মে ১৩, ২০২২ ১৭:২৭ Asia/Dhaka

বিএনপি’র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বপ্ন নিস্ফল বলে মন্তব্য করেছে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। বিশৃঙ্খলা করলে জনগণকে নিয়ে প্রতিহত করা হবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই। বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক দেশের মতো সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনায় থাকাকালে নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে। আর বিএনপি আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করলে জনগণকে সাথে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। ’

হাছান মাহমুদ আজ দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে কীটতত্ত্ব সমিতির ১১তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের পূর্বে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, সমস্ত গণতান্ত্রিক দেশে ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কন্টিনেন্টাল ইউরোপ এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সেখানে কোথাও ক্ষমতাসীন সরকার পদত্যাগ করে আরেকটি সরকার আসে না। সেভাবেই বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনায় থাকতেই নির্বাচন হবে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ‘বিএনপি ২০১৪ সালে নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারেনি। গণতন্ত্রের অভিযাত্রা অব্যাহত ছিল। ২০১৮ সালেও এ ধরনের কথা বলেছিল, পরে নির্বাচনী ট্রেনের পাদানিতে চড়ে নির্বাচনে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং জোট করে নির্বাচন করেছে। ফলাফল মাত্র পাঁচটি আসন- খালি কলশি বাজে বেশি। সুতরাং, তাদের বলবো, অনর্থক বাগাড়ম্বর না করে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন। ’

‘বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলন করবে’ এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার পতনের আন্দোলনের কথা আমরা গত ১৩ বছর ধরেই শুনে আসছি। যে দলের নেতারা মির্জা আব্বাসসহ পুরুষ হয়েও নারীর বেশে বোরখা পরে আদালতে জামিনের জন্য হাজির হয়, যাদের ওপর নেতাকর্মীদের আস্থা নেই, তারা কতটুকু কী করতে পারবে, তাদের শক্তি, সামর্থ্য, হিম্মত আমরাও জানি, জনগণও জানে। কিন্তু আন্দোলনের নামে তারা যদি বিশৃঙ্খলা, জ্বালাও-পোড়াও বা আগে যেভাবে মানুষ পোড়ানোর মহোৎসব করেছে সেটি করার অপচেষ্টা করে, জনগণকে সাথে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। ’

বিএনপি’র সভা-সমাবেশের অনুমতি মিলছে না-এমন অভিযোগ খন্ডন করে ড. হাছান বলেন, ‘তারা অনেক সময়ই সভা-সমাবেশের অনুমতি নেয় না। আর সভা-সমাবেশে তারা নিজেদের মধ্যেই মারামারি-ভাঙচুর করে। এতে জনগণ আতঙ্কিত হয়, আর জনগণ আতঙ্কিত হলে সরকার তো বসে থাকতে পারে না। ’

পরে সম্মেলনে দেওয়া বক্তৃতায় ড. হাছান মাহমুদ কৃষি জমি রক্ষার ওপর গুরত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, যত্রতত্র ইমারত নির্মাণের ফলে যেন কৃষি জমি নষ্ট না হয়। কৃষি ক্ষেত্রে গবেষণা আমাদের শস্য উৎপাদনকে বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে। উন্নয়নের পথে এই ধারা অব্যাহত থাকা আবশ্যক। কীটতত্ত্ব সমিতির সভাপতি ড. সৈয়দ নূরুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমানের পরিচালনায় কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।

কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নির্মল কুমার দত্ত ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ কারিগরি প্রবন্ধ এবং কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার সূচনা বক্তব্য রাখেন।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের রুপরেখা খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আজ শুক্রবার (১৩ মে) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি(এলডিপি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘বৃহত্তম জোটের শীর্ষ দল বিএনপি এই ভাবনাকে (জাতীয় ঐক্য) কেন্দ্র করে একটা বক্তব্য বা বিবৃতি দেবে যার মধ্য দিয়ে সবাই একত্রিত হবে এবং আগামী দিন পথে চলবে। আমার মনে হয় সেই প্রচেষ্টা ও ভাবনা আমাদের মধ্যে চলমান।

যেকোনো মুহুর্তে আমরা জাতির সামনে সেটা উপস্থাপন করব

উপস্থাপক সম্পর্কে বিএনপির এ শীর্ষ নেতা বলেন, ‘সঙ্গত কারণেই উপস্থাপকের প্রশ্ন আসতে পারে যে, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বন্দি- এই ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত নাই। তার অবর্তমানে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব তাড়াতাড়ি আপনাদের সামনে সেই আহ্বান দেবেন এবং আগামী দিনে আন্দোলনের রূপরেখা উপস্থাপন করবেন। এই ব্যাপারে (আন্দোলনের রূপরেখা) আমাদের প্রস্তুতি শেষ প্রান্তে। ’

গয়েশ্বর বলেন, ‘আমাদের পথ চলার ক্ষেত্রে সবাইকে এক সঙ্গে চলতে হবে। যে বিষয়ে গত কাউন্সিলে বেগম খালেদা জিয়ার উক্তি ছিল যে- নানান মানুষ নানা মত, দেশ বাঁচাতে ঐক্যমত। আমার মনে হয় যে, আমাদের নানান ভাবনা থেকে একটাই ভাবনা হচ্ছে, আমরা মাথা উঁচু করে এক পথেই চলব, আমরা একথায় একভাবে চলব। ’

বিরোধী রাজনৈতিক দলের শরিকদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘অনেক দলের চলমান সংকট উত্তরণের পথে নানামুখী ভাবনা বা নানামুখী দিক-নির্দেশনা থাকতে পারে। কিন্তু সরকারের যে ফ্যাসিবাদী চরিত্র, তাদের কর্মকাণ্ড খুব দ্রুত তাদেরকে একত্রিত করেছে সবাই সবার ভাবনা ত্যাগ করে একভাবে এক পথে চলতে চায়। আমি গত এক মাসের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বক্তার বক্তব্য থেকে অনুমান করছি, বিরোধী দলের নেতারা গত এক মাসে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন এখন তা না দিয়ে একটা জাতীয় ঐক্যকে নিশ্চিত করার মাধ্যমে অনেকেই তাতে একমতের কাছাকাছি এবং একসঙ্গে হাঁটাচলা করছেন। ”জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে ‘গ্রহনযোগ্য নির্বাচন সংকটের একমাত্র সমাধান’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়। এই অনুষ্ঠানে এলডিপি (অলি আহমেদ) অংশের সহসভাপতি আবু জাফর সিদ্দিকী, উপদেষ্টা ফরিদ আমিন, যুগ্ম মহাসচিব তমিজ উদ্দিন টিঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মো. ইব্রাহিম রওনক, গণতান্ত্রিক যুব দলের সাইফুল ইসলাম বাবু, মোহাম্মদ ফয়সাল, গণতান্ত্রিক ওলামা দলের মাওলানা বদরুদ্দোজা, মাওলানা আবদুল হাই নোমান, মহানগর দক্ষিণের এএসএম মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে ২১৫ জন নেতা-কর্মী এলডিপিতে (আবদুল করীম আব্বাসী) যোগ দেন।

যুক্তরাষ্ট্র সফররত বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এবং ঢাকা মহানগর (উত্তর) বিএনপি’র আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, দেশের জনগণ জেগে উঠছে। ৯০-এর আন্দোলনের মতো ঢাকাকে অচল করেই সরকার পতনের আন্দোলন সফল করা হবে। প্রয়োজনে ‘আমান-নাজিম’রা প্রাণ দেবে।

স্থানীয় সময় বুধবার (১১ মে) নিউইয়র্কের উডসাইডে গ্রেটার ঢাকা জাতীয়তাবাদী ফোরাম ও কেরাণীগঞ্জ ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি আরো বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। সরকার জনবিরোধী হলে, জনগণ ক্ষেপে গেলে যা হয়, শ্রীলঙ্কায় তা-ই ঘটছে।’

শ্রীলঙ্কার উদাহরণ বিএনপির জন্য প্যান্ডোরার বাক্স!

আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘আমরা দেশে আইনের শাসন চাই, রাতের ভোট নয়, জনগণের ভোটের সরকার চাই। তিনি বলেন, ৯০-এর আন্দোলনের সময় সারাদেশ সচল ছিলো আর ঢাকা অচল ছিলো বলেই স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতন হয়েছিল। আগামী দিনের আন্দোলনে শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশ অচল করেই শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানো হবে ইনশাল্লাহ। এজন্য প্রস্তুতি চলছে। তিনি দেশ ও প্রবাসের দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই আন্দোলনে অগ্রণি ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।’

ডাকসুর সাবেক এজিএস নাজিমউদ্দিন আলম বলেন, ‘হতাশার কিছু নেই, স্বৈরাচারের পতন হবেই। দলের পরীক্ষিত নেতাদের যোগ্য স্থান দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতন আন্দোলন গড়ে তুলতে কাজ চলছে। এখন দরকার দলীয় নেতা-কর্মী সকলের ঐক্য।  সরকারি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদ নেতা নুরুল হক নুর বলেছেন, জনগণ রাস্তায় নামলে, আপনাদের অবস্থাও শ্রীলঙ্কার মতো হবে।

শুক্রবার (১৩ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভোজ্যতেল ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। নুর বলেন, একসময় শ্রীলঙ্কায় উন্নয়নের ঢোল বেজেছে। আজ তাদের অবস্থা আপনারা দেখছেন। আমাদের দেশের জনগণ ধৈর্য ধরছে বলেই যে দেশ শ্রীলঙ্কার মতো হবে না, তা ভাবার কারণ নেই।ডাকসুর সাবেক ভিপি বলেন, আজ যদি বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন, আপনারা দেখবেন মাসে মাসে নয়, সপ্তাহে সপ্তাহে দাম বাড়ছে। হঠাৎ করেই বাজার থেকে সয়াবিন তেল উধাও, এর পরেই দাম বাড়তে থাকলো।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/১৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ