১১ জিলকাদ তথা বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)'র পবিত্র আহলে বাইতের অন্যতম সদস্য ইমাম রেজা (আ)'র পবিত্র জন্মবার্ষিকী। ১৪৮ হিজরিতে মদিনায় ইমাম মুসা ইবনে জাফর সাদিক (আ.)'র ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর পবিত্র ও কল্যাণময়ী মায়ের নাম ছিল উম্মুল বানিন নাজমা।

 ১৮৩ হিজরিতে খলিফা হারুনের কারাগারে পিতা ইমাম কাজিম (আ.)'র শাহাদতের পর পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে মুসলিম উম্মাহর ইমামতের ঐশী দায়িত্ব গ্রহণ করেন ইমাম রেজা (আ.)। প্রায় ১৯/২০ বছর ধরে ইমামতের মহান দায়িত্ব পালনের পর তিনি শাহাদত বরণ করেন।

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)'র পবিত্র আহলে বাইত তথা মাসুম বংশধররা ছিলেন খোদায়ী নানা গুণ ও সৌন্দর্যের প্রকাশ। তাঁরা ছিলেন মানব জাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ বা পরিপূর্ণ আদর্শ। তাঁদের মহত গুণ ও যোগ্যতাগুলো সত্য-সন্ধানী এবং খোদা-প্রেমিকদের জন্য অফুরন্ত শিক্ষা ও প্রেরণার উতস হয়ে আছে।

শেখ সাদুক (র) হযরত ইমাম রেজা (আ.) সম্পর্কে এক বইয়ে লিখেছেন, অসাধারণ নানা গুণ ও যোগ্যতার জন্য আলী ইবনে মুসা রেজা (আ.) রেজা বা সন্তুষ্ট, সাদিক বা সত্যবাদী, ফাজেল বা গুণধর, মু'মিনদের চোখের প্রশান্তি বা আলো ও কাফির বা অবিশ্বাসীদের ক্ষোভের উতস প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।

তবে আলী ইবনে মুসা রেজা (আ.)'র একটি বড় উপাধি হল 'আলেমে আ'লে মুহাম্মাদ' বা মুহাম্মাদ (সা.)'র আহলে বাইতের আলেম।

ইমাম রেজা (আ.)'র পিতা ইমাম মুসা কাজিম (আ.) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, আমার বাবা ইমাম জাফর সাদিক (আ.) আমাকে বার বার বলতেন যে, আলে মুহাম্মাদের আলেম বা জ্ঞানী হবে তোমার বংশধর। আহা! আমি যদি তাঁকে দেখতে পেতাম! তাঁর নামও হবে আমিরুল মু'মিনিন (আ.)'র নাম তথা আলী।

রেজা (আ.)'র মাজার জিয়ারতকারীরা বেহেশতবাসী হবেন

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ইরানের খোরাসানে তাঁর শরীরের একটি অংশকে তথা তাঁর পবিত্র বংশধারার বা আহলে বাইতের একজন সদস্যকে দাফন করা হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন।

বলা হয়, যারা এই মহান ইমামের উচ্চ সম্মান সম্পর্কে পরিচিতি বা সমীহ নিয়ে তাঁর পবিত্র মাজার জিয়ারত করবেন তারা বেহেশতের অধিকারী হবেন।

প্রায় হাজার বছর আগে লিখিত 'শাওয়াহেদুন্নবুওয়াত' নামক বইয়ে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, যারা ইরানের খোরাসানে অবস্থিত (যার বর্তমান নাম মাশহাদ) ইমাম রেজা (আ.)'র মাজার জিয়ারত করবে তারা বেহেশতবাসী হবে। বিশিষ্ট কবি ও আধ্যাত্মিক সাধক মাওলানা আবদুর রহমান জামির লিখিত এই বইটি বহু বছর আগে বাংলা ভাষায়ও অনূদিত হয়েছে (মাওলানা মহিউদ্দিনের মাধ্যমে) (পৃ.১৪৩-১৪৪)। [এ বইয়ের ২৭২ পৃষ্ঠায় ইরানের পবিত্র কোম শহরে অবস্থিত হযরত ফাতিমা মাসুমা (সা.)’র পবিত্র মাজার জিয়ারত সম্পর্কেও একই কথা বলা হয়েছে। এই ফাতিমা মাসুমা ছিলেন ইমাম রেজা-আ.’র ছোট বোন।  মাসুমা বা নিষ্পাপ ছিল তাঁর উপাধি।] 

এবারে আমরা বিশ্বনবী (সা.)’র পবিত্র আহলে বাইতের এই সদস্যের কয়েকটি মো’জেজা বা অলৌকিক ক্ষমতার ঘটনা তুলে ধরছি:  

“ইমাম রেজা (আ.)’র বিশিষ্ট সঙ্গী আবা সালাত হারুবি বলেছেন: আমি হযরত রেজা (আ.)’র কাছে ছিলাম (তাঁর শাহাদতের কিছুকাল আগে)। তিনি আমাকে বললেন: হে আবা সালাত! এই স্থানে (খলিফা) হারুনের যে কবর দেখছ, তার চারদিক থেকে কিছু মাটি তুলে আন। আমি তা করলাম। ইমাম সেই মাটিগুলো শুঁকলেন ও বললেন: ওরা আমাকে (আব্বাসীয় শাসক) হারুনের পাশে কবর দিতে চাইবে, কিন্তু এখানে একটি পাথর জেগে উঠবে; খোরাসানের পাথর ভাঙ্গার সবগুলো যন্ত্র এনেও তা তুলতে পারবে না তারা। হারুনের কবরের মাথার ওপরের দিকে ও পায়ে নিচের দিকে ইমাম এইসব কথা বলেন। এরপর তিনি হারুনের কবরের অন্য দিকের মাটির ঘ্রাণ নিলেন এবং বললেন: এই স্থানের মাটিই হবে আমার কবরের স্থান। হে আবা সালাত! আমার কবর যখন দেখা যাবে তখন সিক্ততা দেখা দেবে। আমি তোমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিচ্ছি তা পড়বে। ওই দোয়া পড়ার পর আমার কবর পানিতে ভরে যাবে। সেই পানিতে ছোট ছোট মাছ দেখা যাবে। এই রুটি তোমাকে দিচ্ছি তা ওদের জন্য গুড়ো কর। ওই রুটির গুড়ো ওরা খাবে। এরপর একটি বড় মাছ দেখা যাবে। সে ছোট ছোট সব মাছ খেয়ে ফেলবে এবং এরপর অদৃশ্য হয়ে যাবে। এরপর তুমি পানিতে হাতে রেখে এই দোয়াটি যা আমি তোমাকে শিখিয়ে দেব তা পড়বে। সব পানি নেমে যাবে। আর এই সবই করবে (ইমামের ঘাতক) মামুনের উপস্থিতিতে। এরপর ইমাম বললেন, ‘হে আবা সালাত! আমি আগামীকাল এই অসত ও অপরাধী লোকটার (বাদশাহ মামুন) কাছে যাব। যখন ওর কাছ থেকে ফিরে আসব তখন দেখবে যে আমার মাথা যদি ‘আবা’ দিয়ে (এক ধরনের পাতলা পোশাক যা মূল মোটা পোশাকের ওপর পরা হয়) ঢাকা থাকে তাহলে আমার সঙ্গে আর কথা বলবে না ও বুঝে নিও যে আমাকে বিষ খাওয়ানো হয়েছে।’ 

আঙ্গুরের মাধ্যমে ইমামকে বিষ-প্রয়োগ

পরের দিন সকালে ইমাম নিজের মেহরাবে অপেক্ষা করছিলেন। কিছু সময় পর বাদশাহ মামুন তার এক ভৃত্যকে পাঠায় ইমামকে সঙ্গে নিয়ে আসার জন্য। ইমাম মামুনের মজলিসে গেলেন। আমিও (আবা সালাত) পিছে পিছে গেলাম। তার সামনে একটি পাত্রে খুরমাসহ নানা ধরনের ফল ছিল। মামুনের হাতে ছিল এক থোকা আঙ্গুর। ওই থোকা থেকে সে নিজেও কয়েকটি আঙ্গুর খেয়েছিল। মামুন ইমামকে দেখে উঠে দাঁড়ায় এবং তাঁকে আলিঙ্গন করে ও  তাঁর কপালে চুমো খায়। সে ইমামকে নিজের পাশে বসায়। এরপর সে ওই আঙ্গুরের থোকাটি খেতে ইমামকে অনুরোধ করে বলে: আমি এরচেয়ে ভালো আঙ্গুর আর দেখিনি। ইমাম বললেন, বেহেশতের আঙ্গুর তো এর চেয়ে অনেক ভালো। মামুন বলল: এই আঙ্গুর খান। ইমাম বললেন, আমার ওজর গ্রহণ কর। (অর্থাত আমি তা খেতে চাচ্ছি না) মামুন বলল: অন্য কোনো উপায় নেই; আপনি কি আমাকে অভিযুক্ত করতে চান? অবশ্যই খেতে হবে। এরপর সে আঙ্গুরের থোকাটি তুলে ধরে তা থেকে নিজে কয়েকটি আঙ্গুর খেলো ও থোকাটি ইমামের হাতে দিল। ইমাম সেই আঙ্গুর থেকে তিনটি আঙ্গুর খেয়ে আঙ্গুরের থোকাটি মাটিতে ফেলে দেন এবং সেখান থেকে উঠে আসেন।মামুন বলল: কোথায় যাচ্ছেন? ইমাম বললেন: সেখানেই যাচ্ছি যেখানে তুমি আমাকে পাঠিয়েছ। এরপর তিনি তার ‘আবা’ দিয়ে মাথা ঢাকেন এবং নিজ ঘরে ফিরে আসেন। তিনি আমাকে বললেন: ‘দরজাটা বন্ধ কর’। আর এটা বলেই বিছানায় পড়ে গেলেন।

বাবার শাহাদতের সময় ছেলে (নতুন ইমাম) ইমাম জাওয়াদ (আ.) কাছে এলেন

আবা সালাত বলেন, ‘আমি ঘরের মাঝখানে দুঃখ-ভারাক্রান্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। এমন সময় দেখলাম যে এক অপরূপ সুন্দর যুবক আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর চেহারা ইমাম রেজার চেহারার সবচেয়ে কাছাকাছি বা অনুরূপ মনে হল।  আমি তাঁর সামনে গিয়ে বললাম: কিভাবে এখানে এলেন? সব দরজা তো বন্ধ ছিল।

ইমাম জাওয়াদ (আ.) বললেন: যিনি আমাকে মদীনা থেকে এখানে এনেছেন তিনি বন্ধ দরজা দিয়েও আমাকে প্রবেশ করিয়েছেন। প্রশ্ন করলাম: আপনি কে? আমি তোমার ওপর আল্লাহর দলিল বা প্রমাণ (ইমাম) হে আবা সালাত! আমি মুহাম্মাদ বিন আলী আল জাওয়াদ। এরপর তিনি বাবার দিকে গেলেন এবং বললেন: আপনিও প্রবেশ করুন।

ইমাম রেজা (আ.)’র দৃষ্টি পুত্রের ওপর পড়া মাত্রই তিনি তাঁকে আলিঙ্গনে আবদ্ধ করলেন ও তাঁর কপালে চুমু খেলেন।  ইমাম জাওয়াদ (আ.) নিজেকে বাবার শরীরের সঙ্গে যুক্ত করলেন ও তাঁকে চুমো খেলেন। এরপর তাঁরা মৃদু আওয়াজে পরস্পর কথা বললেন যা আমি শুনিনি। পিতা ও পুত্রের মধ্যে রহস্যময় কিছু কথা বিনিময় হল যতক্ষণ না ইমাম রেজা (আ.)’র বেহেশতী আত্মা তাঁর দেহ ত্যাগ করল।‘  

ইমাম জাওয়াদ (আ.) পিতা ইমাম রেজা (আ.)’র গোসল, দাফন ও জানাজা সম্পন্ন করেন

উল্লেখ্য, কোনো ঐশী নেতা বা ইমামের জানাজা বা দাফন পরবর্তী ঐশী নেতা বা ইমাম ছাড়া সম্পন্ন করার অধিকার রাখেন না। তাই দেখা যায় বিশ্বনবী (সা.)-কে  গোসল করিয়েছেন ও তাঁর দাফন করেছেন ইমাম আলী(আ.), ইমাম আলী(আ.)’র জানাজা ও দাফন করেছেন ইমাম হাসান (আ.), তাঁর দাফন করেছেন ইমাম হুসাইন (আ.), ইমাম হুসাইন(আ.)’র দাফন সম্পন্ন হয়েছে ইমাম জয়নুল আবেদিন (আ.)’র মাধ্যমে,  ...... অনুরূপভাবে ইমাম জাওয়াদ(আ.)ই পিতার গোসল, দাফন ও জানাজা সম্পন্ন করেন।  

ইমাম জাওয়াদ (আ.) বললেন: হে আবা সালাত! ওই খাটের ভেতর থেকে গোসলের সামগ্রী ও পানি নিয়ে আসুন।

-         সেখানে তো এ ধরনের কোনো সামগ্রী নেই।

-         যা বলছি তাই করুন।

আমি (আবা সালাত) কোষাগারে গিয়ে দেখলাম, হ্যাঁ, সেখানে সবই রয়েছে। সেসব আনলাম এবং আমার ঢিলে পোশাক কোমরে বেধে নিলাম যাতে গোসলে (নতুন) ইমামকে সাহায্য করা যায়। ইমাম জাওয়াদ (আ.) বললেন, হে আবা সালাত! এক পাশে সরে যান। যিনি আমাকে সাহায্য করছেন তিনি অন্য কেউ (সম্ভবত ফেরেশতা)। এরপর তিনি প্রিয় বাবাকে গোসল দেন এবং তা শেষ করে বললেন: কোষাগারের ভেতরে একটি ঝুড়ি আছে তা নিয়ে আসুন, তাতে কাফন ও  ‘হানুত’ বা লাশ সংরক্ষক মশলা রয়েছে। আমি সেখানে গেলাম ও একটি ঝুড়ি দেখলাম। অমন ঝুড়ি আমি তার আগে কখনও দেখিনি। আমি কাফন, হানুত ও কাফুর নিয়ে আসি।  

ইমাম জাওয়াদ (আ.) নিজের পিতাকে কাফন পরালেন ও নামাজ পড়লেন। এরপর বললেন, কফিন নিয়ে আসুন।

আমি (আবা সালাত) বললাম: কাঠ মিস্ত্রির কাছ থেকে?

ইমাম বললেন: কোষাগারে কফিন আছে।

আমি ভেতরে গেলাম ও দেখলাম কফিন তৈরি হয়ে আছে। ইমাম জাওয়াদ (আ.) বাবা ইমাম রেজা (আ.)-কে কফিনে রাখলেন ও এরপর নামাজে দাঁড়ালেন।

আকাশের দিকে ইমাম রেজা (আ.)’র কফিনের উড্ডয়ন

ইমাম জাওয়াদ (আ.) নামাজ তখনও শেষ করেননি। এমন সময় আমি (আবা সালাত) দেখলাম ছাদ ফাঁক বা বিদীর্ণ হয়ে সেই জায়গা দিয়ে ইমাম রেজা (আ.)’র কফিন আকাশের দিকে গেল।

আমি বললাম: হে ইবনে রাসূলুল্লাহ (সা.) তথা রাসূলের সন্তান! এখনই  (জালিম বাদশাহ) মামুন আসবেন এবং বলবেন যে হযরত রেজা (আ.)’র পবিত্র দেহের কি হল?

ইমাম জাওয়াদ বললেন: শান্ত হন! ওই পবিত্র দেহ শিগগিরই ফিরে আসবে হে আবা সালাত! কোনো নবীই বিশ্বের পূর্বাঞ্চলে মারা যান না যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁদের এবং তাঁদের প্রতিনিধির শরীর ও আত্মাকে একত্রিত না করেন, এমনকি যদি তাঁর ওয়াসি, প্রতিনিধি বা খলিফা বিশ্বের পূর্বাঞ্চলেও মারা যান। (মহানবী-সা.-এর প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর সঙ্গে ইমামের সাক্ষাতের ইঙ্গিত) 

এরপর আবারও ঘরের ছাদ ফাঁক হল এবং সেখান দিয়ে ইমাম রেজা (আ.)’র কফিন আবারও মাটিতে অবতরণ করল।

এরপর ইমাম জাওয়াদ (আ.) পিতার পবিত্র দেহকে কফিন থেকে বের করেন এবং সেই আগের অবস্থার মত তাঁকে এমনভাবে বিছানায় রাখেন যে মনে হল যেন, গোসলও দেয়া হয়নি ও কাফনও পরানো হয়নি। এরপর বললেন: হে আবা সালাত! উঠুন এবং মামুনের জন্য দরজা খুলে দিন।

ইমাম রেজা (আ.)’র পবিত্র লাশ মুবারকের পাশে বাদশাহ মামুন

হঠাৎ মামুন তার ভৃত্য বা দাসদের নিয়ে ক্রন্দনরত অবস্থায় ও ফুলে-ওঠা চোখ নিয়ে প্রবেশ করে ইমাম রেজা (আ.)’র ঘরে। সে নিজের মাথা চাপড়াতে চাপড়াতে তথা নিজের মাথায় হাত দিয়ে আঘাত করতে করতে ইমাম রেজা (আ.)’র পবিত্র মাথার পাশে বসল ও  ইমামের লাশ মুবারককে সুসজ্জিত করে দাফন করার নির্দেশ দিল।

আবা সালাত আরো বলেন, ইমাম রেজা (আ.) আমাকে যা যা বলেছিলেন তার সবই ঘটেছিল। মামুন (সেসব দেখে) বলত: আমরা সব সময়ই হযরত রেজার (আ.) জীবিত অবস্থায় তাঁর অনেক কারামাত বা অলৌকিক ঘটনা দেখেছি, আর এখন তিনি তাঁর মৃত্যুর পরও  সেইসব কারামাত বা অলৌকিক ঘটনাগুলো আমাদের দেখাচ্ছেন।

মামুনের মন্ত্রী তাকে বলল: আপনি কি বুঝেছেন ইমাম রেজা (আ.) আপনাকে কী দেখালেন?

- না,

-  তিনি এইসব ছোট ছোট মাছ ও বড় মাছ দেখানোর মাধ্যমে এটা বলতে চেয়েছেন যে, আপনাদের বনি আব্বাস রাজবংশের রাজত্ব ব্যাপকতা ও দীর্ঘস্থায়ীত্ব পাওয়া সত্ত্বেও এইসব ছোট ছোট মাছের মত এবং যখন আপনাদের সময় ফুরিয়ে যাবে তখন আল্লাহ নবী বংশ তথা আমাদের আহলে বাইতের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে তোমাদের ওপর কর্তৃত্বশীল করবেন ও তিনি তোমাদের ধ্বংস করবেন।

-  ঠিকই বলেছেন। (মামুন বলল)

 এরপর মামুন আমাকে (আবা সালাত) বলল: সেটা কি দোয়া ছিল যেটা আপনি পড়েছেন?

আমি বললাম: আল্লাহর কসম! আমি সেই দোয়া পড়ার পরপরই তা ভুলে গেছি। আর আসলেই তা ভুলে গিয়েছিলাম।"

ইমাম রেজা (আ.)'র  আরো অনেক অলৌকিক ঘটনা বা মু’জেজা রয়েছে। যেমন, অন্য ইমামদের মত তিনিও পৃথিবীর সব জাতির ভাষায় বিশুদ্ধভাবে কথা বলতে পারতেন। এ ছাড়াও ইমামের দেয়া জামার স্পর্শে এক ব্যক্তির দাসীর অন্ধত্ব মোচন ; কোনো এক ব্যক্তির মৃত্যু কখন হবে তা বলে দেয়া;  ইমামের নিজ হাতে মাটি খুঁড়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত করা ও সেই ঝরনা আজো বহমান থাকা; ইমামের সাহাবী রাইয়ানকে তার মনের আশা অনুযায়ী তার মেয়েদের জন্য গয়না কিনতে অর্থ দেয়া ও কাফনের জন্য তাকে নিজের জামাও দেয়া যদিও রাইয়ান ইমামের কাছ থেকে বিদায় নেয়ার সময় তার মনে অতীতের লালিত এইসব ইচ্ছার কথা বলতে ভুলে গিয়েছিল ; ইমামের মাজার জিয়ারত করতে এসে বোবা মেয়ের বাক-শক্তি লাভ, ইমামের জীবিত অবস্থায় ডাকাতদের পাল্লায় পড়া (মুখ ও জিহ্বায়) আহত ইমাম ভক্ত এক ব্যক্তিকে স্বপ্নযোগে (তার মুখ ও জিহ্বার) ক্ষত সারিয়ে তোলার ওষুধ বানানোর পদ্ধতি বলে দেয়া  এবং পরে সে সরাসরি ইমামের সঙ্গে দেখা করলে ইমাম তাকে ওই স্বপ্নের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আবারও ওষুধ বানানোর সেই একই পদ্ধতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন..... ইত্যাদি। #

পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/মো.আবুসাঈদ/২৪

২০১৮-০৭-২৪ ২০:২৬ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য