২০১৯-০২-১০ ১৭:৩৫ বাংলাদেশ সময়

রংধনু আসরের কাছের ও দূরের শিশু-কিশোর বন্ধুরা, আজকের আসরের শুরুতেই রয়েছে এক ধার্মিক স্বর্ণকারের গল্প। গল্পের পর থাকবে কয়েকটি কৌতুক। আর সবশেষে থাকবে একটি গান। আমাদের আজকের অনুষ্ঠানটিও তৈরি করেছেন আশরাফুর রহমান। তো প্রথমেই গল্পটি শোনা যাক।

এক শহরে বাস করতো এক স্বর্ণকার। লোকটা ছিল বেশ ধার্মিক ও সৎ। প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই সে তার কাজে চলে যেত। তার দোকান ছিল বাদশার প্রাসাদের সামনে। দোকান খোলার আগে প্রতিদিন ওই স্বর্ণকার আকাশের দিকে দু’হাত তুলে মোনাজাত করে বলত: ‘হে মহাজ্ঞানী, রিযিকদাতা! হে ক্ষমাকারী! তুমি তো অসীম ক্ষমতার অধিকারী! সকল কিছুর ওপরে তুমি সর্বশক্তিমান। সমুদ্রের তলায়ও যদি কোনো কিছু পড়ে তুমি তাকে শুষ্ক অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়ার শক্তি রাখো!’

স্বর্ণকার প্রতিদিন এই দোয়া করে দোকানের দরোজা খুলত। বাদশার প্রাসাদ যেহেতু কাছেই ছিল সে কারণে স্বর্ণকারের দোয়ার শব্দে বাদশার মজার ঘুম ভেঙে যেত প্রতিদিন, কেননা প্রাসাদের জানালা খোলাই থাকতো। একদিন বাদশার ঘুম ভাঙতেই বাদশা রেগেমেগে চিৎকার করে বলল: কে এই লোক প্রতিদিন সকালবেলা আমার আরামের ঘুম হারাম করে দেয় আর ভেঙে দেয় চমৎকার স্বপ্ন?

বাদশা তার এক চাকরকে ডেকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারল যে এটা এক স্বর্ণকারের কাজ। আর তার দোকান হচ্ছে প্রাসাদের সামনে। এ কারণে ওই স্বর্ণকারকে ‘উচিত’ শিক্ষা দেওয়ার চিন্তা করল বাদশা। উজিরকে ডেকে একটা হীরার আংটি নিল এবং প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে দুজনেই স্বর্ণকারের দোকানের দিকে পা বাড়াল। স্বর্ণকার বাদশাকে তার দোকানের সামনে দেখে থ’ মেরে গেল। বাদশা মূল্যবান ওই আংটিটা স্বর্ণকারকে দেখিয়ে বলল: ‘এই আংটিতে একটা ইয়াকুত পাথর বা রুবি আছে যার দাম কয়েক হাজার স্বর্ণমুদ্রা। আমি খুব ভয় পাচ্ছি এই মূল্যবান পাথরটি হারিয়ে না যায়। সে কারণেই তোমার কাছে এলাম। তুমি রঙিন একটা কাঁচ দিয়ে হুবহু এই রুবি পাথরের মতো আরেকটি পাথর বানাবে। আমি ওই নকল আংটিটাই সবসময় পরব। আর বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানাদিতে আসল রুবির আংটিটা পরব। তুমি আংটিটা না, তবে সাবধানে রেখো কিন্তু।

স্বর্ণকার আংটিটা নিল এবং ছোট্ট একটা বাক্সে ঢুকিয়ে সিন্দুকের ভেতরে রাখল এবং সিন্দুকের দরোজা বন্ধ করে দিল। এসময় বাদশা স্বর্ণকারের কাছে এক গ্লাস পানি চাইল। স্বর্ণকার তাড়াতাড়ি করে চলে গেল বাদশার জন্য পানি আনতে। বাদশা এই ফাঁকে সিন্দুকের দরোজা খুলে আংটিটা পকেটে ঢুকিয়ে নিল। স্বর্ণকারও এসে পৌঁছল পানি নিয়ে। বাদশাকে পানি দিল। পানি খেয়ে বাদশা স্বর্ণকারকে বলল: আমি যাবার আগেই সিন্দুকের দরোজাটা ভালো বন্ধ করো। আর শোনো, তোমাকে তিন দিন সময় দেওয়া হলো। তিনদিনের মধ্যে আমার আংটি চাই। চতুর্থ দিন সকালে নকল আংটি আর আসল আংটি একসাথে তোমার কাছ থেকে বুঝে নেব। সাবধান। আবারো বলছি সাবধান! আমার আংটি হারালে কিন্তু তোমার গর্দান যাবে।’

এই বলে বাদশা উজিরসহ সেখান থেকে চলে গেল সমুদ্রের দিকে।  সমুদ্রের পাড়ে গিয়ে একটা নৌকায় চড়ল। নৌকা সমুদ্রের তীর থেকে বেশ খানিকটা দূরে যাবার পর বাদশা তার আসল আংটিটা পানিতে ফেলে দিল। এরপর নৌকা তীরে ভিড়িয়ে বাদশা এবং তার উজির ফিরে গেল প্রাসাদে।

এদিকে, স্বর্ণকার তার দোকান বন্ধ করে বাসায় ফিরে গিয়ে তার স্ত্রীকে পুরো ঘটনা খুলে বলল। স্ত্রী তাকে বলল: ‘তাড়াতাড়ি দোকানে ফিরে যাও! নকল আংটি বানানোর আগে এভাবে বাদশার আংটি সিন্দুকে রেখে আসা ঠিক না। বাদশা না বলল...ওই আংটি হারালে তোমার গর্দান যাবে? তাড়াতাড়ি ফিরে যাও! এক মুহূর্তের জন্যও বাদশার আংটি থেকে আলাদা হবে না’।

স্বর্ণকার বৌয়ের কথা শুনে তাড়াতাড়ি ফিরে গেল দোকানে। সিন্দুকের দরোজা খুলে ছোট্ট বাক্সটা বের করে আনল। খুলে দেখলো বাক্স খালি, কিছুই নেই ভেতরে। স্বর্ণকার আশ্চর্য হয়ে গেল। কোথায় গেল আংটি! কিভাবে গেল!

তক্ষুণি স্বর্ণকারের বৌ স্বামীর জন্য খাবার নিয়ে এলো দোকানে। এসে দেখে স্বর্ণকার ভীষণ উদ্বিগ্ন। স্বর্ণকার বৌকে বলল আংটি নেই সিন্দুকে। বৌ নিজ গালে চড় মেরে কান্নাকাটি হা হুতাশ করে সারাটা দিন স্বামীর সাথে আংটি খুঁজে বেড়ালো কিন্তু কোনো কাজ হলো না। এভাবে তিন দিন চলে গেল। ওই তিনদিন বাদশা স্বর্ণকারের দোয়াও শোনেনি, বাদশার ঘুমেরও ডিস্টার্ব হয় নি। বাদশা তার উজিরকে ডেকে বলল: আমার প্লানটা কাজে লেগেছে। স্বর্ণকার আর সকাল সকাল আমার ঘুম ভাঙাতে আসে না।

কিন্তু চতুর্থ দিন সকালে আগের মতোই বাদশার ঘুম ভাঙলো স্বর্ণকারের দু’হাত তোলা দোয়ার শব্দে। বাদশা রেগেমেগে স্বর্ণকারের দোকানে গেল। তার সাথে তলোয়ার হাতে তার এক সেপাইও গেল। বাদশা গিয়ে দেখে স্বর্ণকার বেশ হাসিখুশি। বাদশার রাগ চড়ায় উঠে গেল এ অবস্থা দেখে। স্বর্ণকারকে বলল: তিন দিন শেষ হয়ে গেছে। আংটি দুটো দাও নৈলে তোমার গর্দান যাবে।

স্বর্ণকার অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে সিন্দুকের দরোজা খুলে বাক্সটা বের করে বাদশার হাতে দুটি আংটিই বুঝিয়ে দিল। বাদশা আশ্চর্য হয়ে বলল: অসম্ভব! অবিশ্বাস্য! কী করে এই আংটি পেলে তুমি? আমি নিজে যে আংটিটা সমুদ্রে ফেলে দিলাম তুমি কী করে ঠিক সেরকম আংটি তৈরি করলে?

বাদশার প্রশ্ন শুনে ঘাবড়ে না গিয়ে স্বর্ণকার বলল: আমি এবং আমার বৌ যখন আংটি পাবার ব্যাপারে হতাশ হয়ে পড়লাম, দোকানে যেতে পারলাম না, ঘরেই বসে থাকলাম। খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। আমার বৌ বাজারে গিয়ে একটা বড় মাছ কিনে আনল। মাছের পেটের ভেতর তোমার সেই মহামূল্যবান আংটিটা পাওয়া গেল। আমি দেখেই চিনে ফেললাম এটা বাদশার সেই আংটিটাই। তাড়াতাড়ি আংটিটা নিয়ে দোকানে গিয়ে কাজ শুরু করে দিলাম। ব্যস! তুমি যেরকম চেয়েছিলে সেরকম আংটি বানিয়ে ফেললাম। কাজ শেষ হবার পর আমি আবার সেই দোয়াটি পড়লাম যে দোয়াটি তুমি শোনো প্রতিদিন।

বাদশার বিশ্বাসই হচ্ছিল না। দু’হাত বাড়িয়ে স্বর্ণকারকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বলল: সুবহান আল্লাহ! তুমি আসলেই এক নেককার বান্দা! আমি তোমাকে বিপদে ফেলার জন্য যা যা করেছি সেসবের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি।

এরপর বাদশা তাড়াতাড়ি তার সেপাইকে বলল স্বর্ণকারের জন্য বিরাট একটা থলি ভর্তি করে দিনার নিয়ে আসতে। সেপাই তাই করল। বাদশা সেগুলো স্বর্ণকারকে দিয়ে বলল: আজ থেকে প্রতিদিন সকালে তুমি খালেস দোয়ার মধ্য দিয়ে আমাকে জাগাবে। দোয়া করবে: ‘হে মহাজ্ঞানী, রিযিকদাতা! হে ক্ষমাকারী! তুমি তো অসীম ক্ষমতার অধিকারী! সকল কিছুর ওপরে তুমি সর্বশক্তিমান। সমুদ্রের তলায়ও যদি কোনো কিছু পড়ে তুমি তাকে শুষ্ক অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়ার শক্তি রাখো!’

কয়েকটি কৌতুক

১.

পিঁপড়াগুলো লাইন বেঁধে একটি হাঁড়ির দিকে ছুটছে। একটি পিঁপড়া আরেকটি পিঁপড়াকে জিজ্ঞাসা করছে—বল তো, আমরা মানুষের কী উপকার করি?

দ্বিতীয় পিঁপড়া বলল: মায়েরা মিষ্টির হাঁড়ি কোথায় লুকিয়ে রেখেছে, তা খুঁজে পেতে বাচ্চাদের সাহায্য করি।

২.

দুই বন্ধু কথা বলছে। প্রথম বন্ধু: মানুষ একটা আজব যন্ত্র।

২য় বন্ধু: কেন রে?

প্রথম বন্ধু : আরে দেখ না, দিনে ২৪ ঘণ্টা মানুষের ব্রেন কাজ করে, বছরে ৩৬৫ দিন কাজ করে, জন্ম থেকে কাজ করে, কিন্তু পরীক্ষার হলে ঢোকার পর আর কাজ করে না।

৩.

ক্লাস ওয়ানের বল্টুকে শিক্ষকের প্রশ্ন—

শিক্ষক- বল তো বল্টু, সবচেয়ে হাসিখুশি প্রাণী কোনটি?

বল্টু- হাতি স্যার!

শিক্ষক- কেন?

বল্টু- দেখেন না স্যার, হাতি খুশিতে সব সময় দাঁত বের করে রাখে।

৪.

এক ছাত্র লাইব্রেরিতে গেল বই কিনতে। দোকানদার বলল: এ বই পড়লে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৫০ নম্বর তো পাবেই।

ছাত্র বলল: ঠিক আছে, তাহলে দুইখানা বই দিন।

৫.

এক রাজা শিকারে বের হওয়ার আগে মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, আজকের আবহাওয়া কেমন। পথে ঝড়-বৃষ্টি হবে না তো?

মন্ত্রী বললেন, না না, আজ ঝড়-বৃষ্টি হবে না। আবহাওয়া চমৎকার।

কিছুদূর যাওয়ার পরে এক ধোপার সঙ্গে দেখা। ধোপা বলল, রাজামশাই, বেশ তো চলেছেন, কিন্তু সামনে তো ঝড়-বৃষ্টি হবে।

ধোপার কথা না শুনে রাজা এগোলেন। ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়লেন। তখন তিনি ওই মন্ত্রীকে বরখাস্ত করে সেই পদে বসালেন ধোপাকে।

ধোপা বলল, রাজামশাই, আমি মন্ত্রী হবার যোগ্য নই। যখন ঝড়-বৃষ্টি হয়, তখন আমার গাধার কান নড়ে। আমার গাধার কান নড়া দেখে আমি বুঝেছিলাম আজ বৃষ্টি হবে। তাই মন্ত্রী বানালে আমার গাধাকে বানান।

রাজা তখন ধোপাকে বরখাস্ত করে গাধাটাকে মন্ত্রী বানালেন। তখন হলো আসল বিপদ। রাজ্যের সব গাধা এসে রাজাকে ঘিরে ধরল, আমরাও তো গাধা। আমাদেরও মন্ত্রী বানান।

৬.

একদিন এক লোক ঘোড়ার পিঠে চড়ে যাচ্ছে। শুনতে পেল, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে টাকার বিনিময়ে ডক্টরেট ডিগ্রি পাওয়া যায়। সে গেল। টাকা দিল। তাকে পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হলো।

সে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ফিরছে। তখন তার মনে হলো আমার ঘোড়াটার জন্যও তো একটা পিএইচডি ডিগ্রি দরকার। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে গেল। বলল, এই নিন টাকা। আমার ঘোড়াটাকেও একটা ডিগ্রি দিন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলল, আমরা শুধু গাধাকে পিএইচডি দিই। ঘোড়াকে দিই না।

বন্ধুরা, মজার কিছু কৌতুক শুনলে। এগুলো নিছক আনন্দ দেয়ার জন্য। আমরা প্রত্যাশা করি তোমরা লেখাপড়া শিখে ডক্টরেটসহ বড় বড় ডিগ্রি অর্জন করবে। পাশাপাশি আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজকে গড়ে তোলার জন্য কুরআনের জ্ঞানে, রাসূল (সা.) ও তাঁর বংশধরদের আদর্শ অনুসরণ করবে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১০

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন 

ট্যাগ

মন্তব্য