আগস্ট ১০, ২০২২ ১৮:২৬ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে 'অস্বাভাভাবিক' আখ্যায়িত করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ডায়লগ (সিপিডি) দাবি করেছে, সরকার ত্রুটিপূর্ণ তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে।

সিপিডি বলছে, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে। যাতায়াত ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে। তাছাড়া, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির ফলে কৃষি খাতের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। কৃষি উৎপাদন কমে যাবে। ফলে আমাদের আমদানি খরচ বেড়ে যাবে।

আজ (বুধবার) ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত সংলাপে সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) গত ছয় বছরে ৪৬ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে। যার মধ্য থেকে সরকার নিয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৩৬ হাজার কোটি টাকা কোথায়? বলা হয়েছে, ওই টাকার মধ্যে ৩৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। কোথায় সেই বিনিয়োগ হয়েছে সে তথ্য জনম্মুখে আনার দাবি জানিয়েছে সিপিডি।

সিপিডি’র পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম কমছে অথচ আমাদের দেশে বৃদ্ধি করা হলো। নেপাল ও শ্রীলঙ্কা ছাড়া কোথাও তেলের দাম বাড়তি নেই। ভিয়েতনাম উদীয়মান অর্থনীতির একটা দেশ অথচ দেখেন ভিয়েতনামে ডিজেলের লিটার প্রতি দাম ৯৭ দশমিক ৯ টাকা। আমরা কার সঙ্গে কী তুলনা করছি?

বলা হচ্ছে- হংকং এ নাকি জ্বালানি তেলের দাম আরও বেশি। এটা ঠিক আছে। কিন্তু হংকং এ মাথাপিছু আয় ৪৯ হাজার ৬৬০ ডলার। আমাদের ২ হাজার ৫০৩ মার্কিন ডলার। সুতরাং কোনো দেশের সঙ্গে তুলনা করতে হলে মাথাপিছু আয়ও দেখতে হবে।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ঘটনা। এটা এমন একটা সময় ঘটেছে যখন কি না আমাদের অর্থনীতি বিভিন্ন ভাবে চাপের মধ্যে রয়েছে।

এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর থেকে প্রতিদিন বেড়ে চলেছে বাজার দর। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। সবকিছুতে ব্যয় বাড়লেও মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তের আয় বাড়েনি। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।  

পাইকারি বাজারে চাল ও ভোজ্যতেলের দাম আগে থেকেই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। জ্বালানি তেলের দরবৃদ্ধিতে যানবাহন ভাড়া বাড়ায় পণ্য দুটির নতুন করে দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বিভিন্ন ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত একটি ট্রাক কিংবা কাভার্ড ভ্যান যেতে ৪০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। বর্তমানে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছে। এতে একটি যানবাহনে অতিরিক্ত ১ হাজার ৩৬০ টাকা বাড়তি খরচ যুক্ত হয়েছে। কিন্তু সরকারিভাবে পণ্য পরিবহনের বিভিন্ন যানবাহনের ভাড়া নির্ধারিত না হওয়ায় পরিবহন মালিকরা কয়েক গুণ বেশি বাড়তি খরচ যুক্ত করেছেন, যার প্রভাব পড়েছে পণ্যের বাজারে।

বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম কিংবা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে চট্টগ্রামে পণ্য পরিবহনে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া নিচ্ছেন মালিকরা। এতে পণ্যের দামের ওপর প্রভাব পড়ে ভোগ্যপণ্যের বাজারে হঠাৎ করেই নতুন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার সুযোগে এরই মধ্যে পাইকারি বাজারে সব ধরনের খোলা ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে গিয়েছে। এ অবস্থায় মোড়কজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সয়াবিন তেলের দাম ফের বাড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে এখনো দাম পুনর্নির্ধারণ করা না হলেও পাইকারি ও খুচরা বাজারে মোড়কের অতিরিক্ত দামে ভোজ্যতেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ