জুন ২৬, ২০২২ ১৯:১৭ Asia/Dhaka
  • তারেক এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলবে: হাইকোর্টের রায় ও বিশ্লেষক প্রতিক্রিয়া

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে জরুরি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের হওয়া দুর্নীতির মামলার বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, তারেক রহমনের স্ত্রী ডাক্তার জোবায়দা রহমান পলাতক থাকায় তার রিটও গ্রহণযোগ্য নয়।

আজ রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। এর ফলে বিচারিক আদালতে এ সংক্রান্ত মামলা চলতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম। তিনি আরো জানান, যেহেতু তারেক রহমান দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী তাই তার পক্ষে  কোনো আইনজীবী আদালতে দাড়াতে পারবেন না।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ঘোষিত আয়ের বাইরে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার মালিক হওয়া ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজধানীর কাফরুল থানায় এ মামলা করা হয়। মামলায় তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান ও শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুকে আসামি করা হয়।

পরে একই বছরে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী পৃথক রিট আবেদন জরুরি আইন ও এ মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। সে  আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল জারি করে স্থগিতাদেশ দেন। দীর্ঘ কয়েকবছর পর  রিট মামলাগুলো ১৯ এপ্রিল কার্যতালিকায় আসে। পরে রুল শুনানির জন্য দিন ঠিক করেন হাইকোর্ট।

এদিকে একই মামলার বৈধতা নিয়ে আরেকটি ফৌজদারি আবেদন করেছিলেন ডা. জোবায়দা। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। ওই রুলের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে মামলা বাতিলে জারি করা রুল খারিজ করে দেন। একইসঙ্গে জোবায়দা রহমানকে আট সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন জোবায়দা রহমান। যা গত ১৩ এপ্রিল খারিজ করেন আপিল বিভাগ।

অপরদিকে  হাইকোর্টের পৃথক এক বেঞ্চ বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে চিকিৎসা নিতে দেশের বাইরে যেতে চাইলে সেক্ষেত্রে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি আলালকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি না দেওয়া কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। পরবর্তী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে জবাব দিতে বলা হয়েছে। রোববার (২৬ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও এসএম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রোববার (২৬ জুন) আলালের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. তাজুল ইসলাম। তিনি জানান, গত ১২ জুন কিডনি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন থেকে আলালকে আটকে  দেওয়া হয়। সেদিন বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষা করার পরও তিনি ভারত যেতে পারেননি। তাকে অসুস্থ শরীরে আবারও বাসায় ফিরে আসতে হয়। বিএনপির এই নেতাকে চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে বাধা দেওয়ার বিষয় নিয়ে তিনি গত ১৪ জুন সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আজ হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/বাবুল আখতার/২৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

ট্যাগ