ডিসেম্বর ০৭, ২০২১ ১৯:২৬ Asia/Dhaka
  • অমীমাংসিত বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছি: শ্রিংলা

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ-বাংলাদেশ ও ভারত-তাদের অমীমাংসিত বিষয়গুলো সুরাহার পাশাপাশি ভৌগোলিগ সংযোগ, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন ও ঢাকা সফররত ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার মধ্যে এই আলোচনা হয়। দুই প্রতিবেশী দেশের পররাষ্ট্র সচিবেরা তাঁদের মধ্যকার আলোচনার পর গণমাধ্যমকে ব্রিফিং করে এসব তথ্য জানান।

দুই দিনের সফরে আজ সকালে ঢাকায় আসেন হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, তিনি আজ দুপুরে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি।

সফরের দ্বিতীয় দিন কাল বুধবার ভারতের পররাষ্ট্রসচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এদিনই তিনি দিল্লি ফিরে যাবেন।

বৈঠক সম্পর্ক পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আমরা প্রায় ৫০ মিনিট আলোচনা করেছি। ভারতের সঙ্গে আমাদের অমীমাংসিত ও বহুমাত্রিক অনেক বিষয় রয়েছে। সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। সামনের দিনে কীভাবে এগিয়ে যাব, সেটা নিয়ে আলোচনা করেছি।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘একইভাবে অমীমাংসিত বিষয় যেগুলো আছে, সেগুলোর কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের সীমান্ত কীভাবে আরও শান্তিপূর্ণ করা যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের বাণিজ্য বাড়ানো, করোনা মোকাবিলায় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। করোনার আরও নতুন নতুন ভেরিয়েন্ট আসতে পারে। তাই এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। বাংলাদেশ কখনোই নিরাপদ থাকবে না, যদি ভারত নিরাপদ না থাকে।’

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বাংলায় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বলেন, ‘বাংলাদেশে আসতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমি আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করব। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করব। সন্ধ্যায় ভারতীয় হাইকমিশনারের বাসায় পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করব। কাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করব।

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক ভালোভাবে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণ ১৯৭১ সালে জীবন উৎসর্গ করেছিল। স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছিল। আপনাদের বিজয় দিবসের অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত। ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে আসছেন। এটা তাঁর প্রথম বাংলাদেশ সফর। গত মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় এসেছিলেন। সেটি ছিল কোভিডের সময় তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। এতে সম্পর্কের তাৎপর্য প্রতিফলিত। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়ে প্রবেশ করেছি। দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্রে বড় কোনো বাধা নেই। কীভাবে সামনের দিনগুলোতে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল সহযোগিতা নিয়ে কথা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যুক্ত। এতে দুই দেশের জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা জানান, ১৯৬৫ সালের আগের ছয়টি সংযুক্তি পথের  মধ্যে পাঁচটি চালু হয়েছে, ষষ্ঠটি আগামী বছর শেষ হবে। আখাউড়া-আগরতলা নতুন প্রকল্প আগামী বছর চালু হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুব শিগগির দিল্লি সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘আমরা চাই তিনি ভারত সফর করুন। গত মার্চে ঢাকা সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। দুই দেশের মধ্যে এ সফর সুবিধাজনক কোন সময়ে করা যায়, তা নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশেষ করে ওমিক্রনের কারণে উদ্বেগ আছে। তবে যত শিগগির সম্ভব তিনি ভারত সফর করুন, আমরা এটা চাই।’

এর আগে গতকাল ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীর ৫০ বছর’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন  প্রতিবেশী দুটি  দেশের সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়ে এই দুই দেশের ভেতর চলাচলের ক্ষেত্রে ভিসা প্রথা তুলে দেওয়া উচিত।দুই দেশের ভেতর চলাফেরায় বাধা থাকা উচিত নয়। একসময় এ দুই দেশের মধ্যে চলাচলে ভিসা প্রয়োজন হবে না-এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে ভারতের কূটনৈতিক স্বীকৃতিদানের ৫০তম বার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে সোমবার দুপুরে ওয়েবিনারটি আয়োজন করে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

ট্যাগ