ডিসেম্বর ৩০, ২০২১ ১৮:৪৮ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে বলেছেন, "এ বিষয়ে তার আবেদন নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। এখন নতুন করে ওই আবেদন বিবেচনার সুযোগ নেই। তাকে আইন অনুযায়ী জেলে গিয়েই আবেদন করতে হবে, এটাই আইনের কথা।"

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিদেশি গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ওভারসিজ করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী মানবিক বিবেচনায় নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছেন। মানবিক বিবেচনা তো আগেই হয়ে গেছে। এতো কিছু করার পরও কেন আবার এ প্রশ্ন উঠবে যে, আমরা মানবিক হচ্ছি না। আমি যেটা বলেছি, সেটা আইনের দিক থেকে বলেছি। এখন মানবিকতা দেখাতে গেলেও আমাকে আইনের পথেই যেতে হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাহী আদেশে অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তিতে শর্ত ছিল, বেগম জিয়াকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। বাসায় থাকতে হবে, হাসপাতালে যেতে পারবেন না এমন না। তিনি কিন্তু হাসপাতালে আছেন। তারপরও কিন্তু এখন নতুন করে করা আবেদনে সেটি উল্লেখ করা হয়নি। এখন কথা হলো, সরকার তো আগের আবেদন নিষ্পত্তি করেছেন। এখন কি নিষ্পত্তি হওয়া আবেদন আবারও পুনর্বিবেচনা করা যায়?

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, আইনের বাইরে গিয়ে খালেদা জিয়ার প্রতি আর মানবিক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

রুহুল কবির রিজভী

আইনমন্ত্রী আইনের ‘বিকৃত’ ব্যাখ্যা দিচ্ছেন: বিএনপি

এদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর বিষয়ে আইনমন্ত্রী বিদ্যমান আইনের ‘বিকৃত’ ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

আজকের এ দিনে, 'একাদশ নির্বাচনের ভোট কারচুপির তৃতীয় বর্ষপূর্তি'তে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী বলেন, ‘আইনমন্ত্রী এটাতো আপনার নিজের কথা না। আইনের বিধান আছে। কিন্তু শেখ হাসিনা আপনাকে যা শিখিয়ে দিয়েছেন আপনি সেই কথাই বলছেন। আপনি আইনের বিকৃত ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আজকে আর এক ফেরিওয়ালা বেরিয়েছে। আইনের বইয়ে যা লেখা থাক উনি ওটা বলবেন না। তার নাম আনিসুল হক, আইনমন্ত্রী। দেশের বরেণ্য আইনজীবীরা বলছেন, এ লোকটা আইনের অপব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘তার পাকস্থলী থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, তার ডাক্তাররা বলেছেন, তার জীবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময়ে একটা বড় বিপদ ঘটে যাবে। তারপরেও এত নির্দয় এই প্রধানমন্ত্রী আর তার আইনমন্ত্রী। আইনমন্ত্রী গতকাল বলে দিয়েছেন যে আইনে নেই বিদেশে চিকিৎসা করা। তিনি বলেন, ‘আজকে কেন এ দিবসটি পালন করতে হচ্ছে। তিন/চার বছর আগেতো পালন করিনি। আওয়ামী লীগ প্রতি মুহূর্তে উন্নয়নের কথা বলে। তারা বলে বেড়ায় উড়াল সেতু, ফ্লাইওভার কত কথা। কিন্তু আসল উন্নয়নের কথা বলে না। তারা জোর করে ১২ বছর ক্ষমতায় আছে। এ ১১/১২ বছরে ১১ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। আর আমরা দেখলাম শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৩০ ডিসেম্বর দিনের ভোট রাতে পাচার হয়ে গেল।’

রিজভী আরও বলেন, ‘গোটা জাতি আজকে তাদের ভোট চোর বলে স্লোগান দিচ্ছে। তারপরও ওরা গলাবাজি করে। যুগ যুগ ধরে প্রচলিত চোরের মায়ের বড় গলা। আজকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অনেক বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার নামে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, ব্যাংকে তাদের টাকা ফ্রিজ করেছে। বাংলাদেশের অনেক টাকা ডলারে পরিণত করে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভে জমা আছে, সেটা ফেরত নিতে বলেছে আমেরিকা। ধিক্কার জানিয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী তাদের গালাগালি করছেন।’

এ সময় বাংলাদেশের বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবী মামলাসহ সরকারের দমননীতির কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

ট্যাগ