জুন ১৭, ২০২২ ১২:১৪ Asia/Dhaka
  • প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন  অধ্যাপক  ড. সাইফুল ইসলাম খান
    প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম খান

বাংলাদেশে প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত কারিগরিসহ সকল শ্রেণী ও শাখায় ধর্মশিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং শিক্ষাবোর্ডের অধীনে সকল পরীক্ষায় ধর্মীয় শিক্ষা বিষয়কে বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে ইসলামি শিক্ষা উন্নয়ন বাংলাদেশ নামের একটি ইসলামি সামাজিক সংগঠন। এ ছাড়া, পাঠ্যক্রম থেকে সকল প্রকার ধর্মবিরোধী পাঠ অপসারণ এবং শিক্ষার সর্বস্তরে আরবী শিক্ষা কোর্স চালু করার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

আজ (শুক্রবার) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি ড. মাওলানা এ কে এম মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ও সিনেট সদস্য ড. সাইফুল ইসলাম খান। তিনি বলেন 'ইসলামের নামে উগ্রবাদ, আধ্যাত্মিকতা বিবর্জিত, মনগড়া ইসলাম ধারণকারীরাই জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের জন্ম দিয়েছে। দেশের স্বার্থেই ধর্মীয় শিক্ষা সর্বস্তরে চালু রাখতে হবে। বোর্ড পরীক্ষায় ধর্ম শিক্ষা না থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব হারাবে।'

সংগঠনটি হতাশার সাথে উল্লেখ করেছে, স্বাধীন বাংলাদেশের শিক্ষা রূপরেখায় ইসলামী শিক্ষার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় নি। ৯০ ভাগ মুসলমানদের দেশে সাধারণ, কারিগরি, ব্যবসা, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ সকল বিভাগে ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলক থাকাই অত্যাবশ্যক ছিল;  কিন্তু তা অনুপস্থিত। প্রাক- প্রাথমিক,  প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণিতে ধর্মীয় শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত নেই।

এ ছাড়া, ২০২০ সালের প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রম রূপরেখায় নবম এবং দশম শ্রেণীর ইসলাম ও নৈতিকতা শিক্ষাও ২০২৩ সাল থেকে সামষ্টিক মূল্যায়ন তথা বোর্ডে পরীক্ষায় থাকছে না।

‘ইসলামি শিক্ষা উন্নয়ন বাংলাদেশ’ মনে করে বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম ও নিরাপদ রাখতে হলে ইসলামী শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মসংস্থানের কথা বিবেচনা করে আরবি ভাষা শিক্ষাকেও বাধ্যতামূলক করতে হবে।

সংস্থার প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশ স্বাধীন হবার পর পরই বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠা করেছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন; মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে স্বায়ত্বশাসন দিয়েছেন এবং তিনি ঘোষণা করেছেন ‘মক্তবের শিক্ষাই হবে এ দেশের বুনিয়াদী শিক্ষা’। তাছাড়া তার সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠা করেছেন ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি ৫৬০টি মডেল মসজিদ স্থাপনসহ নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলক না হয়, পাবলিক পরীক্ষায় তা অন্তর্ভুক্ত না হয়, তাহলে নাম মাত্র ইসলাম এবং নামমাত্র মুসলমান সৃষ্টি হবে, যা হবে দেশের জন্য আত্মঘাতী।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ডক্টর, অধ্যক্ষ, মুহাদ্দিস, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্বগণ অংশগ্রহণ করেন। সভা শেষে ভারতে একটি মহল কর্তৃক রাসূলেপাক (সা.) ও উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-কে কটুক্তিকারীদের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ