জুন ২৩, ২০২২ ১৮:৫৫ Asia/Dhaka
  • সিলেট বিমানবন্দর ফের চালু; উত্তরাঞ্চলে নদী-ভাঙ্গন এবং  বগুড়া, হবিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে বন্যা বেড়েছে

বন্যাকবলিত  হয়ে  টানা  ছয় দিন বন্ধ থাকার পর সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বিমানবন্দর থেকে লন্ডনগামী ফ্লাইট বিজি-২০১ ছেড়ে গেছে।  

বিমানবন্দরের স্টেশন ব্যবস্থাপক আবদুস সাত্তার জানান, রানওয়েতে পানি উঠে পড়ায় গত শুক্রবার ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ করা হয়েছিল। দুই দিন পর গত রোববার রানওয়ের পানি নেমে গেলেও বিমান অবতরণের কাজে ব্যবহৃত অ্যাপ্রোচ লাইটগুলো তলিয়ে থাকায় বিমানবন্দর চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে আজ বিমান ওঠানামা শুরু হয়েছে।

ওদিকে, নেত্রকোনায় বন্যায় বারহাট্টা উপজেলার অতীতপুর রেলস্টেশনের কাছে ইসলামপুরে ধসে যাওয়া রেল সেতু সংস্কার শেষ হওয়ায়  আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) থেকে সরাসরি ঢাকা-ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ রেলপথে আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়। এর আগে গত ১৮ জুন সকালে রেলব্রিজটি বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে যায়। ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ রেলপথে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। 

বারহাট্টা স্টেশনমাস্টার গোলাম রব্বানী বলেন, রেলব্রিজটি মেরামত করার পর বুধবার পরীক্ষামূলকভাবে একটি রেকার ট্রেন ও ইঞ্জিন চলাচলের পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে মোহনগঞ্জে আটকা পড়া ঢাকাগামী হাওড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকালে ছেড়ে আসে। আজ থেকে এ পথে যথারীতি ট্রেন চলাচল করবে।

এদিকে, দেশে ভারি বৃষ্টিপাত কমে আসায়  সিলেট ও রংপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবার পর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।  তবে মধ্যাঞ্চলের ছয় জেলায় বন্যার অবনতি হতে পারে। এখন পর্যন্ত দেশের ১৩ জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। ১১ নদীর পানির বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল আছে। অপরদিকে যমুনা ও পদ্মার পানি বাড়ছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুশিয়ারা ও তিতাস ছাড়া সব প্রধান নদনদীর পানি কমছে। 

বগুড়া,  হবিগঞ্জ, বিয়ানীবাজারে বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি  

বগুড়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় দিন দিন দুর্ভোগ বাড়ছে। খাবার পানি, রান্না করা খাবার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যমুনা নদীর পানি বুধবার আরো বেড়ে বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বাড়তে থাকায় নতুন করে গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসন থেকে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শুরু করেছে।

সিলেটের বিয়ানীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার আশিভাগের বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানববেতর জীবন যাপন করছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলার ৯৮৭টি পরিবারের প্রায় ৬ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক নূর জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় কুশিয়ারা নদীর পানি বিয়ানীবাজারের শেওলা পয়েন্টে বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার একই সময়ে নদীর পানি একই অবস্থায় ছিল। একই সাথে সুরমা নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে।

হবিগঞ্জে নদ-নদীর পানি কিছুটা কমলেও প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পর প্লাবিত হচ্ছে মাধবপুর ও বাহুবল উপজেলা।

নেত্রকোনার তিন উপজেলায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও বারহাট্টায় পানি কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে অন্য আট উপজলার বন্যা পরিস্থিতি। 

সুনামগঞ্জ থেকে প্রাপ্ত খবরা জানা গেছে, জেলার  হাওর এলাকার বিচ্ছিন্ন জনপল্লীর বানভাসিরা ত্রাণের জন্য হাহাকার করছেন। শহর ও শহরতলির আশপাশে সরকারি-বেসরকারি কিছু ত্রাণ বিতরণ করলেও হাওর এলাকার বিচ্ছিন্ন পল্লীর বানভাসিদের এখনো খোঁজ নেয়নি কেউ।

নদীর পানি কমায় সুনামগঞ্জ শহর থেকে ধীরে নামছে বন্যার পানি। তবে এখনো প্লাবিত রয়েছে সুনামগঞ্জ সদরসহ ১২টি উপজেলা। পানিবন্দী রয়েছে প্রায় ৮ লাখেরও বেশি মানুষ। ক্রমাগত বাড়ছে তাদের দুর্ভোগ। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র সঙ্কট। বানভাসিরা জানান, বন্যায় সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে এখন খাবারের জন্য কিছু পাচ্ছি না। বন্যার পানিতে সব টিউবওয়েল তলিয়ে গেছে। তাই খাবার পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

ভয়াবহ বন্যার তাণ্ডবে ঘরে থাকা ধান-চাল, জমিতে থাকা সবজি, পুকুরের মাছ সবই ভেসে গেছে। ঘরে খাবার নেই, বাইরে কাজ নেই। সিংহভাগ দোকানপাঠও এখনো খুলতে পারেননি দোকানিরা। এই অবস্থায় খাদ্য সংকট জেলার বেশিরভাগ এলাকায়। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত সকলেই মহাবিপদে পড়েছেন। তাই নদীতে, হাওরে নৌযান দেখলেই ত্রাণের আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটছেন নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা। 

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ২৩ গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও দোকানপাটে পানি উঠে পড়ায় এলাকা ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্র ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা। প্রতিদিনই পানি বৃদ্ধির কারণে আতঙ্কে রয়েছে উপজেলার অন্যান্য গ্রামবাসী।

নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে 

দেশের উত্তরাঞ্চলে কিছু কিছু স্থানে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও  নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করায় রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর ও সদর ইউনিয়নের চারটি গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে চারঘাট-বাঘা, পবা ও গোদাগাড়ী এলাকায়। 
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনাসহ অন্যান্য নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। এখানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সহস্রাধিক পরিবার। # 

পার্সটুডে/এআরকে/২৩

ট্যাগ