জানুয়ারি ২৬, ২০২২ ১৯:২৯ Asia/Dhaka
  • দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ
    দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ

কানাডায় যেসব বাংলাদেশি নাগরিকের বাড়ি রয়েছে, তাদের নামের তালিকা বারবার চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। আজ (বুধবার) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডায় শতশত বাংলাদেশির টাকায় গড়ে উঠেছে অভিজাত পল্লী যা 'বেগমপাড়া' নামেই পরিচিত। অর্থ পাচারকারীদের বেশিরভাগই আমলা, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী। অর্থ পাচারকারীদের তালিকা ও তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে স্বপ্রণোদিত হয়ে ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর রুল জারি করেছিল উচ্চ আদালত।

এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার করে সম্পদ বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব গ্রহণকারী বাংলাদেশিদের তালিকা চেয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রথম দফায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল দুদক।

এরপর কানাডা, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয়কারী বাংলাদেশিদের তালিকা চেয়ে ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবারও চিঠি দেয় দুদক।

কানাডার বেগমপাড়া বলে পরিচিত বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন বাড়ি প্রসঙ্গে   পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, তাদের কাছে তালিকা আছে।

তবে ওই তালিকা নিয়ে কতদূর কাজ কাজ হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কানাডায় বেগম পাড়ায় কাদের বাড়ি রয়েছে, এ বিষয়ে বার বার তালিকা চেয়েও পাচ্ছি না। যিনি এ কথা বলেছিলেন, তার কাছ থেকে তালিকা চেয়েও পাচ্ছি না, আমরা কীভাবে এগিয়ে যাব? তালিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে তো আমাদের কোনো ম্যাকানিজম নেই। আমরা তালিকা পেলে অবশ্যই দেখব। যতটুকু পেয়েছি, তা নিয়ে কাজ করছি।

তিনি বলেন, আর একটি বিষয় হচ্ছে মানিলন্ডারিং বিষয়ে যত উন্নত দেশই হোক তথ্য দিতে চায় না। কারণ তাদের দেশে টাকা যাচ্ছে। তারা বলে মামলা হলে তথ্য দেবো। কিন্তু আমাদের মামলা দায়ের করার জন্যই ওই তথ্য প্রয়োজন। কোনো দেশই প্রয়োজনীয় তথ্য দিচ্ছে না।

অর্থপাচারে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য হাইকোর্টে দাখিল

এদিকে, পানামা ও প্যারাডাইস পেপারস-এ নাম আসা অর্থপাচারে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে।

আজ (বুধবার) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর পানামা ও প্যারাডাইস পেপার্সে নাম আসা অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও সিআইডিকে তা জানাতে বলা হয়।

গত ৫ ডিসেম্বর পানামা ও প্যারাডাইস পেপার্সে নাম আসা অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা পৃথক দুটি প্রতিবেদনে হাইকোর্টে দাখিল করে দুদক।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ