জুন ২৭, ২০২২ ১৮:১০ Asia/Dhaka

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতির কারণে বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতি এখন পদ্মার গহীন অতলে নিমজ্জিত।

আজ (সোমবার) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিএনপি পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করেছিল। আজ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে। তাদের গভীর ষড়যন্ত্র দেশরত্ন শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি। এই ব্যর্থতা থেকে বিএনপি নেতারা দিন দিন গভীর থেকে গভীরতর হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শকারী গৌরবোজ্জ্বল অর্জন। পদ্মা সেতু নিয়ে সমগ্র বাঙালি জাতি যখন গর্ব করছে, তখন বিএনপি নেতারা এই উৎসবে সামিল না হয়ে হীন রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে অসংলগ্ন ও মনগড়া বক্তব্য দিচ্ছেন। যার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটি এখনও তাদের জন্মলগ্ন থেকে প্রাপ্ত সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি।

এর আগে গতকাল (রোববার) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি দলীয় এমপি হারুনুর রশীদ পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরে বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, 'কাল দেখলাম একজন মন্ত্রী বক্তব্য দিচ্ছেন যে বিএনপির মন খারাপ পদ্মা সেতু হওয়ার জন্য। না আমাদের মন খারাপ নয়, স্পিকার। আমাদের মন কেন খারাপ হবে? আমরা আনন্দে আছি। আমরা মুজিববর্ষ পালন করলাম; পদ্মা সেতু করলাম;  কিন্তু যে গুম-খুনের রাজনীতি চালু করা হয়েছে তা কী বন্ধ হবে? জনগণ যে ভোটের অধিকার হারিয়েছে- তা কী ফেরত পাবে? যতই পদ্মা সেতু মেট্টো রেল আর উন্নয়নের স্বপ্ন দেখান মূল কথা হলো- মানুষের মুখে খাবার দিতে হবে।

পদ্মা সেতুর বিরোধিতাকারীরা দেশ-জাতির শত্রু: হাইকোর্ট 

এদিকে, পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করার প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের  এক স্বপ্রণোদিত রুল  প্রসঙ্গে আজ (সোমবার) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেছেন, পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে যড়যন্ত্রকারীরা দেশবিরোধী, এদের খুঁজে বের করতে হবে। এ বিষয়ে রিটের আরও শুনানি ও আদেশের জন্য আগামীকাল (মঙ্গলবার) দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট। 

পদ্ম সেতু নির্মাণের পেছনে ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ইউনূসের বিচার দাবি: আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো একাট্টা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। একই সঙ্গে অন্যান্য দৈনিকের প্রতিবেদনেও শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অনেকের নাম উঠে আসে।

পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি সেসব প্রতিবেদন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনগুলো আমলে নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশ দেন হাইকোর্ট।

সেই রুলে পদ্মা সেতু নির্মাণ চুক্তি এবং দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যে থাকা প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিশন গঠন করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না এবং দোষীদের কেন বিচারের মুখোমুখি করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, যোগাযোগসচিব ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এ প্রেক্ষাপটে কমিশন গঠন ও কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, ৩০ দিনের মধ্যে এর অগ্রগতিও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে জানাতে বলা হয়েছিল।

সেতুতে মোটরসাইকেল প্রবেশ বন্ধ

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরদিন গতকাল অতিরিক্ত গতিতে মোটর সাইকেল চালিয়ে  সেতুতে  দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে  দুই যুবকের মৃত্যুর পর আজ সকাল থেকে সেতুতে মোটরসাইকেল প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হেঁটেও উঠতে দেওয়া হচ্ছে না কাউকে। সেতুতে নিয়ম মেনে যানবাহন পরিচালনার জন্য নিয়মিত টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনীর জীপ।

পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আজ সকালে জাজিরা প্রান্তে এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধের চেষ্টা করেছিল বাইক আরোহীরা। এতে প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ গাড়ির সারি তৈরি হয়। এসময় ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে অবরোধকারী বাইক আরোহীদের সরিয়ে দেয়। পরে তারা ফেরিযোগে নদী পার হয়ে বা মোটর সাইকেল পিক-আপে চড়িয়ে সেতু পার হয়।

ভীড় নেই পাটূরিয়া ফেরী ঘাটে; সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে মাওয়ার ফেরি

বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু চালুর প্রথম দিন থেকেই রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি গুলোকে যানবাহনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। যার ফলে গতকাল ও আজ দৌলতদিয়া ঘাট অনেকটা ফাঁকা।

বাস-ট্রাক চালকরা জানান, এখন অনেকেই পদ্মা সেতু পার হয়ে যাতায়াত করছেন, যার কারণে পাটুরিয়ার ঘাটে যানবাহনের চাপ  কমে গেছে। ঘাটে এসে ফেরির জন্য আগের মতো আর অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। আমাদের চালকদের চাইতে যাত্রীরা এতে সবচেয়ে বেশি খুশি হচ্ছেন। অন্যান্য সময়ে জিরো পয়েন্ট হতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানযট লেগে থাকত।

ওদিকে, পদ্মা সেতু চালুর পর  মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও শরীয়তপুরের কাঁঠালবাড়ির মধ্যে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে বলে ধারনা করছে সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ রুটেও ফেরির সংখ্যা কমানো হবে।

বাংলাদেশে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্র বলছে, পদ্মা সেতু চালু হলেও আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা পর্যন্ত শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটের ফেরিগুলো চলাচল করবে। ঈদের পরে ধীরে ধীরে এসব ফেরি অন্য রুটে সরিয়ে নেওয়া হবে।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে এখন আটটি এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ২১টি ফেরি চলাচল করছে। এ দুই রুটে মোট ফেরি আছে ২৯টি। প্রতিবছর এই দুই রুটে চলাচলকারী ফেরি থেকে ৩৫০ কোটি টাকা আয় হয় বিআইডব্লিউটিসির। পদ্মা সেতু চালু হবার কারণে এ দুই রুটে ফেরি থেকে আয় কমে যাবে। তাই আয় ঠিক রাখতে নতুন নতুন রুট চালু করার চিন্তা করা হচ্ছে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ