জানুয়ারি ১৭, ২০২২ ১৯:৫৭ Asia/Dhaka
  • নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের কাছে আওয়ামী লীগের প্রস্তাব তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের কাছে আওয়ামী লীগের প্রস্তাব তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে সংলাপে অংশ নিয়ে কমিশনের আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী করা, কমিশন গঠনে আইন করাসহ ৪ প্রস্তাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে, নতুন নির্বাচন কমিশন একটি আইনের মাধ্যমেই হবে, নাকি আগের মতো সার্চ কমিটির মাধ্যমে হবে সেটি স্পষ্ট করেনি ক্ষমতাসীন দলটি।

আজ (সোমবার) বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়। পরে এ বিষয়ে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির কাছে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ মেনে ইসি গঠনে একটি আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে সরকার এ সংক্রান্ত একটি আইনের খসড়া উত্থাপনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সাংবিধানিক ক্ষমতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে রাষ্ট্রপতি ইসি গঠনে যে ব্যবস্থা নেবেন তাতে আওয়ামী লীগের সমর্থন থাকবে। তিনি বলেন, এর আগেও দুইবার সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। এতে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ছিলো। সেই বিষয়টিও তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেছেন।

ওবায়দুল কাদের

এ সময় সাংবাদিকেরা ওবায়দুল কাদেরকে প্রশ্ন করেন আইনের মাধ্যমে না সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। এর উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, অন্য সব আইনের মতোই একই প্রক্রিয়ায় এই আইনটি পাস হবে। আওয়ামী লীগের সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে নতুন ইসি গঠনের আগেই যেন আইনটি পাস হয়। তবে আইন পাসের জন্য আওয়ামী লীগের হাতে কোনো ‘ম্যাজিক’ নেই।

ইসি গঠন নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেনসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যেরকম উপযুক্ত বিবেচনা করবেন সেভাবেই নিয়োগ দেবেন।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আওয়ামী লীগ ইসি আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে বলে মনে করে। বর্তমানে এ ধরনের আইন না থাকায় ইসি গঠনে কোনো ধরনের আইন প্রতিপালনের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সাংবিধানিক চেতনা সমুন্নত রাখতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা এবং তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারণের লক্ষ্যেই মূলত এই আইনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ ধরনের আইন প্রণয়নের জন্য আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনো সুনির্দিষ্ট উদাহরণ ছিল না। এর জন্যই আওয়ামী লীগ সার্চ কমিটির মাধ্যমে সবার মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের রীতি তৈরি করেছে। ব্যবস্থাটি এ পর্যন্ত দুই বার (২০১২ ও ২০১৭ সালে) অনুশীলন করা হয়েছে। দু’বারই দেশের সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এই অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন। এই রীতিটির আলোকে এবং এই প্রক্রিয়ালব্ধ অভিজ্ঞতা থেকে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের আলোকে একটি আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে।

এছাড়া সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে সব নির্বাচনে তথ্যপ্রযুক্তির আরও বেশি ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও মনে করছে আওয়ামী লীগ।

সংলাপে অংশ নেওয়ার নেতাদের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ ও উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান উপস্থিত ছিলেন।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

ট্যাগ