জুন ২৮, ২০২২ ১৪:৩০ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের সিলেট-সুনামগঞ্জের বন্যার পানি ধীর গতিতে নামতে থাকলেও এখনো বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্রামীণ সড়ক, ঘরবাড়ি পানির নিচে ডুবে আছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানির সংকট চলছে। এ ছাড়া যেসব এলাকায় পানি কিছুটা নেমেছে সেখানেও শুরু হয়েছে নতুন দুর্ভোগ। পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে।

ঘরে পানি ওঠায় অনেক মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন আশ্রয়কেন্দ্রে। এখনো তারা বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। চারদিকে পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। নোংরা পানি বাসা-বাড়িতে থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে জিনিসপত্র।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে শহরকে ময়লামুক্ত করতে অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখনো অনেক স্থানে পানি থাকায় ময়লা পরিষ্কার করা যাচ্ছে না। এরপরও ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে যতটুকু সম্ভব দুর্গন্ধ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, গ্রামের মানুষজনও রয়েছেন দুর্ভোগে। বন্যার পানি নামতে শুরু করায় ভেসে উঠছে ক্ষত। একই সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থা তছনছ হয়ে গেছে। জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, সিলেট সদরসহ কয়েকটি উপজেলার রাস্তাগুলোর বেহাল দশা। অনেক স্থানে রাস্তা ভেঙে ঢলের পানি প্রবাহিত হয়েছে। সিলেট-জকিগঞ্জ, সিলেট-বিয়ানীবাজার ও সিলেট-বালাগঞ্জ সড়ক দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। সড়কের ওপর পানি থাকার কারণে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

হাওর অঞ্চলের বাসিন্দা ও 'পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন- পবা'র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান রেডিও তেহরানকে জানান, এবারের ভয়াবহ বন্যায় দুর্গত এলাকায়  মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।

আবু নাসের খান আরো জানান, এবারের বন্যার প্রভাবে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য ঝুঁকি ছাড়াও দারিদ্র বেড়ে যাবে, পুষ্টিহীনতা আরো তীব্র হবে, শিক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

১ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত

সিলেট ও সুনামগঞ্জের অন্তত ১ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এরই মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। সংস্কার না করে এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ হবে।

শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় ছুটি শুরু হয়েছে। ঈদের পর ক্লাস শুরুর আগেই ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের পাশাপাশি বইপত্র শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে হবে। বন্যার কারণে শিক্ষার্থীরা এমনিতেই মানসিক পীড়ায় আছে। বই না পেলে তাদের মন ভেঙে যাবে। পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়বে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেব। স্কুল চালু হওয়ার পর হয়তো কয়েকদিন দেরি হতে পারে। প্রয়োজনে আশপাশের জেলাগুলো থেকে এনে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কার করে কিভাবে দ্রুত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে নিয়ে আসা যায় সেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৮

ট্যাগ