মে ২১, ২০২২ ২০:০৫ Asia/Dhaka
  • সব নিবন্ধিত দলের সঙ্গে শিগগিরই সংলাপে বসতে চায় নির্বাচন কমিশন

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের আগামী  নির্বাচনকে সামনে রেখে সব নিবন্ধিত  রাজনৈতিক দলের সঙ্গে শিগগিরই সংলাপে বসার  আগ্রহ ব্যক্ত  করেছে  নির্বাচন কমিশন। 

গতকাল সাভার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল এমন আগ্রহ প্রকাশ  করেছেন। এ সময়  সব দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রত্যাশাও  ব্যক্ত  করেছেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমাদের আন্তরিক প্রত্যাশা যে একটি অংশগ্রহণমূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। গণতন্ত্র বিকশিত হোক। ভোটের মাধ্যমে একটা দায়িত্বশীল পার্লামেন্ট গঠিত হোক। পার্লামেন্টে তর্কবির্তকের মাধ্যমে জনগণের অধিকার সংরক্ষিত হোক।
তবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি আজকেও স্পষ্ট  করে জানিয়ে দিয়েছে  বর্তমান “অবৈধ -স্বৈরাচারী “ সরকারকে ক্ষমতায় রেখে তারা  কোনো নির্বাচনে যাবে  না । 

এখন পর্যন্ত দলটির নীতিগত অবস্থান হচ্ছে, তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকার বা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না। আলোচনা হবে শুধু নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে। এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়—এটাই তাদের মূল কথা ।

আর এটাকে ভিত্তি ধরেই বিএনপি রাজপথে সরকারবিরোধী একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ার চেষ্টা করছে। 

বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে; আশাবাদী আওয়ামীলীগ  

এ প্রসঙ্গে  আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক উল্লেখ করেছেন,  নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছাড়া বিএনপির কাছে কোনো পথ খোলা নেই।  গত রমজান থেকেই বিএনপি প্রার্থীরা তাদের এলাকায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা আসলে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এখন হয়তো পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছেন।’

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (২০ মে) ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে এক র‌্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। 

জাহাঙ্গীর কবির নানক আরও বলেছেন, ‘বিএনপি অহেতুক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। বিএনপির কর্মকাণ্ড মানুষ ভোলেনি। তাদের নেতা নেই। নেতৃত্বশূন্য দল বিএনপি। তাই, এখন পানি ঘোলা করে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। কোনো লাভ হবে না, বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে হবে।’

নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে  ইউরোপীয় ইউনিয়নের  তাগিদ

বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে  সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছে  ইউরোপীয় ইউনিয়ন। গত ১৮ এবং ১৯ই মে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত যৌথ কমিশনের বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়ন-অগ্রগতি পর্যালোচনা শেষে  ইইউ কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি জানানো হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের আগামী সাধারণ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে ইইউ। 
বৈঠকে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে  উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বিশেষ করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি তথা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেয় ইইউ। নাগরিকদের অনলাইন এবং অফলাইনে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সঙ্কুচিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশেষত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (ডিএসএ) নিবর্তনমূলক ধারাগুলোর এখনো বিলুপ্তি বা সংশোধন না হওয়ার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। 

যে কোনো ডিজিটাল অপরাধের লাগাম টানার ক্ষেত্রেও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে বাংলাদেশের বাধ্যবাধকতা থাকার বিষয়টি স্মরণ করে বলা হয়, চূড়ান্ত পদক্ষেপও মানবাধিকারকে সমুন্নত রাখা তথা সঙ্গতিপূর্ণ আচরণ জরুরি।

ইইউ মনে করে জাতি, বয়স, লিঙ্গ পরিচয়, যৌন অভিমুখিতা, ধর্মীয় বা রাজনৈতিক সম্বন্ধ, অক্ষমতা বা আর্থ-সামাজিক পটভূমি নির্বিশেষে মানুষ হিসেবে মানুষের মানবাধিকারের সুরক্ষা, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ক্রমাগত উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী মাসে ঢাকায় প্রথম ইইউ-বাংলাদেশ রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠানের দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে যৌথ কমিশনের বৈঠকের পরিসমাপ্তি ঘটে। #

পার্সটুডে/এআরকে/২১

ট্যাগ