২০১৯-০২-১০ ১৭:৪৬ বাংলাদেশ সময়

ইরানের ইসলামী বিপ্লব আজ তার চল্লিশ বছর পূর্তির উৎসব পালন করছে। কিভাবে এই আধুনিক যুগেও একজন ধর্মীয় নেতার নেতৃত্বে ইসলামী গণ-শাসন ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হল তা আজও এক গভীর বিস্ময় এবং বাস্তব হলেও তা যেন এক মহা-অলৌকিক রূপকথার কাহিনীর মতই অবিশ্বাস্য! হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এ বিপ্লব সফল হয়েছিল যেসব কারণে সেসব কারণেই এ বিপ্লবের অদম্য অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে এবং তা চল্লিশ বছরের মাইল-ফলক অতিক্রম করে ইসলামী বিশ্ব-সভ্যতা গড়ার অভিমুখে এগিয়ে চলছে দূর্বার গতিতে।

না, ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনী (র) রূপকথার হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মত জাদুকর ছিলেন না! তাই তাঁর জাদুর বাঁশীতে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে একটি জাতির আপামর জনতা শহীদী ঈদগাহে লাখ লাখ জীবনকে কুরবানি দিয়ে আজও নানা ধরনের ত্যাগ ও কুরবানি অব্যাহত রেখেছে এমনটা মনে করা হবে মস্ত বড় ভুল।

ইসলামী বিপ্লবকে সফল করতে বীর ইরানি জাতি লক্ষাধিক প্রাণ কুরবানি দিয়েছে। এ ছাড়াও এই পবিত্র দেশ ও ইসলামী রাষ্ট্র রক্ষার পবিত্র যুদ্ধেও কুরবানি দিয়েছে লাখ লাখ জীবন। সাম্প্রতিক সময়ের সন্ত্রাস-বিরোধী লড়াইয়ে ও নবী-নাতনির পবিত্র মাজার রক্ষার সংগ্রামেও ইসলামী ইরান কুরবানি দিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার প্রাণ। ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সুবাদে শাহাদাতের সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়েছে লেবানন, ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনের মত দেশগুলোতেও।  

আসলে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের মহা-অলৌকিকতাতুল্য সাফল্যগুলোর মূল রহস্য হল আত্মত্যাগ ও শাহাদাতের সংস্কৃতি তথা তরবারির ওপর রক্তের এবং বস্তুবাদের ওপর আধ্যাত্মিকতার বিজয়ের মহান আদর্শ। মহান আল্লাহর মনোনীত সর্বশ্রেষ্ঠ খোদায়ী ধর্ম ইসলামের এই মহান আদর্শের মহানায়ক হলেন মহানবীর নাতি হযরত ইমাম হুসাইন (আ) এবং  স্বয়ং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) হলেন সমগ্র ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবাধগুলোর মহা-স্থপতি। আর হযরত ইমাম হুসাইনসহ মহানবীর পবিত্র আহলে বাইত হলেন শাহাদতের সংস্কৃতিও অন্য সব ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার অনন্য সংরক্ষক।

অন্য কথায় ইরানের ইসলামী বিপ্লব প্রায় ১৪০০ বছর ধরে চলে আসা খাঁটি মুহাম্মাদি ইসলামের ধারায় সূচিত সংগ্রামগুলোরই অনন্য ধারাবাহিকতার ফসল। আর যে বিপ্লবের ভিত্তিগুলো যত বেশি মজবুত সেই বিপ্লবের স্থায়ীত্বও হয় তত বেশি। আল্লাহু আকবার ও লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ-ভিত্তিক আদর্শের পুনরুজ্জীবন যে বিপ্লবের লক্ষ্য সেই বিপ্লব মাত্র ৪০ বছরেই বুড়িয়ে যায় না, ঝিমিয়ে পড়ে না।  বরং ৪০ বছর তার প্রাণবন্তু যৌবনের সূচনা মাত্র। তাই ইরানের ইসলামী বিপ্লবের ওপর পাশ্চাত্যের আরোপিত নানা নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ শাস্তি না হয়ে হয়েছে শাপেবর বা আশীর্বাদ। 

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের স্থপতি ও এর শীর্ষস্থানীয় নেতারা খাঁটি ইসলামী সভ্যতারই সৃষ্ট সাংস্কৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ফসল। ফলে ইসলামী বিপ্লবের রূপকার আয়াতুল্লাহ খোমেনীর সন্তানরা ও ইসলামী বিপ্লবের বর্তমান নেতা বা শীর্ষস্থানীয় অন্য নেতাদের সন্তান বা আত্মীয়-স্বজন পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেননি ও রাষ্ট্রীয় বিশেষ কোনো সুবিধা বা পদ দখল করেননি। রাস্ট্রীয় বড় পদে  তাদের দুই একজন আত্মীয়কে দেখা গেলেও তাতে তাদের নিয়োগ ঘটেছে যোগ্যতার কারণে আত্মীয়তার কারণে নয়।

ইরানের ইসলামী রাষ্ট্র ও  সংবিধান কোনো চাপিয়ে দেয়া বিষয় ছিল না। এক্ষেত্রে জনগণের অনুমোদনের জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল গণভোট। ইরানের প্রেসিডেন্ট ও সর্বোচ্চ নেতাও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। ইসলামী ইরানে প্রায়  প্রতি বছরই অনুষ্ঠিত হয়েছে গণ-প্রতিনিধি বেছে নেয়ার নির্বাচন। জাতীয় সংসদ, বিশেষজ্ঞ পরিষদ, পৌরসভা ও নগর-সভার সদস্য বা প্রতিনিধি বেছে নেয়ার জন্য অনুষ্ঠিত হয় এসব নির্বাচন।

অন্যদিকে মুসলিম বিশ্বের ওপর চেপে-বসা তাগুতি সরকারগুলো ইয়াজিদি স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ও পশ্চিমা বস্তুবাদী খোদাবিমুখ শিক্ষা ও খোদাদ্রোহী মতাদর্শেরই ফসল। তাই দেখা যায় পশ্চিম এশিয়াসহ বিশ্বের নানা অঞ্চলে শাহের মত স্বৈরতান্ত্রিক সরকার ও রাজা-বাদশাহরা আজও জনগণের সম্পদ নিয়ে ভোগ-বিলাস, আত্মসাৎ ও  বিজাতীয় ফেরাউনি মতাদর্শের সেবায় নিয়োজিত এবং শিমার ও ইয়াজিদদের মতই নৃশংসভাবে হত্যা করছে ন্যায়-পরায়ন আলেম ও নিরপরাধ প্রতিবাদী জনগণকে।

বিশ্বের নানা অঞ্চলের বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার  রাজতান্ত্রিক ও গণ-বিরোধী সরকারগুলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী সরকারগুলোর সেবাদাস হওয়ায় এসব দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, নারী-অধিকার ও বাক-স্বাধীনতার অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও তারা পাচ্ছে পশ্চিমাদের রাজনৈতিক ও সামরিক সহায়তা। এইসব দেশের সরকার অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য পশ্চিমাদের অস্ত্র বিক্রি ও লুটপাটের অনুচর হিসেবেই কাজ করে যাচ্ছে। তাই দেখা যায় ট্রাম্পের মত মার্কিন শাসক বলছেন, মার্কিন সহায়তা ছাড়া সৌদি সরকার কয়েক ঘণ্টার বেশি টিকে থাকতে পারবে না এবং এই সরকার হল আমাদের জন্য দুধ-দাতা গাভী! অথচ ইসলামী ইরান টিকে আছে ইসলাম, স্বাধীনতা ও জনগণের জাতীয় ঐক্যের সম্মিলিত শক্তির ওপর নির্ভর করে। 

ইরানের ইসলামী বিপ্লব বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করেছে প্রকৃত ও সংগ্রামী ইসলামের এবং ইসলামী রাষ্ট্রের যুগ-উপযোগী মডেল। অন্যদিকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ছত্রচ্ছায়ায় কিংবা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে বিশ্বে ইসলামের ও কথিত ইসলামী রাষ্ট্রের ভিন্ন মডেলও দেখা যায়। এসব মডেলের ইসলামী রাষ্ট্রের নেতারা হয় খুব বর্বর বা ধর্মান্ধ ও নৃশংস আচরণে অভ্যস্ত এবং ইসলামের প্রধান শত্রুদের ব্যাপারে আপোষকামী কিংবা প্রকাশ্যে বর্বর, ধর্মান্ধ ও নৃশংস না হলেও তাদের কথিত ইসলামী আচরণ বাস্তবে ধর্ম-নিরপেক্ষ শাসকদের মতই ইসলামী মূল্যবোধ-বর্জিত ও ইসলামের শত্রুদের সেবাতেই নিয়োজিত। এইসব মডেল তৈরি করা হয়েছে খাঁটি ও সংগ্রামী ইসলাম এবং খাঁটি ইসলামী রাষ্ট্র-ব্যবস্থাকে কোণঠাসা করার লক্ষ্যেই।

মরহুম ইমাম খোমেনী সার্বিকভাবে এই ইসলামের নাম দিয়েছিলেন 'মার্কিন ইসলাম'। এইসব কথিত ইসলামী রাষ্ট্রের নেতারা তাই মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী সরকারগুলো ও দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে বাস্তবে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখেন যদিও মুখে মুখে মাঝে মধ্যে এইসব জালিম শক্তির বিরুদ্ধেও কথা বলেন!

তাই মুনাফিক চরিত্রের এইসব মুসলিম শাসক, কিংবা ইয়াজিদ ও শিমারদের মত মুসলিম নামধারী শাসক কিংবা ধর্মান্ধ খারিজিদের নতুন সংস্করণ তাকফিরি-ওয়াহাবিদের ইসলামী মডেলের সঙ্গে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রয়েছে আসমান-জমিন ব্যবধান। ইরানের ইসলামী বিপ্লব ও রাষ্ট্র পাশ্চাত্যের কথিত উদারনৈতিকতা, মোনাফেকি গণতন্ত্র এবং শ্রেণী-সংঘাতের উস্কানীদাতা সমাজতন্ত্রের কোনো উপাদান গ্রহণ না করে মহানবী (সা) ও তার পবিত্র আহলে বাইতের আদর্শের আলোকেই চলার চেষ্টা করছে বলে এর মধ্যে নেই জালিমের সঙ্গে হেকমতের নামে আপোষ করার বা তাদের সহযোগী হওয়ার সুবিধাবাদী নীতি কিংবা ধর্মান্ধ খারিজিবাদের সহযোগী হওয়ার দুর্বলতা।

জ্ঞান মুমিন ও মুসলমানের হারানো সম্পদ-এই নীতির আলোকে ইসলামী ইরান জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চায় অসাধারণ গুরুত্ব দিয়ে এক্ষেত্রে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও। অর্থনৈতিক, সামরিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নেও ইরানের ইসলামী রাষ্ট্রের বিপ্লবী নীতিমালা অনেক অসাধ্য সাধন ও অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

ইসলামী ইরানে নারীর সার্বিক উন্নয়নও বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করে চলেছে। ইরানি চলচ্চিত্র আজ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শৈল্পিক ধারা ও সুস্থ-বিনোদনের অনন্য জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কৃত্রিম উপগ্রহ ও মহাশুন্য-গবেষণা, পরমাণু-প্রযুক্তি, ন্যানো প্রযুক্তি, ক্লোনিং, স্টেমসেল বা মৌলিক কোষ-বিষয়ক গবেষণা এবং চিকিৎসা ও কৃষি খাতের নানা দিকে ইসলামী ইরানের অনন্য সাফল্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের এসব শাখায় পশ্চিমা বিশ্বের কর্তৃত্বকে ম্লান করে দিচ্ছে। বৈশ্বিক মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনে ইরানের অবস্থান এখন ১৮৯ দেশের মধ্যে ৬০তম, যা তুরস্ক, চীন ও ভারতের ওপরে। ইরানের প্রভাবের পরিধি বাড়ছে ইরাক-সিরিয়া-ইয়েমেন-লেবানন পর্যন্ত। তাই ইরানের প্রতি সাম্রাজ্যবাদী-ইহুদিবাদী মহলের ইর্ষা ও শত্রুতা ক্রমেই বাড়ছে। 

ইসলামী ইরানে বাক-স্বাধীনতা ও নেতৃবৃন্দের জবাবদিহিতার ব্যবস্থাও বিশ্বে সর্বোচ্চ পর্যায়ের। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এখানে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের সামনেই তার যেমন কঠোর সমালোচনা করতে পারেন তা বিশ্বের খুব কম দেশেই ঘটা সম্ভব। ইরানের সংসদে মন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টকে উপস্থিত হতে হয় নানা বিষয়ে জবাবদিহিতার জন্য। কোনো সমস্যার বিষয়ে উপযুক্ত বা বিশ্বাসযোগ্য কৈফিয়ত দিতে না পারলে মন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা ও পদ হারাতে পারেন সংসদ সদস্যদের অনাস্থা ভোটে। অবশ্য ইরানি সংসদে আস্থা ভোট না পেলে মন্ত্রী সভার সদস্যই হতে পারেন না কেউ।  ইরানে জুমা নামাজের ইমামরাও প্রকাশ্যে রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সমালোচনা করতে দ্বিধা বোধ করেন না। ইরানের জনগণের নির্বাচিত বিশেষজ্ঞ পরিষদ সর্বোচ্চ নেতাকেও অযোগ্য মনে করলে তাকে পদচ্যুত করতে পারেন। 

ইরানের ইসলামী বিপ্লব খাঁটি মুহাম্মাদি ইসলামের কার্যকারিতা তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। পশ্চিমা মতাদর্শগুলোর ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে  ইসলাম যে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রসহ জীবনের সবক্ষেত্রে সংকট ও অচলাবস্থা দূর করতে পারে তা তুলে ধরেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লব। 

'ওয়ালিয়ে ফকিহ' বা সর্বোচ্চ ইসলামী আইনবিদের নেতৃত্বে ধর্ম-ভিত্তিক জন-শাসন-ব্যবস্থার যে মডেল ইসলামী ইরান উপহার দিয়েছে তা ইরানের ইসলামী বিপ্লবের শক্তিমত্তা ও দৃঢ়তাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থার ৪০ বছরের নানা সাফল্যের রহস্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক জনাব এ কে এম আনোয়ারুল কবির বলেছেন,

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সাফল্যের দিকগুলোর মধ্যে প্রথমেই বলতে হয়, শিল্প ও প্রযুক্তিসহ বস্তুগত উন্নয়নের নানা দিকে ইরানের সাফল্য প্রমাণ করেছে যে তৎকালীন দুই বড় পরাশক্তির উপর নির্ভর না করেই স্বনির্ভর হওয়া যায়। কেবল নিজের শক্তির ওপর নির্ভর থেকে দুই পরাশক্তিকে উপেক্ষা করে তৃতীয় একটা ধারা তৈরি করে ৪০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকা বিশ্বের মুক্তিকামী ও স্বাধীনতা আন্দোলন বা বিপ্লবগুলোর ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ বিপ্লবেরই সাফল্যের দৃষ্টান্ত।

তবে বৈষয়িক ও বস্তুগত নানা দিকে এসব সাফল্য ছাড়াও আরো বড় যে সাফল্য ইরানের ইসলামী বিপ্লব বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছে তা হল পশ্চিমা লিবারেল গণতান্ত্রিক ধারার বিপরীতে ইসলাম ও জনগণের শাসনের মধ্যে সমন্বয় অর্থাৎ জনগণের সমর্থন নিয়ে একটি ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

এ ছাড়াও নৈতিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের যুগে নৈতিক ও ইসলামী মানবিক মূল্যবোধগুলো তুলে ধরাও ইরানের ইসলামী বিপ্লবের আরও একটি বড় সাফল্য। এর মধ্যে রয়েছে জুলুম অত্যাচার ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বিশ্বের মজলুম জাতিগুলোকে সমর্থন করা এবং এই সব জাতির আশা ভরসা তথা মুসলিম জাতিগুলোর কণ্ঠস্বরে পরিণত হওয়া। মুক্তিকামী জাতিগুলোকে ইসলামী বিপ্লবের চেতনার সাথে একাত্ম করতে পারা ও তাদেরকে জাগিয়ে তোলা এটাও ইসলামী বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর অন্যতম।

সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদী শক্তির নানা জুলুমের মোকাবেলায় স্বাধীনভাবে প্রতিরোধের একটা তৃতীয় ধারা গড়ে তুলে বিশ্বের মজলুম ও মুক্তিকামী জাতিগুলোকে এই ধারার সাথে যুক্ত করা ইসলামী বিপ্লবের একটি বিশাল সাফল্য। এ বিপ্লবের ফলে মানুষ স্বাধীনভাবে চিন্তা ভাবনা করার এবং জালিম ও আধিপত্যকামী শক্তিগুলোকে রুখে দাঁড়ানোর শিক্ষা পেয়েছে। 
 

মরহুম ইমাম খোমেনীর পর ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী দূরদর্শী ও বিচক্ষণ পরিচালনার মাধ্যমে ইসলামী বিপ্লবকে পরিপূর্ণতার দিকে এগিয়ে নিয়েছেন। তিনি রাজনীতি, প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধমূলক অর্থনীতির ক্ষেত্রে জাতিকে শক্তিশালী করার নীতি অনুসরণ করে বিজাতীয় শক্তিগুলোর নানা ষড়যন্ত্রকে বানচাল করেছেন। তিনি ইসলামের বিপ্লবী মূল্যবোধগুলোকেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে চলেছেন। আর এভাবে খামেনেয়ী হয়ে উঠেছেন দ্বিতীয় খোমেনী এবং ইসলামী ইরানের শত্রুরা হয়ে পড়েছে হতাশ।

গত ৪০ বছর ধরে ২২ শে বাহমান তথা ১১ ফেব্রুয়ারিতে ইসলামী বিপ্লবের বিজয়-বার্ষিকীর শোভাযাত্রায় বেশিরভাগ ইরানির অংশগ্রহণ তথা কয়েক কোটি মানুষের শোভাযাত্রা এবং প্রতি বছর এ শোভাযাত্রায় ইরানিদের অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধির কারণও  হল এটা যে এ বিপ্লবের নীতি ও শ্লোগান জনগণের তথা মানবীয় প্রকৃতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। আর তাই এই বিপ্লবের নীতি ও শ্লোগান স্থায়ী হচ্ছে এবং আগের চেয়েও বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে। 

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের চার দশকের সাফল্য সংক্রান্ত আজকের বিশেষ আলোচনা এখানেই শেষ করছি।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/মো.আবুসাঈদ/ ১০

ট্যাগ

মন্তব্য