ডিসেম্বর ০৮, ২০২১ ২০:৫৪ Asia/Dhaka
  • রায়ে প্রমাণিত হয়েছে, দেশে আইনের শাসন আছে: আইনমন্ত্রী

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় দেশে আইনের শাসন রয়েছে বলেই প্রমাণ করে-এমনটাই মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

আজ বুধবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ নৃশংস হত্যাকান্ডের  মামলায় ছাত্রলীগের সাবেক ২০ নেতাকর্মীর ফাঁসি ও ৫ জনের যাবজ্জীবন  দণ্ডাদেশ দিয়ে  রায় ঘোষণা করেন।

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, কিছু কিছু মামলা আছে, যেগুলো সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দেয়। সরকারের দায়িত্ব এসব মামলা দ্রুত বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে সমাজকে আশ্বস্ত করা-আইনের শাসন দেশে বিরাজ করছে।

আবরার হত্যা মামলার রায়ে প্রকৃত বিচার নিশ্চিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, এই মামলায় ২৫ আসামির মধ্যে তিন জন শুরু থেকেই পলাতক। বাকি ২২ জন আদালতে উপস্থিত ছিল। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় সন্দেহাতীতভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় মামলাটির রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এর আগে আজ সকালে রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, শিবির সন্দেহে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে আবরারকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা বাংলাদেশের সকলকে ব্যথিত করেছে। এ ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে এজন্য তাদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হলো।

রায়ের পর  আবরারের পিতা বরকত উল্লাহ বলেন, ‘এ রায়ে আমরা খুশি। তবে এ রায় উচ্চ আদালতে বহাল থাকলে আরো বেশি খুশি হবো।’

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন আবরার ফাহাদ রাব্বী। এর জের ধরে পরদিন ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে তার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী। 

তারা আবরারের ছাত্রলিগের নেতাদের দখলে থাকা  ২০১১ নম্বর রুমে নিয়ে আসে। এরপর ওই কক্ষে আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার মৃতদেহ  উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বুয়েটের ২৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

আদালতে পুলিশের দেওয়া অভিযোপত্রে  বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, ‘শিবির সন্দেহে’ তাকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ।

এর পর গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। এ মামলায় ৬০ জনের মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

মামলার আট আসামি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। #

 

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

 

 

ট্যাগ