মে ২৪, ২০২২ ১৬:৩৯ Asia/Dhaka
  • খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার
    খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার

বাংলাদেশে খাদ্যের জন্য হাহাকার হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। মন্ত্রী বলেছেন, দেশে প্রচুর খাদ্য মজুদ আছে। সামনে আউশ চাষাবাদ হবে, আশা করা যায়, উৎপাদনও ভালো হবে।

তবে  তিনি আশংকা প্রকাশ করেছেন, সারা বিশ্বে যখন খাদ্যের দাম বাড়ে তখন এখানেও (বাংলাদেশে) খাদ্যের দাম বাড়তে পারে।

গতকাল সোমবার (২৩ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশে খাদ্যের সংকট হবে না।
এর আগের সপ্তাহে  সুনামগঞ্জে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের বিষয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়কালে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন,  দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। খাদ্য সংকটের কোনো চিন্তা করতে হবে না। সামনে নির্বাচন তাই চালের দাম বাড়তে দেওয়া হবে না।

গম নিয়ে চিন্তার কারণ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গমের জাহাজ প্রতিনিয়ত আসছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ থেকে গম দেওয়ার কমিটমেন্ট রয়েছে এবং সে অনুযায়ী গম আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এদিকে,  ভারত হঠাৎ  করে গম রপ্তানি বন্ধ করার খবরে বাংলাদেশে  ২৭ টাকা  কেজির  গম ৪২ টাকায় উঠে যায়। এ অবস্থায় দ্রুত ভারত থেকে গম আমদানি প্রক্রিয়া শুরু হয়। হিলিস্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ   জানিয়েছে  আগামী দু’তিন মাসের মধ্যে  গমের  দাম কমে আসবে। 

মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে

ভোজ্যতেল ও গমের পর এবার মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। কয়েক দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মরিচ, হলুদসহ সব ধরনের মসলার দাম বেড়েছে। দেশের বাজারে ব্যাপক চাহিদা এক্ষেত্রে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, কম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানিতে এলসি (ঋণপত্র) খুলতে মার্জিনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় আমদানিনির্ভর মসলা পণ্যের বাজারে কিছুটা সরবরাহ সংকট রয়েছে। তাছাড়া আসন্ন কোরবানির ঈদের আগে বাড়তি চাহিদা সত্ত্বেও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ধীরগতির কারণে বাজার অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, মসলা পণ্যের মধ্যে গরম মসলার প্রায় শতভাগ আমদানিনির্ভর। এ কারণে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে চাহিদা বেড়েছে। মুষ্টিমেয় ব্যবসায়ী আমদানিকৃত মসলার মজুদ থেকে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। ঈদের আগে প্রায় সব শ্রেণীর ক্রেতা মসলা পণ্য সংগ্রহ করায় বাজারে হঠাৎ দাম বেড়ে যায়। বাজার মনিটরিং কমিটি ও প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো না হলে গরম মসলার বাজার আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

আন্তর্জাতিক খাদ্য পরিস্থিতি 

চলতি বছরের জন্য খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক উৎপাদন পূর্বাভাস কমিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিল (আইজিসি)। উৎপাদন গত মাসে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ১ শতাংশ কমতে পারে। সম্প্রতি সরবরাহ ও চাহিদা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।

আইজিসি বলছে, চলতি বছর খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক উৎপাদন ২২৫ কোটি ১০ লাখ টনে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে। মৌসুম শেষে খাদ্যশস্যের মজুদ কমে ৫৭ কোটি ৯৬ লাখ টনে নামতে পারে। গত মাসে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় মজুদ দশমিক ২৬ শতাংশ কমবে।

বিশ্লেষকরা জানান, খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখছে গম ও ভুট্টা। শস্য দুটির উৎপাদন কমছে আশঙ্কাজনক হারে। যদিও সয়াবিন উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাস মিলেছে। তাছাড়া, গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর এ অঞ্চলে  গম উৎপাদন ও রফতানিতে মন্দা দেখা দেয়। রুশ সামরিক বাহিনীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইউক্রেনের বিভিন্ন আবাদি অঞ্চল। ধ্বংস হয়ে যায় কৃষি যন্ত্রপাতি।

কাউন্সিল বলছে, গম, ভুট্টা ও শরঘাম অর্থাৎ সব রকম শস্য উৎপাদনই কমতির দিকে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো শীর্ষ দেশগুলোয় উৎপাদন বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। ফলে অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়ায় উৎপাদন বাড়লেও তা পরিস্থিতিতে ভারসাম্য আনতে পারবে না।#

পার্সটুডে/এআরকে/২৪

ট্যাগ