আগস্ট ০৬, ২০২২ ১৭:৩৮ Asia/Dhaka

​​​​​​​অনেকটা আকস্মিকভাবে জ্বালানি তেলের মূল্য রেকর্ড পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ায় দেশব্যাপী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গত রাত ১২ টা থেকে এ মূল্য বৃদ্ধি  কার্যকর হবার পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল পাম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়।  বন্ধ হয়ে যায় আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন। ফলে ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীসাধারণ এবং ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটর সাইকেল মালিকেরাও। 

 

এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে সরকারের নির্বাহী আদেশে জ্বালানি তেলের দাম ডিজেলে প্রতি লিটারে ৩৪ টাকা, অকটেন প্রতি লিটারে ৪৬ টাকা আর পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ৪৪ টাকা বাড়ানো হয়।

নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিন বিক্রি হচ্ছে ১১৪ টাকায়। প্রতি লিটার অকটেনের জন্য দিতে হচ্ছে ১৩৫ টাকা, প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত রাতেই দেশের  বিভিন্ন জেলায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বন্ধ পেট্রোল পাম্পের সামনে অবরোধ সৃষ্টি করে মোটরসাইকেল চালকেরা। 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ছাত্র অধিকার পরিষদ তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে মশাল হাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাবি শাখার নেতা-কর্মীরা। মিছিল থেকে ‘দাম বাড়ানোর সরকার, আর নাই দরকার’, ‘স্বৈরাচারের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ প্রভৃতি স্লোগান দেওয়া হয়। এ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা বাধা দিয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্র অধিকার পরিষদ জানিয়েছে। তবে ছাত্রলীগ তা অস্বীকার করেছে।

আজ সকালে রাস্তায় নেমে যানবাহন না পেয়ে এবং বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের কারনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রী সাধারণ। আজ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিরোধী বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিবাদ মিছিল আয়োজন করেছে।

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে সার্বিক অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা দেখা দেবার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদগণ। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেছেন, আইএমএফ-এর ঋণ পাবার শর্ত হিসেবে সরকার এমনটি করেছে।

তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় আজ (শনিবার) সকালে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সমন্বয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান কমানোসহ পাচার হওয়ার আশঙ্কা থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলক বেশি উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানায়, গত মাসের তথ্য অনুযায়ী ভারতের কলকাতায় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩৪ দশমিক শূন্য ৯ টাকা বেশি ছিল। আর পেট্রলের দম বেশি ছিল প্রতি লিটার প্রায় ৪৪ দশমিক ৪২ টাকা। এ পার্থক্যের কারণে জ্বালানি পণ্যের পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মূল্য সমন্বয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি পণ্যের মূল্যের পার্থক্যজনিত পাচার রোধ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তবে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, ৫১ শতাংশেরও বেশি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নির্দয় ও নজিরবিহীন। জ্বালানি তেলের এমন মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবনে মহাবিপর্যয় সৃষ্টি হবে।

আজ এক বিবৃতিতে জি এম কাদের বলেছন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম এখন নিম্নমুখী। এ সময় দেশে মূল্যবৃদ্ধি করায় প্রমাণ হলো দেশের মানুষের প্রতি সরকারের কোনো দরদ নেই।#

 

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ