জানুয়ারি ১১, ২০২২ ১১:৪৯ Asia/Dhaka
  • ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে তিনদিনেই হেরে গেল বাংলাদেশ, বিফলে লিটনের সেঞ্চুরি

ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে নিউজিল্যান্ডের কাছে ইনিংস ও ১১৭ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ফলে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের ৮ উইকেটে হারের ধাক্কা সামলে সিরিজ ড্র করতে পারল টেস্টের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ৫২১ রান করে নিউজিল্যান্ড। ‍দুই ইনিংস মিলিয়েও ওই রান করতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১২৬ ও পরের ইনিংসে ২৭৮ রান করে অলআউট হয় মুমিনুল হকের দল। 

তৃতীয় দিনে ফলোঅন করতে নেমে দলীয় ২৭ রানেই সাদমান ইসলামের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এই ওপেনার ব্যাটার ২১ রান করে কাইল জেমিসনের বলে উইকেটরক্ষক টম ব্ল্যান্ডেলের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। এরপর মোহাম্মদ নাঈম ও নাজমুল হোসেন শান্ত ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেন।

নাঈম ও শান্ত মিলে ৪৪ রানের জুটি গড়ার পর বিচ্ছিন্ন হন। নেইল ওয়াগনারের বলে ট্রেন্ট বোল্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে শান্তর ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান। এরপর দলের সংগ্রহ ১০০ হওয়ার পর নাঈম (২৪) বিদায় নেন সেই ওয়াগনারের শিকার হয়েই। 

বাংলাদেশের হারের দিনে  আশার আলো হয়ে ছিলেন লিটন দাস

নাঈমের সঙ্গে জুটি গড়ে দলের বিপর্যয়ে হাল ধরার চেষ্টা করেছিলেন মুমিনুল হক। কিন্তু জুটিতে ৩৪ রানের বেশি আসেনি। এরপর মুমিনুলও (৩৭) ওয়াগনারের বলেই বিদায়ী টেস্ট খেলতে নামা রস টেইলরের হাতে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন। এরপর ৫ রান যোগ হতেই ওয়াগনারের তৃতীয় শিকার হয়ে ফেরেন তরুণ ব্যাটার ইয়াসির আলী (২)।

১২৮ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন লিটন ও নুরুল। ধীরেসুস্থে শুরু করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রান তোলার গতি বাড়ান দুজনেই। এর মধ্যে লিটন আগ্রাসী ব্যাটিং করে তুলে নেন দারুণ এক ফিফটি। মাত্র ৬৯ বলে ফিফটির দেখা পান তিনি। এই ডানহাতি ব্যাটার ফিফটি আগে জেমিসনের এক ওভারে ২ চার ও এক ছক্কা হাঁকান। ফিফটির পর ট্রেন্ট বোল্টের ওভারে ৪ চারে নেন ১৬ রান। 

নুরুল আশা জাগিয়েও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। কিউই মিডিয়াম পেসার ডেরিল মিচেলের বলে বাজে শট খেলে ওয়াগনারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি। এর আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৫৪ বলে ৩৬ রান। লিটন ও নুরুলের জুটিতে ১০১ রান আসে। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ৩ রান করেই সাজঘরে ফেরেন।

‘প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ’ হয়েছেন টম লাথাম।

মিরাজ বিদায় নিলেও লিটন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন মাত্র ১০৫ বলে। তবে সেঞ্চুরির পর খুব বেশিদূর যেতে পারেননি লিটন। জেমিসনের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন ১৪টি চার ও ১ ছক্কায় ১০২ রান করে। যদিও রিভিও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। এরপর জেমিসনের বলে সাউদির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শরিফুল ইসলাম (০)। 

বিদায়ী টেস্টে বল হাতে তুলে নেন টেইলর। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ওভারের তৃতীয় বলেই ইবাদত হোসেনের উইকেটও তুলে নেন তিনি। আর তাতেই গুঁটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস। ১ম ইনিংসে ২৫২ রান ও ৬টি ক্যাচ ধরে ‘প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ’ হয়েছেন টম লাথাম। আর পুরো সিরিজে ২৪৪ রান করে ‘প্লেয়ার অফ দ্যা সিরিজ’ হয়েছেন কনওয়ে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

ট্যাগ