ডিসেম্বর ০২, ২০২১ ১৮:১০ Asia/Dhaka

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির দু’যুগ পুর্তিতে চুক্তি স্বাক্ষরকারি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক নয়। ঊল্টো তারা দমন-নিপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে।

আজ (বৃহস্পতিবার) পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে জেএসএস ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম আয়োজিত অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা ক্ষোভের সাথে বলেন, চুক্তি বাস্তবায়ন বাদ দিয়ে সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। জেএসএস কর্মীদের একের পর এক মামলায় জড়ানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাড়ে ৩০০ মামলা হয়েছে।

পার্বত্য শান্তি বাহিনীর সাবেক এ গেরিলা নেতা বলেন, পাহাড়ের মানুষের ওপর যে নির্যাতন ও দমন-পীড়ন চলছে, তা বর্ণনাতীত। বাইরে থেকে দেখে কিছুই বোঝা যাবে না। কিন্তু পাহাড়ে গেলে বোঝা যাবে, পাহাড়ি মানুষদের কষ্ট–বেদনার কথা।

সন্তু লারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন এক বড় কারাগার। সেখানে হাজতিরা আজ যেমন করে থাকে, তেমন করে আছে পাহাড়ের মানুষ।

সাবেক এই সশস্ত্র যোদ্ধা বলেন, পাহাড় অশান্ত থাকলে বাংলাদেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে না। কাউকে কষ্টে রেখে ভালো থাকা যায় না। সরকারের প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন করার দাবি আবারও জানান সন্তু লারমা।

সন্তু লারমা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা একটা বড় সমস্যা ছিল। সেই সমস্যা সমাধানে আমি সরকারকে সহযোগিতা করেছি। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমি সেই সহযোগিতা দিয়েছি। কিন্তু আজ চুক্তির ২৪ বছর পর মনে হচ্ছে, চুক্তি করে আমি অপরাধ করেছি। আমাকে এবং জেএসএসকে এখন সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।’

সন্তু লারমা আরো অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার জন্য নয়, শুধু অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের জন্য আমরা করেছিলাম; কিন্তু এরপর আমরা চুক্তি করেছি। আমাদের যদি অসৎ উদ্দেশ্য থাকত, তাহলে চুক্তি করতাম না। কিন্তু সেই চুক্তি বাস্তবায়ন না করে আজ পদে পদে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে চরম বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’

এ  প্রসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রী বীর বাহাদুর দোষারোপের পথ ছেড়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আন্তরিকতার সাথে চুক্তি বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানান।  

পার্বত্য শান্তিচূক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান (ফাইল ফটো)

এদিকে, রাজধানীতে আজকের আলচনা অনুষ্ঠানে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি আজ বিপন্ন। পাহাড় বিপন্ন এবং বিপন্ন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। চুক্তি বাস্তবায়ন না করে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এটা অত্যন্ত লজ্জার কথা।

পার্বত্য শান্তি চুক্তির অন্যাতম নেপথ্য নায়ক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির এই দিবস আনন্দের উৎস হতে পারত। কিন্তু এ দিবসে কাউকে অভিনন্দন জানানো যাচ্ছে না। চুক্তির বাস্তবায়নের করুণ হাল এর জন্য দায়ী।

সাবেক বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, পর্যটনের নামে পার্বত্য চট্টগ্রামে ফাইভ স্টার হোটেল হচ্ছে। পাহাড়িদের ভূমির অধিকার লঙ্ঘন করে এসব কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে যাঁরা বাধা দেন, তাঁরা রাষ্ট্রদ্রোহী। চুক্তিটি কোনো দুই ব্যক্তির চুক্তি ছিল না। এই চুক্তি করেছিল রাষ্ট্র। তাই রাষ্ট্রকে তার কথা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে আলোচকদের মধ্যে আরও ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, সাদেকা হালিম, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ, আইনজীবী সারা হোসেন প্রমুখ।#

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ