জুন ২৭, ২০২২ ১৫:৫৭ Asia/Dhaka
  • সুনামগঞ্জে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক
    সুনামগঞ্জে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক

সিলেটসহ বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি এখন উন্নতির দিকে। তবে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে বন্যার প্রভাবে নানা রোগ ও বন্যা সৃষ্ট দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

এ অবস্থায় দুর্যোগ কবলিত এলাকায় স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণ করতে আজ সিলেটে পৌঁছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সেখানে তিনি অধিদপ্তরের বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে করণীয় প্রসঙ্গে জরুরি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।  সভায় বন্যাকবলিত মানুষের চলমান স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অবগত করা হয়। এসময় মন্ত্রী বন্যাকালীন ও বন্যা পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য রোগের প্রাদুর্ভব মোকাবিলা এবং কোভিড সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির পরিপ্রেক্ষিতে করণীয় বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দিকনির্দেশনা দেন।

এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যাকবলিত মানুষগুলো আমাদেরই ভাই, আমাদেরই বোন। তারা এখন পানিবন্দি জীবন-যাপন করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক নির্দেশনায় তাদের ঘরে একদিকে শুকনো খাবার সরকার নিশ্চিত করেছে, পানিবাহিত বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে মুক্ত রাখতে স্বাস্থ্যখাতও জোরালোভাবে এগিয়ে এসেছে। এসব এলাকায় এখন সাপের কামড় থেকে বাঁচাতে দ্রুত অ্যান্টিভেনম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন সরবরাহ করতে হবে। কোভিড সমস্যায় জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে গুরুতর কোনো রোগীকে ঢাকায় পাঠানো হবে। বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার কোনো ঘাটতি মেনে নেওয়া হবে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সকাল ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দর থেকে সিলেটের সুনামগঞ্জের উদ্দেশে হেলিকপ্টারে তিনি যাত্রা শুরু করেন। এরপর সিলেটের বেশকিছু এলাকা পরিদর্শন করে বেলা ১১টার দিকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সফরসঙ্গী হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বন্যায় সবমিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে এবং বন্যা সৃষ্ট দুর্ঘটনায় ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৫ হাজার ৮৯০ জন।

দেশের ১০ জেলায় এখন পর্যন্ত ৮৪ জন মারা গেছে। সিলেট বিভাগেই ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুনামগঞ্জে ২৬ জন, মৌলভীবাজারে ৪ জন এবং হবিগঞ্জে ৪ জন মারা গেছেন।

ময়মনসিংহ বিভাগে বন্যাজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের। এর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় ৫ জন, নেত্রকোণা জেলায় ৯ জন, জামালপুর জেলায় ৯ জন এবং শেরপুর জেলায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও রংপুর বিভাগে এখন পর্যন্ত বন্যায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রামে ৩ জন এবং লালমনিরহাটে ১ জন মারা গেছেন। তবে রংপুর বিভাগে কারো মৃত্যুর  খবর পাওয়া  যায়নি।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ