আগস্ট ১৫, ২০২২ ১৯:১১ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় লোকসানের ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র অডিট করার উদ্যোগ নিয়েছে এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিইআরসি)। ইতোমধ্যে এজন্য একটি প্রবিধানমালার খসড়া প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে এর ওপর মতামত দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে ১৫২টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে ২৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে সরকারের। কিন্তু অভিযোগ আছে বেশ কিছু কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে সরকারের শত শত কোটি টাকা লোকসান হয়। এসব কেন্দ্রের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানির প্রয়োজন হয়। এ কারণে অডিটর নিয়োগ করে অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে  সরকার।

সম্প্রতি দুর্নীতি বিরোধী সংগঠন টিআইবি এক গবেষণা প্রতিবেদনে অভিযোগ করেছে, দেশে তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে দুর্নীতি হয়েছে ৩৯০ কোটি টাকা। এদের দুটি কয়লাভিত্তিক আর একটি এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিদ্যুৎ প্রকল্পে ভূমি ক্রয় ও অধিগ্রহণসহ নির্মাণের নানা পর্যায়ে দুর্নীতি খুঁজে পেয়েছে সংস্থাটি।

সদ্য প্রণীত খসড়া প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে, যুক্তিসঙ্গত কারণে স্বতন্ত্র এনার্জি অডিটর নিয়োগ করা সম্ভব না হলে বিইআরসি নিজস্ব কর্মকর্তাকে অডিট করার জন্য নিয়োগ দিতে পারবে। এছাড়া ইউটিলিটিগুলোকে তার নিজস্ব জনবল দ্বারা কেন্দ্রগুলোর অডিট করার পরামর্শ দিতে পারবে। এক্ষেত্রে কমিশন বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তাকে নিরীক্ষা শেষ করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

প্রবিধানমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত লোকসানের ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ; বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের দক্ষতা উন্নয়ন; অক্সিলিয়ারি ব্যবহার হ্রাস এবং দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।

প্রবিধানে আরো যেসব বিষয় উল্লখ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে উন্নত পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা ও অনুশীলনের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্যতা এবং প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করা। ইন্সট্রুমেন্টেশন ও মিটারিংয়ের ত্রুটিগুলি চিহ্নিত ও সংশোধনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। এছাড়া আর্থিক শৃঙ্খলা এবং ব্যয় যুক্তিযুক্তকরণের ফলে আর্থিক সক্ষমতার উন্নয়ন এবং গ্রিন হাউজ গ্যাসের নির্গমন হ্রাস করা অডিটের মূল উদ্দেশ্য।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিকাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স  ইঙ্গিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসিবুর রহমান রেডিও তেহরানকে বলেন, প্রস্তাবিত অডিট প্রক্রিয়ায় অবশ্যই বিদ্যুতের 'এভেলাবিলিটি' বা প্রাপ্যতার দিকটি  বিবেচনায় আনতে হবে। একই পরিমাণ গ্যাস পুড়িয়ে যদি একটি কেন্দ্রে উৎপাদন  ক্ষমতার  ৮০ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় আর একটিতে হয় ২০ ভাগ তা হলে কম উৎপাদনটকারী বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া ভালো। তাছাড়া  কুইক রেন্টাল প্লান্ট স্থাপনের সময় অনেক কেন্দ্রে নিম্নমানের সন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে  ঘোষিত ক্ষমতার চেয়ে কম বিদ্যুত পাওয়া যাচ্ছে। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে অডিট  পরিচালনা করা দরকার।

এ প্রসঙ্গে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশনের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম গণমাধ্যকে বলেন, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে রেন্টাল ও কুইক রেন্টালসহ শতাধিক প্রকল্প উৎপাদনে আনা হয়। এগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ মেলেনি। চাহিদা না থাকায় এসব কেন্দ্র প্রায়ই বন্ধ থাকে। বসে বসে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট নিচ্ছে। আবার সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রেখে বেসরকারি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে। এতদিনে ব্যয়বহুল এসব প্রকল্প থেকে বেরিয়ে আসার কথা থাকলেও নানা অজুহাতে রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের চুক্তি বারবার নবায়ন করা হচ্ছে। অডিটর নিয়োগ করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ