ডিসেম্বর ০৮, ২০২১ ১৮:৫৩ Asia/Dhaka

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও একবার তীর্যক মন্তব্য করে বলেছেন, বিএনপি এত দিন পর একটা সুযোগ পেয়েছে। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার এই দাবিতে তারা আন্দোলন করছে। খুব ভালো, তারা আন্দোলন করুক। কিন্তু আমার যতটুকু করার ছিল সেটা কিন্তু করেছি।

বুধবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আওয়ামী যুবলীগের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি বিএনপির নেতাদের জিজ্ঞাসা করি, তারা যে সহানুভূতি দেখাতে বলে, তারা যে সহযোগিতা চায়, খালেদা জিয়া কী আচরণ করেছে? ওদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন জানিয়ে  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বেগম জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা কারাতে আইন বাধা নয়, সরকারের স্বৈরাচারি মনোভাবই এজন্য দায়ী।

আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তার অবস্থা সংকটাপন্ন। তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে এবং পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা হয়নি, এই কারণে তার এ অবস্থা। তিনি গত ২৬ দিন যাবত আইসিইউতে রয়েছেন। অনতিবিলম্বে তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানো দরকার।’ এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী  বলেছেন, আজ বাংলাদেশে সব থেকে দামি যে হাসপাতাল, যে হাসপাতাল সব থেকে ব্যয়বহুল, সেখানেই কিন্তু তার চিকিৎসা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্যাটকোর কেস তার বিরুদ্ধে, নাইকোর কেস তার বিরুদ্ধে । সিঙ্গাপুরে তার এবং তার ছেলের দুর্নীতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাই বের করেছে। সেই কেসগুলোতো আছেই। সবচেয়ে বড় কথা, এতিমদের জন্য টাকা এসেছিল, সেই এতিমদের টাকা এতিমদের হাতে কোনোদিন পৌঁছায় নাই। সে টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে রেখে দিয়েছে। খালেদা জিয়াই ভোগ করেছে এতিমের অর্থ। কাজেই সেই সাজা পেয়েছে এবং সেই সাজা সে ভোগ করছে। তারপর সে কারাগারে ছিল। খালেদা জিয়ার বড় বোন আর ভাই আমার কাছে এসেছে। বোন, বোনের স্বামী, ভাই এরা সব এসেছিল। আসলো যখন খুব স্বাভাবিকভাবে রেহানাও আমার সাথে উপস্থিত ছিল। একটা মানবিক দিক থেকে নির্বাহী যে ক্ষমতাটা আমার আছে সেটার মাধ্যমে তার সাজাটা স্থগিত করে তাকে বাসায় থাকার অনুমতি এবং চিকিৎসার অনুমতি দিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, এরশাদকে তো কারাগারে বন্দি করে রেখেছিল। তাকে চিকিৎসার জন্য কোনোদিনও সুযোগ করে দেয়নি। রওশন এরশাদকে দেয়নি। আবার জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় আমাদের সাজেদা চৌধুরীর অপারেশন হয়েছিল। ঘা শুকায়নি। সেই ব্যান্ডেজ অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করে জিয়াউর রহমান জেলে ভরেছিল। ঠিক একই অবস্থা মতিয়া চৌধুরীর। তাকেও তখন জেলে দিয়েছিল। তারও তখন টিবি হয়েছিল, অসুস্থ ছিল। তাকেও জেলে দিয়েছিল। বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে এ রকম নান ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।#

 

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ট্যাগ