২০১৯-০৫-০২ ১৫:১১ বাংলাদেশ সময়

ইরানে বিল্ডিং স্যানিটারি ভালভ শিল্পের ইতিহাস অর্ধ শতাব্দি পুরোনো। সর্বপ্রথম যে কারাখানাটি স্থাপিত হয়েছিল সেটিতে ব্রোঞ্জের ট্যাপ তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৬৩ সালের ঘটনা এটি।

এখন তিন শ'রও বেশি কোম্পানি বিল্ডিং স্যানিটারি ভালভ তৈরি করছে। ইরানের এই জ্ঞান ভিত্তিক কোম্পানিগুলো সম্প্রতি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে ব্যাপক উন্নত মানের বিল্ডিং স্যানিটারি ভালভ তৈরি করে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে তারা নতুন নতুন পদ্ধতিতে নতুন ডিজাইন আবিষ্কারের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সেন্সর্ড ট্যাপ এ ধরনেরই উন্নত মানের একটি সংযোজন। ইলেক্ট্রোনিক স্মার্ট বিল্ডিং স্যানিটারি ভালভও এরকমই উন্নত প্রযুক্তির একটি পণ্য যা এখন ইরানে অহরহ উৎপাদিত হচ্ছে। বলা বাহুল্য এই প্রযুক্তিটি ইরানের একান্ত নিজস্ব।

বিদেশি ফিটিংসের তুলনায় ইরানি ফিটিংসের সুবিধাটা হলো ইরানের আবহাওয়ার সঙ্গে এগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইরানে পানির স্বল্পতার কারণে সাশ্রয়ী ব্যবহারের বিষয়টি যেমন বিবেচনা করা হয়েছে। তেমনি উৎপাদন ব্যয় কমানোসহ উন্নত মানের পণ্য তৈরির প্রতিও খেয়াল রেখে গুণগত মান যথাযথ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। ইলেক্ট্রনিক স্মার্ট ফিটিংসের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো পানির ব্যবহার সত্তর শতাংশ পরিমাণ হ্রাস করা। সাধারণ ফিটিংসের তুলনায় ইলেক্ট্রনিক স্মার্ট ফিটিংসের আরও সুবিধা হলো অনেক উপরের ফ্ল্যাটেও পানি সরবরাহে কিংবা পানির প্রবাহে কোনোরকম স্বল্পতা দেখা না দেয়া। এই শ্রেণীর অন্তত ষোল রকমের ফিটিংস এখন ইরানে উৎপাদন হচ্ছে। এগুলো ওয়াশরুমসহ রান্নাঘর, ল্যাবরেটরি, হাসপাতাল এবং অস্ত্রোপচার কক্ষেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইরানের জ্ঞান ভিত্তিক  কোম্পানিগুলোর উন্নত মানের আরও একটি ফিটিংস হলো পাইপযুক্ত পানির ট্যাপ তৈরি। পানি ঠাণ্ডা করার জন্য যেসব ডিসপেন্সার ব্যবহার করা হয় সেগুলোতেও এ ধরনের ফিটিংস ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের ফিটিংসের সুবিধা হলো স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এগুলো খুবই ভালো। দামেও কম। সরবরাহ ব্যবস্থা এবং স্থানান্তর করা সুবিধাজনক। বিশাল কোনো বালতি বা ময়লা রাখার কোনো বাক্স ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে না। পানির প্রবাহ বাড়ানো কমানোর ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়াও আরও বহু সুবিধা রয়েছে পাইপযুক্ত ফিটিংসের। ইরানের এখন বাণিজ্যিকভাবে এই পণ্যগুলো উৎপাদন হচ্ছে।

ভবনের ফিটিংস সামগ্রী এমন একটি শিল্পের অন্তর্ভুক্ত যার সঙ্গে জড়িত রয়েছে বহু পর্যায় এবং বহু যন্ত্রপাতি আর জনশক্তি। এই শিল্পে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের লোকজন খুব বেশি প্রয়োজন পড়ে না। সাধারণ শ্রমিকরাই এগুলো তৈরি করে ফেলতে পারে। যেসব যন্ত্রপাতি বা মেশিনারি সামগ্রীর প্রয়োজন হয় এই শ্রেণীর ফিটিংস তৈরি করার জন্য সেইসব যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ ইরানের অভ্যন্তরেই তৈরি হয়। এগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে অন্তত নব্বুই ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। গরম পানির তাপমাত্রায় যেন কোনোরকম সমস্যা তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রেখেই তৈরি করতে হয় এইসব সামগ্রি। সেইসঙ্গে কোনো রকমের বিষাক্ত বস্তু বা তরল যেন ব্যবহার করা না হয় যাতে পানির রঙ কিংবা স্বাদ পরিবর্তন হয়ে যায় এবং রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হয় এসব ফিটিংস নির্মাণের ক্ষেত্রে। তাহলো স্ট্যান্ডার্ড রক্ষা করতে গিয়ে এমন কিছু করা না হয় যাতে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয় এবং তার বিস্তার লাভ করে। কারণ পানি বাহিত রোগ-ব্যাধির একটা বড় কারণ হলো এই ব্যাকটেরিয়া। মানব স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে সবার আগে গুরুত্ব দিয়েই তৈরি করা হয় ফিটিংসগুলো। এদিক বিবেচনা করেই ফিটিংস তৈরি শিল্পে ব্রোঞ্জ, অ্যালুমিনিয়াম, তামা কিংবা এলয় জাতীয় বিচিত্র ধাতু ব্যবহার করা হয়। ইরানের শিল্প কল-কারখানাগুলোর জন্য একটা সুবিধার দিক হলো তাদের উৎপাদিত শিল্প সামগ্রির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করতে দেশের বাইরে যেতে হয় না, সবই মোটামুটি ইরানেই পাওয়া যায়। কারণ ইরানে রয়েছে অসংখ্য খনিজ সম্পদ।

যে-কোনো পণ্য বিশেষ করে যে ফিটিংস নিয়ে আমরা কথা বলছি সেগুলো তৈরির বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করার পর সবশেষে পলিশ করা হয় এবং নিকেল করার কাজ করা হয়। সর্বশেষ পর্যায়টি হলো কোয়ালিটি কন্ট্রোল মানে গুণগত মান নিশ্চিত করা। পলিশ এবং নিকেল করার মাধ্যমে দুটি কাজ হয়। একটি হলো ফিনিশিং চমৎকার হয়। অপরটি হলো বিভিন্ন রঙের প্রলেপ দেয়ার ফলে ফিটিংসের সৌন্দর্য হয়ে ওঠে আকর্ষণীয়। বাসার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এগুলোর রয়েছে ব্যাপক ভূমিকা। ইরানে যেসব ফিটিংস তৈরি হচ্ছে সেগুলো অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বাইরেও প্রচুর রপ্তানি করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েক হাজার টন ফিটিংস দেশের বাইরে রপ্তানি করা হয়েছে।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে তো বটেই এমনকি মধ্য এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা, সিরিয়া, লেবানন, জর্দান, আফগানিস্তান ও ইরাকেও ইরানের এসব পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। ইরানের কোনো কোনো কোম্পানি তাদের সকল পণ্যই বাইরে বিক্রি করে এবং সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই তারা তাদের পণ্য সামগ্রী উৎপাদন করে। বিশ্ব বাজারে পণ্য রপ্তানির জন্য আন্তর্জাতিক মানের সকল লাইসেন্স সংগ্রহ করার পাশাপাশি গুণগত মান বজায় রেখেই এইসব ইরানি কোম্পানি তাদের পণ্য উৎপাদন করে আসছে। #

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/ মো:আবু সাঈদ/ ২

ট্যাগ

মন্তব্য