জানুয়ারি ২১, ২০২২ ১২:২৭ Asia/Dhaka
  • কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি বিষয়ক জরুরি ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক
    কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি বিষয়ক জরুরি ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক

বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে স্কুল-কলেজ ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দু’সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ (শুক্রবার) সকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি বিষয়ক জরুরি ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ভ্যাকসিন সনদ ও কোভিড টেস্ট রিপোর্ট ছাড়া কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না। ১০০ জনের বেশি মানুষ কোনো সামাজিক, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে তা আশঙ্কাজনক। স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে এমনটা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঢাকার হাসপাতালগুলোর বেড এক/তৃতীয়াংশ পূরণ হয়ে গেছে। আর তাই প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে আগামী দুই সপ্তাহ স্কুল, কলেজ বন্ধ রাখা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনুরূপভাবে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৫ নির্দেশনা

জাহিদ মালেকের বক্তব্যের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিষয়ে বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখার যুগ্মসচিব মো. সাবিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, সেগুলো হলো :

১. ২১ জানুয়ারি ২০২২ থেকে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত সব স্কুল, কলেজ ও সমপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

২. বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

৩. সামাজিক/রাজনৈতিক/ধর্মীয়/রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি জনসমাবেশ করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে যারা যোগদান করবে, তাদের অব্যশই টিকা সনদ/২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর সার্টিফিকেট আনতে হবে।

৪. সরকারি/বেসরকারি অফিস, শিল্প কারখানাগুলোতে কর্মকর্তা/কর্মচারীদের টিকা সনদ গ্রহণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দায়িত্ব বহন করবে।

৫. বাজার/শপিংমল, মসজিদ, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশনসহ সবধরনের জনসমাবেশে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহারসহ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে।

এসব বিষয় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পর্যবেক্ষণ করবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের মার্চের মাঝামাঝিতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা হয়। দফায় দফায় সেই ছুটি বাড়ানো হয়। ফলে প্রায় দেড় বছর বন্ধ ছিল স্কুল-কলেজগুলো। করোনা সংক্রমণ কমতে শুরু করলে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে খুলে দেওয়া হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। তবে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের হার এখন ২৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। গত দুই সপ্তাহ যাবত এই হার বেশ দ্রুতগতিতে বাড়ছে।

ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর জন্য সরকার ১১ দফা বিধিনিষেধও জারি করেছে, তবে সেটা খুব এখনও খুব ভালোভাবে কার্যকর হতে দেখা যাচ্ছে না। এরইমধ্যে আজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা এল।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

ট্যাগ