মে ২০, ২০২২ ১৮:৩৭ Asia/Dhaka
  • হেফাজত আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী গভী
    হেফাজত আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী গভী

বাংলাদেশের ১ হাজার মাদরাসা ও ১১৬ জন ইসলামি বক্তাকে ‘ধর্ম ব্যবসায়ী’ আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে দুর্নীতি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমন্বয়ে গঠিত ‘গণকমিশন’।

দেশের  বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে  এমন  অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায়  ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন বিবৃতে প্রকাশ করেছে,  বিক্ষোভ মিছিল করেছে এবং  কঠোর  আন্দোলনের হুমকিও দিয়েছে।  

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজত আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, 'এসব বানোয়াট বক্তব্যের কারণে দেশে চরম অশান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যারা এসব উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড করছে, সরকার যেন তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করে'।

আমিরে হেফাজত কঠিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি এখনই শক্ত হাতে তথাকথিত এই ভুঁইফোঁড় সংগঠনকে দমন না করে, তাহলে ইসলামপ্রিয় আপামর তৌহিদি জনতা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

এ  অবস্থায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল  স্পষ্ট  করে বলেছেন, এ গণকমিশনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই ।

শুক্রবার (২০ মে) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের ২৭তম বার্ষিক সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে  মন্ত্রী বলেন, ‘গণকমিশনের আইনি কোনো ভিত্তি নেই। তারা একটি বই প্রকাশ করেছে ‘দুই হাজার দিন সন্ত্রাস’ নামে। বইয়ের ভেতরে কী লিখেছে, তা আমি জানি না। এগুলো আমাদের দেখতে হবে। তারা কাদের নামে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির দায় দিয়েছেন, এগুলো আমরা কেউই কোনো তদন্ত করিনি। সুতরাং এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না।

গণকমিশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে হেফাজত আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে। তারা আন্দোলনে নামলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে–জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইন কেউ হাতে নিলে আমাদের যা করণীয়, সেটাই করব। এটা স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি। আমরা একটি কথা জোর দিয়ে বলতে চাই, যে অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই, সে অভিযোগ আমরা আমলে নিই না।’

গত ১১ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লার কাছে শ্বেতপত্র ও সন্দেহভাজন শতাধিক ব্যক্তির তালিকা হস্তান্তর করে ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন’। কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও সদস্যসচিব ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল এ তালিকা হস্তান্তর করে। শ্বেতপত্র ও তালিকাটি একই সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনেও দেওয়া হয়েছে।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/রেজওয়ান হোসেন/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ