২০১৯-০৫-১৫ ১৬:০৪ বাংলাদেশ সময়

আশা করছি এ আলোচনা হবে সবার জন্য উন্নতির মাধ্যম। হে পরম করুণাময়! মহানবী (সা) ও তাঁর পবিত্র বংশধরদের প্রতি দরুদ পাঠানোর উসিলায় রমজানে যেন আমরা সর্বোচ্চ খোদাপ্রেম অর্জন করতে পারি।

রমজানে আত্মসংশোধন ও পাপ-বর্জনের পন্থা সম্পর্কিত বিগত আলোচনায় আমরা জেনেছি যে বড় বড় গুনাহ'র কারণে পাপীর অজ্ঞতা ও অন্ধকারের এতই অতলে নেমে যায় যে, শয়তানের আর তাকে প্রলুব্ধ করার দরকার হয় না বরং সে নিজেই শয়তানের রং ধারণ করে। আর শয়তানের রঙের বিপরীত হলো ‘সিবগাত-আল্লাহ' তথা আল্লাহর রঙ। যে স্বার্থপর কামনা-বাসনার পেছনে ছোটে,যে শয়তানের অনুগত,ধীরে ধীরে সেও শয়তানের রঙ ধারণ করে।

রমজানে আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের শপথ নেয়া এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি উদ্রেককারী কথা ও আচরণ এড়িয়ে চলা উচিত। আসুন আজই খোদার সাথে চুক্তি করি যে, রমজানে পরচর্চা, গীবত, অপবাদ- এসব পরিত্যাগ করব। আমরা জিহ্বা, চোখ, হাত, কান এবং অন্যান্য অঙ্গকে নিয়ন্ত্রণে রাখব। তাহলে আল্লাহ আমাদের দয়া করবেন।

রমজানের পর শয়তানকে যখন শিকলমুক্ত করা হবে,ততদিনে আমাদের শুদ্ধি বা সংস্কার সম্পন্ন হবে বলে আর শয়তানের ধোঁকায় প্রতারিত হব না ইনশাল্লাহ। পবিত্র রমজানে জিহ্বা, চোখ, কান এবং সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ন্ত্রণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা জরুরি। যা যা করতে ও শুনতে চাই সেসবের ব্যাপারে শরিয়তের দৃষ্টি কী,সেদিকে সতর্ক থাকব। অন্ততঃ রোজার এই প্রাথমিক ও বাহ্যিক নিয়ম পালন করা উচিত! কাউকে গীবত করতে দেখলে তাকে থামান ও বলুন যে,রোজার এই ত্রিশ দিনে নিষিদ্ধ কাজ বর্জনের জন্য আমরা আল্লাহর সাথে বিশেষ চুক্তি করেছি। আর যদি তাকে পরচর্চায় বিরত করা না যায়,তাহলে সেই স্থান ত্যাগ করুন। বসে বসে গীবত শুনবেন না। মুসলমানেরা যেন আমাদের থেকে নিরাপদ থাকে।

যার চোখ, হাত ও জিহ্বা থেকে অপর মুসলিম নিরাপদ নয়,সে প্রকৃত মুসলিম নয়; যদিও সে মুখে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ উচ্চারণ-করা আনুষ্ঠানিক ও বাহ্যিক মুসলমান। আল্লাহ না করুন, এই মাসে সর্বশক্তিমান আল্লাহর অতিথি হয়েও যদি আমরা কারো ওপর অপবাদ আরোপ করি কিংবা গীবত করি,তা মহামহিম খোদার সামনে তাঁরই কোনো বান্দার সাথে দুর্ব্যবহার করার সমতুল্য। আর খোদার কোনো বান্দাকে অপবাদ দেয়া মানে খোদাকেই অপবাদ দেয়া। তারা খোদারই বান্দা,বিশেষতঃ যদি তারা জ্ঞান ও তাকওয়ার পথে পণ্ডিত হয়ে থাকেন। কখনও কখনও এ জাতীয় মন্দ কাজ মানুষকে এমন অবস্থায় নিয়ে যায় যে,মৃত্যুর মুহূর্তেও সে খোদাকে ও ঐশী নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করে! কুরআনে বলা হয়েছে:“অতঃপর যারা মন্দ কর্ম করত,তাদের পরিণাম হয়েছে মন্দ। কারণ,তারা আল্লাহর আয়াতগুলোকে মিথ্যা বলত এবং সেগুলো নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত।" (সূরা আর-রূম, ৩০:১০)

পাপে অভ্যস্ত হওয়াটা ধীরে ধীরে ঘটে। আজ একটা ভুল দৃষ্টিভঙ্গি,আগামীকাল একটু-আধটু গীবত,পরশু কোনো মুসলিমের বিরুদ্ধে অপবাদ,এমনি করে অন্তরে এসব পাপ জমতে জমতে অন্তর কালো হয়ে যায়। এভাবে পাপাচার মারেফাত বা খোদার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং তা বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে মানুষ সবকিছু ও অবশেষে আল্লাহকেই প্রত্যাখ্যান করে।

কুরআনের বক্তব্য অনুযায়ী,মানুষের কাজ পর্যালোচনার জন্য রাসূল (সা.) ও নিষ্পাপ ইমামদের (আ.) সামনে উপস্থাপন করা হবে। যখন রাসূল (সা.) দেখবেন যে, আমাদের কাজ-কর্ম কতই না ভুল ও পাপে পূর্ণ, তখন তিনি কতইনা দুঃখ পাবেন! আমরা নিশ্চয়ই রাসুল ও ইমামদের দুঃখ দিতে চাই না। যখন তাঁরা দেখবেন যে, আমাদের হিসাবের খাতা কেবলই গীবত, অপবাদ, অপর মুসলিমের সম্পর্কে অন্যায্য কথায় পূর্ণ ও আমাদের সমস্ত হৃদয় জুড়ে ছিল যত দুনিয়ার লোভ-লালসা, হিংসা, জিঘাংসা, সন্দেহপ্রবণতা – সেক্ষেত্রে আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাদের সামনে মহানবী ও তাঁর আহলে বাইত বিব্রত হবেন।

 মহানবী ও তাঁর আহলে বাইত মর্মাহত হয়ে দেখবেন যে,তাঁদের সম্প্রদায় ও অনুসারীরা আসমানি দয়ার ব্যাপারে অকৃতজ্ঞ ছিল এবং বেখেয়াল ও বেপরোয়া হয়ে তারা মহান স্রষ্টার আস্থা ভঙ্গ করেছে। আমরা তো আল্লাহর প্রিয়তম ব্যক্তি মুহাম্মাদের (সা) জাতি। মুসলমানরা যদি নোংরা কাজে ব্যস্ত থাকে তাহলে মহানবী (সা.) অবশ্যই মর্মাহত হবেন। আর মহানবীর বদদোয়া মানে ধ্বংস অনিবার্য। তাই আমরা যেন ক্রমাগত পাপে জড়িয়ে আল্লাহর রাসূল  ও নিষ্পাপ ইমামদেরকে আল্লাহর সামনে মর্মাহত না করি।

মহান আল্লাহ বিচার-দিবসে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করুন মহানবী (সা) ও তাঁর পবিত্র বংশধরদের শানে দরুদ পাঠানোর উসিলায়।

নবম রমজানের দোয়া ও তার অর্থ:

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আবু সাঈদ/ ৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য