মে ২৫, ২০২২ ১৫:০৩ Asia/Dhaka

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডারের ওপর চাপ সামলাতে এবং আমদানি ব্যয়ে লাগাম টানতে বিদেশি ফল, ফুল, ফার্নিচার এবং কসমেটিকস আইটেম সহ দুই শতাধিক পণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এমন নির্দেশনা দিয়ে সোমবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনিমের সই করা প্রজ্ঞাপনে প্রায় ১৩৫টি এইচএস কোডভুক্ত পণ্যের ওপর আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান ৩ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করার কথা জানানো হয়েছে। এ সব পণ্য আমদানিতে খরচ বাড়লে দেশের বাজারেও এসব পণ্যের দাম বাড়বে।

শুল্ক আরোপ করা পণ্যগুলোর মধ্যে  রয়েছে শুকনা ও তাজা কিংবা হিমায়িত আপেল, নাশপাতি, আঙুর, কলা, আনারস, পেয়ারা, আম, তরমুজ, পেঁপে, বাদাম, কমলালেবু ও লেবুজাতীয় ফল, আলুবোখারা ইত্যাদি। এ ছাড়া প্রসাধনসামগ্রীর মধ্যে আছে সুগন্ধি (পারফিউম), সৌন্দর্যবর্ধনের নানা উপাদান (যেমন-সানস্ক্রিন, সান টান ইত্যাদি), হাত-পায়ের নখ কাটার প্রসাধনী, চুলের যত্ন নেওয়ার প্রসাধনী, দাঁতের যত্ন নেওয়ার পেস্ট ও পাউডার এবং শেভ করার প্রসাধনী।

তাছাড়া, বেডরুম, রান্নাঘর ও অফিসের জন্য লোহা, কাঠ বা প্লাস্টিকের যেকোনো ধরনের আসবাব আমদানিতেও এখন থেকে বাড়তি নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক দিতে হবে। এ ছাড়া যেকোনো তাজা ফুল ও ফুলের গাছ আমদানিতেও বাড়তি নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে।

এনবিআর পরিচালক (জনসংযোগ) সৈয়দ এ মু’মেন গণমাধ্যমকে ব্যাখ্যা করে বলেন, কভিড-১৯-পরবর্তী অর্থনীতি পুনর্গঠন, বিলাসবহুল পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা ও আমদানি হ্রাসকরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিদেশি প্রায় ১৩৫টি এইচএস কোডভুক্ত পণ্যের ওপর আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান শূন্য ও ৩ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা ২৩ মে থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।

বাড়ছে ভারত নির্ভরতা

এদিকে, ইউক্রেন সংকটের কারনে খাদ্যশস্য ও শিল্প খাতের কাঁচামালের জন্য ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কভিডের অভিঘাত সামলে উঠতে না উঠতেই বৈশ্বিক বাণিজ্য খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে চলমান যুদ্ধ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়েছে। কয়েকটি দেশ থেকে পণ্য আমদানি করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাহাজ ও কনটেইনার সংকটের পাশাপাশি পরিবহন ভাড়াও বেড়েছে অনেক। এমন  আপৎকালে প্রতিবেশী ভারতের দিকেই বেশি ঝুঁকতে হচ্ছে বাংলাদেশী আমদানিকারকদের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে ভারত থেকে ৮৮৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে তুলা, খাদ্যশস্য, মোটরযান ও যানবাহনের যন্ত্রাংশ, মূলধনি যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ, খনিজ পণ্য ও জ্বালানি, অর্গানিক কেমিক্যাল, চা-কফি-মসলা, ট্যানিং ও ডায়িং, পিগমেন্ট, রঙ, পুটি, কালি, লৌহ ও ইস্পাত, খাদ্য শিল্পের উপজাত ও পশুখাদ্য এবং চিনি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তুলা, খাদ্যশস্য, লৌহ ও ইস্পাত এবং চিনির মতো পণ্যে দেশটির ওপর আমদানিনির্ভরতা ব্যাপকভাবে বাড়তে দেখা গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ নির্ভরতা এখন আরো অনেকাংশেই বেড়েছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে আমদানীকৃত গমের ৭০-৮০ শতাংশ, চিনির ৯০ ও চালের ৭০-৮০ শতাংশ আসছে ভারত থেকে। আমদানীকৃত পেঁয়াজেরও শতভাগই আসছে ভারত থেকে।

একসময় চাল ও গমের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য আমদানির বাজার পুরোটাই ছিল ভারতনির্ভর। চাল আমদানির উৎস দেশের তালিকায় ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারের মতো দেশ।

কিন্তু যুদ্ধকালীন প্রেক্ষাপটে পরিবহন ব্যয় কমাতে গিয়ে পণ্যটির আমদানিকারকরা এখন আবারো ভারতনির্ভর হয়ে পড়ছেন। বর্তমানে দেশে আমদানীকৃত চালের সিংহভাগই ভারত থেকেই  আসছে।

ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইবিসিসিআই) সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ গণমাধ্যমকে  বলেছেন এ মুহূর্তে  প্রচলিত উৎসগুলোথেকে আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ভারত সবচেয়ে নিরাপদ। কিন্তু নির্ভরশীল হয়ে গেলে তখন ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ফলে অন্যান্য উৎস থেকে আমদানির পরিকল্পনাও রাখতে হবে।

 

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/২৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ