নভেম্বর ৩০, ২০২১ ১৭:৫৪ Asia/Dhaka

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বিএনপি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ওপর ভর করে মারামারি, হানাহানি সৃষ্টি করেছে।’  

আজ (মঙ্গলবার) আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি ঘোমটা পরে প্রতীক ছাড়া নির্বাচন করছে। তারা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের আশ্রয় করে মারামারি করছে।’

ওবায়দুল কাদের

ওদিকে, জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের মন্তব্য করেছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যেভাবে সহিংসতা হচ্ছে তা সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনে চর দখলের মতো কেন্দ্র দখলের মহড়া হচ্ছে। হামলা পাল্টা হামলা আর খুনোখুনিতে ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে গ্রামাঞ্চলে।

আজ (সোমবার) দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ের মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার (বিপিইউএম) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জাপা চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মানুষ খুনোখুনির নির্বাচন চায় না। কোথাও কোথাও নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগও রয়েছে।

জিএম কাদের বলেন, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে কমিশন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে অস্ত্রের মহড়া দেখে সাধারণ মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছে।

আগামী নির্বাচনগুলো যেন অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর হয় সেজন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের

ওদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক-প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রণব কুমার পান্ডে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ওপর দীর্ঘ দেড় যুগের গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে এক নিবন্ধে লিখেছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা হেরে গেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে। এর অর্থ হচ্ছে বিদ্রোহী প্রার্থীরা অবশ্যই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর চেয়ে বেশী জনপ্রিয়। 

একটি জাতীয় দৈনিকে স্বনামে প্রকাশিত নিবন্ধে অধ্যাপক পান্ডে উল্লেখ করেছেন,  বিএনপির নির্বাচন বর্জন এবারের ইউনিয়ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। কোথাও কোথাও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। আর অন্যত্র বিএনপি এবং তাদের স্থানীয় নেতৃত্ব আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রদানের কৌশল গ্রহণ করেছে। এটি স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের কোন্দলকে আরও উসকে দিয়েছে।  

তাছাড়া, সাংগঠনিকভাবে স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের কোন্দল এবং দলীয় প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন্দ্র থেকে পাঠানো নির্দেশও জনগণের মধ্যে তেমন আবেদন সৃষ্টি করতে পারেনি। এমনও দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে এমপি এবং স্থানীয় নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। এর ফলে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীরা অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে দলভিত্তিক নির্বাচন সারা পৃথিবীতে অনুশীলন করা হলেও বাংলাদেশে এই পদ্ধতি দলীয় কোন্দলকে বৃদ্ধি করেছে। ফলে সাংগঠনিকভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

ট্যাগ