জানুয়ারি ২৭, ২০২২ ২০:২৫ Asia/Dhaka
  • বাম জোট আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত নির্বাচন কমিশন আইন-জনপ্রত্যাশা ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা
    বাম জোট আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত নির্বাচন কমিশন আইন-জনপ্রত্যাশা ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা

জাতীয় সংসদে নতুন একটি নির্বাচন কমিশন আইন পাশের বিরুদ্ধে বাম জোট আগামী ২৯ জানুয়ারি (শনিবার ) দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। আজ সকালে মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে বাম জোট আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত নির্বাচন কমিশন আইন-জনপ্রত্যাশা ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত ঘোষনা করা হয়।

আলচনা সভায় অংশ নিয়ে রাজনৈতিক  নেতৃবৃন্দ এবং  সুশীল সমাজের  প্রতিনিধিরা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, সরকারের নতুন নির্বাচন কমিশন আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে আর একটি অনুগত নির্বাচন কমিশন গঠন করা। যারা আগামী নির্বাচনে সরকারি দলের পক্ষে রাবার স্ট্যাম্প হিসাবে কাজ করবে। সরকারি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করবে।

বাম জোটের নেতারা বলেন, রাজনৈতিক মতৈক্য ছাড়া সরকার ও সরকারি দলের নীলনক্সা অনুযায়ী যেভাবে সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশন গঠিত হতে যাচ্ছে তা রাজনীতিতে অবিশ্বাস, অনাস্থা, বিরোধ ও বিভাজন আরও বাড়িয়ে দেবে; নির্বাচনকেন্দ্রীক সংকট আরও ঘনীভূত করবে।

মতবিনিময় সভায় সূচনা বক্তব্য পেশ করেন সভার সভাপতি জোটের সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালী অংশগ্রহণ করেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, ব্রতীর নির্বাহী প্রধান শারমিন মোর্শেদ এবং বাম জোট নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, আবদুল্লাহ কাফি রতন, মানস নন্দি, মোশরেফা মিশু, নজরুল ইসলাম, হামিদুল হক, বাচ্চু ভূইয়া, বিধান দাস প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় ড. শাহদীন মালিক বলেন, সরকারের অনুগ্রহপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিয়ে সার্চ কমিটি ও তাদের অনুগত ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন হতে যাচ্ছে। কথিত নির্বাচন আইনকে ‘সরকারি দলের পক্ষে নির্বাচনী ফলাফল নিশ্চিতকরণ আইন’ বলা যেতে পারে। একইভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকেও ‘বাক স্বাধীনতা রুদ্ধকরণ’ আইন বলা যেতে পারে। তিনি বলেন, একক কর্তৃত্বেই এসব কথিত আইন তৈরী হচ্ছে, যা লজ্জাকর ও গ্লানিকর এবং মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সার্চ কমিটির প্রজ্ঞাপনকে এখন আইনী আবরণ দেয়া হচ্ছে। বাস্তবে অনুসন্ধান কমিটির যোগ্য ব্যক্তিদের অনুসন্ধানের কোন সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশন আইন নামে যা হচ্ছে তা নিতান্তই আনুষ্ঠানিকতা; সবকিছু হবে প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী।

শারমিন মোর্শেদ বলেন, আইন প্রণয়নের পুরো প্রক্রিয়াই অস্বচ্ছ। সরকারের এই তৎপরতায় জনগণের কোন আস্থা নেই। দেখে মনে হচ্ছে নির্বাচন কমিশন নামে আমরা আবার মেরুদণ্ডহীন কিছু লোক পাব।

জোটের সমন্বয়ক সাইফুল হক প্রস্তাবিত আইনের ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে সাতটি আপত্তি উত্থাপন করেন। এ গুলো হচ্ছে,

প্রথমত: বিল প্রণয়নের আগে ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সাথে কোন আলাপ-আলোচনা করা হয়নি; তাদের মতামত নেয়া হয়নি।

দ্বিতীয়ত: সরকারি দলের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণে থাকা সংসদকেও পাশ কাটিয়ে এই বিল প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সার্চ কমিটিতে সংসদে থাকা রাজনৈতিক দলেরও কোন প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়নি।

তৃতীয়ত: সার্চ কমিটিতে দুইজন বিচারক, দুইজন সাংবিধানিক পদাধিকারী ও রাষ্ট্রপতির মনোনীত দুইজন ব্যক্তি রাখার যে বিধান যুক্ত করা হয়েছে তা পক্ষপাতদুষ্ট ও দলীয় রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে নয়। কারণ বর্তমানে সাংবিধানিক পদাধিকারী ব্যক্তিবর্গ দলীয় বিবেচনার উর্ধ্বে নন। আর সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুইজন প্রতিনিধিও প্রধানমন্ত্রীর পছন্দেই নির্ধারিত হবেন। সার্চ কমিটির সদস্যরা যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকার ও সরকারি দলের পক্ষভুক্ত হবেন তাও পরিস্কার।

চতুর্থত: প্রস্তাবিত বিলে গত দুইটি সার্চ কমিটি, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকে  আইনী সুরক্ষা দেয়া হয়েছে। কোন সংক্ষুব্ধ নাগরিক এসবের আইনী বৈধতা নিয়ে কোন আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবেন না। প্রকারান্তরে পুরো বিষয়টিকে অগণতান্ত্রিকভাবে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। এটা ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও নৈতিকতারও পরিপন্থী।

পঞ্চমত: এই বিলের খসড়ার উপর জনগণের মতামত জানানোর প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ কোনটাই রাখা হয়নি। একধরনের চোরাগোপ্তা কায়দায় অস্বাভাবিক দ্রুততায় এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ষষ্ঠত: এটি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠনের আইন, নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত সমন্বিত ও সামগ্রিক কোন আইন নয়। নির্বাচন কমিশন কিভাবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তার দায়িত্ব পালন করবে; নির্বাচন কমিশনের অর্থায়ন থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা নিয়ে কিভাবে কাজ করবে; নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সরকার তথা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর তার কার্যকরি কর্তৃত্ব কি হবে:  প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ কি হবে প্রভৃতি প্রয়োজনীয় কোন বিষয়েই এই বিলে সুস্পষ্ট কোন বিধান নেই।

এবং সপ্তমত: গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থা যেখানে কালো টাকা, পেশীশক্তি, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, সাম্প্রদায়িকতা এবং সর্বোপরি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে এসকল বিষয় মীমাংসা ছাড়া অবাধ, গণতান্ত্রিক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোন সুযোগ নেই।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/রেজওয়ান হোসেন/২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।  

 

ট্যাগ