২০১৯-০৯-০২ ১৮:৫৩ বাংলাদেশ সময়

মানুষের জীবনকে আরও সুন্দরভাবে সাজাতে জ্ঞান অর্জন ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এজন্য আমাদেরকে বেশি বেশি পড়তে হবে। বিজ্ঞজনেরা বলে থাকেন, যে যত বেশি পড়ে তার জীবন ততবেশি সমৃদ্ধ ও সুন্দর হয়।

বইপড়ুয়া মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি দয়াশীল ও বাস্তববাদী হয়ে থাকে। জীবনকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে এসবের পাশাপাশি মানুষের বুদ্ধি ও বিবেককে কাজে লাগাতে হবে- এ কথা এর আগের আসরেও আমরা বলেছি। আমরা আরও বলেছি যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরামর্শ করতে হবে। আজকের আসরে আমরা নিজেকে চেনার পাশাপাশি পরিবেশ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করব।

যারা নিজেকে চিনতে পারে অর্থাৎ নিজের প্রতিভা, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, দুর্বলতা, চাহিদা ও সীমাবদ্ধতা ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারে সে প্রকৃতপক্ষে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে অগ্রগামী থাকে। সে নিজেকে চেনার মাধ্যমে তার দুর্বলতাগুলো দূর করার পথ খুঁজে পায় এবং নিজের প্রতিভা বিকাশের জন্য পরিকল্পনা প্রনয়ণ করতে পারে। আমরা মাঝে মধ্যেই এমন ব্যক্তিদের সম্মুখীন হই যারা নিজেকে চেনার পর জীবনের গতিপথকে পরিবর্তন করে সফল হয়েছেন। বিষয়টি অনেকটা এমন যে একজন ডাক্তার যখন বুঝতে পারলেন ইতিহাসের প্রতি তার মন বেশি টানে, তখন তিনি তার বিষয় পরিবর্তন করে অবশেষে ইতিহাসবিদ হয়ে গেলেন, অথবা একজন শিক্ষক পোশাক ডিজাইনে তার প্রতিভার বিষয়টি উপলব্ধির পর দক্ষ ডিজাইনারে পরিণত হলেন। এমন অনেক মানুষকেই পাওয়া যায় যারা নিজের যোগ্যতা ও প্রতিভা উপলব্ধির পর জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করেছেন এবং জীবনে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন।

শিক্ষা-প্রশিক্ষণ প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। মহানবী হজরত মুহাম্মাদ(স.) বলেছেন, হয় আলেম বা জ্ঞানী হোন, না হয় জ্ঞান অর্জন করতে থাকুন। শুধু আমোদফুর্তি করে এবং অযথা সময় নষ্ট করবেন না।' 

পবিত্র ইসলাম ধর্ম তার অনুসারীদেরকে ধর্ম ও কুরআনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জ্ঞান অর্জন করতে বলেছে। আধুনিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানব সমাজকে উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করারও নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম ধর্ম। মহান এই ধর্মে বিশ্বের সর্বশেষ জ্ঞান ও প্রযুক্তি অর্জনের ওপর বারবার গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। গোটা বিশ্বেই এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুধু তাই নয় ইন্টারনেট তথা ভার্চুয়াল জগতের ব্যবহার ও মানুষের যোগাযোগের ধরণে পরিবর্তন এসেছে। ইন্টারনেট তথা ভার্চুয়াল জগতে স্থান ও কালের গন্ডি প্রযোজ্য না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন নতুন ব্যবস্থা গড়ে উঠছে এবং মানুষের জীবন প্রণালীতে আমূল পরিবর্তন আসছে।

বর্তমান পৃথিবীতে সুন্দরভাবে জীবনযাপন নিশ্চিত করতে আমাদেরকে আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। এর ভালো-মন্দ চিহ্নিত করে ভালো দিকগুলোকে নিজের জীবনকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে ব্যবহার করতে হবে। সচেতন না হলে আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। আমাদের মনে রাখতে হবে, ইন্টারনেট তথা ভার্চুয়াল জগত নানা সুযোগ ও সম্ভাবনা সৃষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন সংকটেরও জন্ম দিয়েছে। নানা বৈশিষ্ট্যের কারণে যোগাযোগের ধরন ও মডেলে পরিবর্তন এসেছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো মানুষের বাস্তব জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরতার কারণে মানুষের আচার-আচরণেও পরিবর্তন আসছে। এ পরিবর্তন কখনো ইতিবাচক কখনো আবার নেতিবাচক। সাধারণ জ্ঞান অর্জন যেমন সহজ হয়েছে তেমনি সহজে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পথও খুলে গেছে। যোগাযোগ হয়ে পড়ছে যন্ত্রকেন্দ্রিক।

বলা হয়ে থাকে, অনেকেই একসঙ্গে বসবাস করলেও তথ্য আদান-প্রদান করেন যন্ত্রের মাধ্যমে। এর ফলে মাধ্যমবিহীন যোগাযোগ ও সম্পর্ক ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। ভার্চুয়াল জগতের একটি আকর্ষণীয় দিক হলো, এখানে বাস্তবিক অর্থে কোনো বিধি-নিষেধের তোয়াক্কা করতে হয় না। প্রয়োজনে নিজের পরিচয় গোপন রেখেই সব কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়। কোনো প্রতিষ্ঠান বা সরকার নির্দিষ্ট কোনো সীমাবদ্ধতা আরোপ করলেও বিকল্প প্রযুক্তির মাধ্যমে তা এড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব হয় এ জগতে। ভার্চুয়াল জগত মানুষের সামনে এমন সব দিগন্ত খুলে দিয়েছে যা জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়ন এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগানো সম্ভব। ভার্চুয়াল জগতের নানা ইতিবাচক দিক থাকলেও এর বিপদের মাত্রাও কম নয়। এই জগতে তৎপর সব শ্রেণির মানুষেরই বিপদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ বাস্তব জগতের মতো ভার্চুয়াল জগতেও তৎপর রয়েছে নানা পর্যায়ের অপরাধী। যারা ভালো মানুষের ছদ্মবেশে প্রতিনিয়ত মানুষের ক্ষতি করে যাচ্ছে। কখনো হাতিয়ে নিচ্ছে মানুষের সর্বস্ব। অনেক দুষ্টু স্বভাবের পুরুষ, নারীর নাম ব্যবহার করে সরল মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ধোকা দিচ্ছে। 

জীবনকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার জানতে হবে।   এই প্রযুক্তিকে সঠিক উপায়ে ব্যবহার করতে হবে। নির্দিষ্ট সময় থাকবে, যাতে পরিবারের সদস্যদের জন্য নির্ধারিত সময়ে ইন্টারনেট ভাগ বসাতে না পারে। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে জীবনকে সুন্দর করতে পরিবার ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার কোনো বিকল্প নেই কিন্তু ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া একটি পরিবারের সদস্যদের নিজেদের মধ্যে এবং বাইরের জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে।

মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় শিশুরা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেক সময় শিশুরা মোবাইলের বাটন চাপতে চাপতে নিজের অজান্তেই ইন্টারনেটে সংযুক্ত হয়ে পড়ছে এবং শিশুদের জন্য অনুপযোগী ছবি তথা দৃশ্য সামনে ভেসে উঠছে। তারা এমন সব অশালীন দৃশ্য দেখছে যা ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত না হলে পূর্ণ বয়স্ক হওয়ার আগে তাদের কল্পনাতেও আসত না।

জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সন্তানদেরকে এ ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবারে বড়দের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। শিশু-কিশোররা ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও তাতে বড়দের নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। প্রয়োজনে ফিল্টারিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে শিশু-কিশোরদের অনুপযোগী কোনো ছবি, দৃশ্য ও লেখা তাদের সামনে প্রদর্শিত না হয়। জীবনকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে আধুনিক প্রযুক্তিকে যেমন কাজে লাগাতে হবে তেমনি এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে।#

পার্সটুডে/সোহেল আহম্মেদ/মো: আবুসাঈদ/ ০২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য