জানুয়ারি ১৫, ২০২২ ১৪:৩৯ Asia/Dhaka

আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন (নাসিক)। ইভিএমের মাধ্যমে রোববার (১৬ জানুয়ারি) ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে একটানা চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে।

আজ (শনিবার) বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন্সেস থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের নির্দশনা দেন পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম। এসময় নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে ভোট কেন্দ্রগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে ভোটের সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

গতকাল শুক্রবার শেষ দিনের প্রচারণায়  আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের পক্ষেই গণজোয়ার লক্ষ্য করা গেছে। তবে দু’জনেরই রয়েছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ।

আইভী বলছেন, তার ঘরে বাইরে সবাই তার বিরুদ্ধে এক। তবুও তার বিজয় সুনিশ্চিত। কারণ জনতা তার সাথে আছে। অপর দিকে তৈমূর বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণনা সঠিকভাবে হলে তার বিজয় হবে। জনতা তাকে গ্রহণ করেছেন। তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।

এদিকে আইভীকে জেতাতে মরিয়া আওয়ামী লীগ। তাদের অনেক কর্মকাণ্ডে ভোটের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুক্রবার রাতে জেলা প্রশাসকের সাথে নানকসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও নানক বলেছেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে তারা কাজ করছেন। ডিসির সাথে যে বৈঠক করছেন সেটা কোনো গোপন বৈঠক না।

প্রচারণার শেষ দিনে গতকাল নির্বাচনী শোডাউন শেষে তৈমূর আলম খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্থাপিত সিসি টিভি বন্ধ রাখার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাপ দেয়া হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে তাদের ভোট চুরির উদ্দেশ্য আছে।

তিনি বলেন, "১৬ ডিসেম্বর বিএনপির বিজয় র‍্যালিতে যোগদান থেকে বিরত থেকেছি রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশে। অথচ সরকারি দলের প্রার্থী এমপিদের নিয়ে সমাবেশ করেছে। তারা আমাকে আমার কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে তিনটি অভিযোগ দিয়েছি। তোরণ নির্মাণ ও সড়ক দখল করে মার্কা স্থাপন করা আচরণবিধির লঙ্ঘন। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছিল তারা তোরণ ভেঙে দিবে। কিন্তু তারা সেটা করেনি। এ ছাড়াও অন্যান্য আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারেও বারবার অবহিত করা হয়েছে। তারা শুধু আশ্বাস দিয়েছে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। জনগণের মনের ধারণা নির্বাচন কমিশন একটা ঠুঁটো জগন্নাথ তারা সেই পথেই হাঁটছেন। তারপরেও আমি নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে চাই।"

তৈমূর বলেন, "নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হোটেল চেক করলেই দেখতে পারবেন বিভিন্ন জেলার সরকারদলীয় নেতারা এখানে অবস্থান করছেন। সার্কিট হাউজ, ডাকবাংলোকে নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আইনানুসারে সরকারি কোনো গাড়ি কোনো ডাকবাংলো ব্যবহার করার নিয়ম নেই। এটা আচরণবিধি লঙ্ঘন। এই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেই আমাদের সরকারি দলের মেহমানরা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।"

তিনি আরো বলেন, "বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক তার কিছু সঙ্গী নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পলিশ সুপারের সাথে আলাপ করেছেন। তিনি অবশ্য বলেছেন তিনি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে যাননি। কিন্তু তার বক্তব্য ও দেখা করতে যাওয়ার সাথে কোনো সমন্বয় নেই। প্রথমত তিনি নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। তিনি নারায়ণগঞ্জের নাগরিকও না। এটা আইনগনভাবে আমি অন্যায় মনে করি। তিনি জনমনে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছেন। এটা একজন উচ্চপর্যায়ের সম্মানিত নেতার কাছ থেকে আমরা আশা করি না।"

তৈমূর আরও বলেন, "নারায়ণগঞ্জে যদি ব্যালটের মাধ্যমে আশার প্রতিফলন ঘটে এতে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমর্যাদা উজ্জ্বল হবে। নির্বাচন কমিশনকে আমরা অত্যন্ত আস্থার সাথে অনেকগুলো অভিযোগ করেছিলাম। সে অভিযোগের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বরং সেসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।"

এ দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে শতাধিক কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ভোটের পরিবেশ সুশৃঙ্খল রাখতে গতকাল (শুক্রবার) থেকেই অভিযানে নেমেছে পুলিশ। বিভিন্ন সময় নাশকতার মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে জানিয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, নির্বাচনে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবে। ভোটের সময় দেখবেন, কেন্দ্রে ভোটারের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশি দেখা যাবে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শীতলক্ষ্যা নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা ব্যবসা কেন্দ্র ও হোসিয়ারী নগরী নারায়ণগঞ্জে পৌরসভা গঠিত হয় ১৮৭৬ সালে। এর ১৩৫ বছর পর ২০১১ সালে পৌরসভাকে উন্নীত করা হয় সিটি করপোরেশনে। এবার তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই সিটির নির্বাচন। এবার নারায়ণগঞ্জ নগরীতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ জন।

এবারের নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন। এছাড়া কাউন্সিল পদে ১৪৮ প্রার্থী ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩২ জন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী (নৌকা) ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (হাতী) হিসেবে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাসুম বিল্লাহ (হাতপাখা), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির রাশেদ ফেরদৌস (হাতঘড়ি), খেলাফত মজলিসের এ বি এম সিরাজুল মামুন (দেয়ালঘড়ি), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জসীমউদ্দীন (বটগাছ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ইসলাম বাবু (ঘোড়া)।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

ট্যাগ