আগস্ট ১৮, ২০২২ ২৩:৫৭ Asia/Dhaka
  • চট্টগ্রাম নগরীর জেএমসেন হলে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন
    চট্টগ্রাম নগরীর জেএমসেন হলে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে টিকিয়ে রাখতে যা যা করা দরকার, তা করতে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। শেখ হাসিনা আমাদের আদর্শ। তাকে টিকিয়ে রাখতে পারলে আমাদের দেশ উন্নয়নের দিকে যাবে এবং সত্যিকারের সাম্প্রদায়িকতামুক্ত, অসাম্প্র্রদায়িক একটা দেশ হবে। শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারতবর্ষের সরকারকে সেটা করতে অনুরোধ করেছি।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “আমি বলেছি, আমার দেশে কিছু দুষ্ট লোক আছে, কিছু উগ্রবাদী আছে। আমার দেশ সারা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন না, আপনার দেশেও যেমন দুষ্ট লোক আছে, আমাদের দেশেও আছে। কিছুদিন আগে আপনাদের দেশেও এক ভদ্রমহিলা কিছু কথা বলেছিলেন, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে একটি কথাও বলিনি। বিভিন্ন দেশ কথা বলেছে, আমরা বলিনি। এ ধরনের প্রটেকশন আমরা আপনাদের দিয়ে যাচ্ছি। সেটা আপনাদের মঙ্গলের জন্য, আমাদের মঙ্গলের জন্য। আমরা যদি একটু বলি, তখন উগ্রবাদীরা আরও সোচ্চার হয়ে আরও বেশি বেশি কথা বলবে। তাতে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন হবে। আমাদের স্থিতিশীলতা বিঘ্ন হবে।”

মন্ত্রী বলেন, “ভারতকে বলেছি, আমরা উভয়ে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডকে কখনও প্রশ্রয় দেব না। এটা যদি আমরা করতে পারি, ভারত এবং বাংলাদেশ উভয়ের মঙ্গল। শেখ হাসিনা আছেন বলে ভারতের যথেষ্ট মঙ্গল হচ্ছে। বর্ডারে অতিরিক্ত খরচ করতে হয় না। ২৮ লাখ লোক আমাদের দেশ থেকে প্রতিবছর ভারতে বেড়াতে যায়। ভারতের কয়েক লাখ লোক আমাদের দেশে কাজ করে। এটি সম্ভব হয়েছে আমাদের সুন্দর অবস্থানের কারণে। সুতরাং আমরা উভয়ে এমনভাবে কাজ করব যাতে কোনো ধরনের উস্কানিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। ভারত সরকারকে বলেছি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকবে যদি আমরা উভয়ে শেখ হাসিনাকে সমর্থন দেই।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, “আমি গোহাটি গিয়েছিলাম। আসামের মূখ্যমন্ত্রী আমাকে বললেন, শেখ হাসিনার প্রতি আমাদের অনেক কৃতজ্ঞতা। আমি বললাম কেন? তিনি বলেন, আমরা এখানে রাস্তাঘাট হচ্ছে, শিল্প কারখানা আসতেছে। এগুলো সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার জন্য। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। বাংলাদেশে সন্ত্রাসের কোন জায়গা নেই। এর ফলে আসামে ও মেঘালয়ে কোন সন্ত্রাসী নেই। তিনি বলছেন এই কারণে বিভিন্ন কোম্পানি এসে এখানে শিল্প কারখানা খুলছে। 

তিনি বলেন, আসামের মূখ্যমন্ত্রী বলছেন, শেখ হাসিনার স্থিতিশীলতা চাই। তিনি আমাদের জন্য আর্শিবাদ। 

উস্কানি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা এমন কাজ করব না, ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে এমন কোনো উস্কানি দেব না, যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আমাদের প্রতিবেশী দেশে কিছু মসজিদ পুড়েছে। আমরা কোনোভাবে সেটা প্রচার করতে দিইনি। এর কারণ হচ্ছে কিছু দুষ্ট লোক আছে, কিছু জঙ্গি আছে যারা এটার বাহানায় আরও অপকর্ম করবে। আমরা এটা নিয়ন্ত্রণ করেছি। অনেকে আমাকে ভারতের দালাল বলে, কারণ অনেক কিছুই হয়, আমি স্ট্রং কোনো স্টেটমেন্ট দেই না।”

জন্মাষ্টমী উৎসবের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। আরও বক্তব্য দেন বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, ঢাকা মহানগর জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের আহবায়ক এস কে সিকদার, চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি দুলাল চন্দ্র দে ও সাধারণ সম্পাদক শংকর সেনগুপ্ত।#

পার্সটুডে/এমএআর/১৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ