোক ভার্মা। সিবিআইয়ের স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্তানাকে প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এরপরই সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন অলোক ভার্মা। এ কে সিকরির এজলাশে সিবিআই প্রধান পদে ভার্মাকে ফেরানোর নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিটির একটি বৈঠক ডাকা হয়। সেই বৈঠকে সভাপতি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বৈঠক থেকে ঠিক হয়, ফের অপসারণ করা হবে অলোক ভার্মাকে। সেই মতো দমকলের ডিজি ও হোমগার্ডের দায়িত্বে পাঠানো হয় অলোক ভার্মাকে। ৩১ জানুয়ারি ছিল অবসর। তার আগে এদিনই পদত্যাগ করলেন তিনি।

এই অপসারণের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি প্রাক্তন সিবিআই প্রধান। এদিন রাজনাথ সিংয়ের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি। ইস্তফা দেওয়ার সময় প্রাক্তন সিবিআই প্রধান বলেন, “গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গোটা বিষয় বদলে ফেলা হয়েছে। সিবিআই ডিরেক্টরের পদ থেকে সরাতেই এই কাজ করা হয়েছে।” এদিকে দিল্লি আদালতের নির্দেশে অস্বস্তিতে সিবিআইয়ের স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্তানা। আস্তানা ও অন্য যারা এই ঘুষ কাণ্ডে জড়িত, ১০ সপ্তাহের মধ্যে সিবিআইকে এই বিষয়ে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল আদালত। মইন কুরেশি দুর্নীতি তদন্তে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ছিল আস্তানার বিরুদ্ধে। ফোনের কথোপকথন এবং হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজও পাওয়া যায়। হায়দরাবাদের ব্যবসায়ী সতীশ কুমার রানা, রাকেশ আস্তানার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনেন।

চৌকিদার কাউকে ছাড়বে না, নাম না করে রাহুলকে নিশানা মোদির- দৈনিক আজকাল

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী

বিজেপির কনভেনশনে বলতে গিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন নরেন্দ্র মোদি। কংগ্রেসের দুর্নীতিকে কটাক্ষ করে মোদি বলেছেন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল হলে দেশের অবস্থা এরকম হত না। এমনকী অটলবিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী থেকে গেলেও এই অবস্থায় পৌঁছত না দেশ।  স্বাধীনতার পর থেকে ৬০ বছর দেশ শাসন করেছেন কংগ্রেস। আর এই ষাট বছরে দুর্নীতি ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি। বিজেপি সরকার দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে কেলেঙ্কারি ছাড়া কাজ করা যায়। বিজেপি সরকারের গায়ে কোনও কেলেঙ্কারির দাগ নেই। উচ্চবর্ণের ১০ শতাংশ সংরক্ষণ নিয়ে যাঁরা অযথা রাজনীতি করছেন তাঁরা বুঝতে পেরেছেন বিজেপি কী ঐতিহাসিক কাজ করেছে। 

বিরোধীরা নড়বড়ে সরকার চায়। দেশ চায় মজবুত সরকার। মহাজোটর নামে দেশবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। অযোধ্যা মামলায় বাধা দিচ্ছে কংগ্রেস। কারণ তাঁরা জানে এই মামলার রায়দান হয়ে গেলে মানুষ তাঁদের বিপক্ষে চলে যাবে। নাগরিক সংশোধনী বিল আনতে চাইলে বিরোধিতা করা হচ্ছে। সরকারের সবরকম কাজে বাধা তৈরি করা কংগ্রেসের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মোদি। এঁরা একজনকে হারাতে উঠে পড়ে লেগেছে। কিন্তু বিজেপিকে কোনওভাবেই হারানো যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। 

কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে চৌকিদার বলেছেন একাধিকবার। রাহুলের সেই কটাক্ষের জবাবে এদিনে মোদি বলেন, চোর দেশে থাকুক বা বিদেশে এই চৌকিদার কাউকে ছাড়বে না। রাফালে বিমান দুর্নীতির অভিযোগের পাল্টা আক্রমণ করে মোদি বলেন এর আগের সরকার কপ্টার কেনা নিয়ে দুর্নীতি করেছে। 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি মোদি। কেন্দ্রের বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্পকে রাজনৈতিক স্বার্থে বিদ্রুপ করা হচ্ছে বলে মমতাকে আক্রমণ করেছেন তিনি। কেন্দ্রের এই প্রকল্প চালুর অনেক আগেই রাজ্যে কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। #

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১২


 

ট্যাগ

মন্তব্য