আগস্ট ০৯, ২০২২ ১৮:৩১ Asia/Dhaka

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের সাথে বাংলাদেশের মুসলমানণও আজ পালন করেছেন পবিত্র আশুরা। হিজরি ৬১ সনের এই দিনে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আ.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা কারবালার ময়দানে ইয়াজিদের বাহিনীর হাতে শহীদ হন। কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সবাইকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা জোগায়।

এ জন্য শোকাবহ এবং ঘটনাবহুল এই দিন মুসলমানদের কাছে ধর্মীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

করোনা মহামারীর কারণে গত দু’বছর সীমিত আয়োজনে দিবসটি পালন করা হলেও এবার আশুরা উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাজিয়া মিছিল  বের হয়। এ ছাড়া প্রতি ইমামবাড়াতে ধর্মীয় সমাবেশ এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

আজ সকাল ১০টায় রাজধানী পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে তাজিয়া মিছিল বের আহলেবাইতপ্রেমী মুসলমানরা। মিছিলটি বকশিবাজার, উর্দুরোড, লালবাগ চৌরাস্তা, গোরই  শহীদের মাজার, আজিমপুর, নিউমার্কেট হয়ে ধানমন্ডি দুই নম্বর সড়কের লেক পাড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলকে নিশ্ছিদ্র  নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

তাজিয়া মিছিলে হাজারো নারী-পুরুষ ও শিশু অংশ নেয়। তাদের হাতে ছিল লাল-কালো আর সবুজ অক্ষর-খচিত নিশান। মিছিল থেকে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতমে শোকের আবহ ফুটিয়ে তুলে। সুষ্ঠুভাবে তাজিয়া মিছিল সম্পন্ন করতে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি বহন নিষিদ্ধ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

এদিকে পুরান ঢাকার পাশাপাশি রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বকশিবাজার, লালবাগ, ফরাশগঞ্জ, পল্টন, মগবাজার থেকেও তাজিয়া মিছিল বের হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে পবিত্র আশুরার তাজিয়া মিছিল প্রস্তুতির সময় বোমা হামলায় দুজন নিহত ও শতাধিক আহত হয়। ওই হামলার পর থেকে প্রতিবছর আশুরার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলার মূল হোতারা বিচারের বাইরে

সাত বছর আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ জেএমবি বোমা হামলা করেছিল পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে মহররমের তাজিয়া মিছিলে। ওই হামলার ঘটনায় মামলা হয় চকবাজার থানায়। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতি ও দায়িত্বে অবহেলার হামলার মূল হোতারা ছিল বিচারের বাইরে। এ কারণে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক তার রায়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে ভর্ৎসনাও করেন। এই মামলার বিচারের প্রথম ধাপ পেরোতে লেগেছে সাত বছর। চলতি বছরের ১৫ মার্চ রায় দেয় ঢাকার ট্রাইব্যুনাল। রায়ে আটজন আসামির একজনকে ১০ বছর এবং আরেকজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর বাকিদের দেওয়া হয়েছে খালাস। ইতিমধ্যে দণ্ডিতরা হাইকোর্টে আপিল করেছেন। ওই আপিল এখন নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। তবে মামলার দুই আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু আদালতে তার বিচার প্রক্রিয়া চলছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তে মারাত্মক ভুল করেছেন। তিনি চরমভাবে দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। ফলে হোসেনি দালান ইমাম বাড়ার গ্রেনেড হামলার মূল পরিকল্পনাকারী নির্দেশদাতা ও হামলাকারীরা আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে।

বিচারক বলেন, পূর্ণ তদন্ত না করে মূল পরিকল্পনাকারী এবং নির্দেশদাতা আলবানী ও নোমান এবং হোসেনি দালানে হামলাকারী হিরনকে মামলায় আসামি হিসেবে অর্ন্তভূক্ত করেননি। ফলে হোসেনি দালানে বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও হামলাকারীরা আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ