আগস্ট ৩০, ২০২২ ১৮:২১ Asia/Dhaka

জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি তোয়াক্কা না করে চলতি মাসের গড়ার দিকে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি, সরকারের ভর্তুকিজনিত লোকসান এবং ভারতে তেল পাচারের কথা বলে সরকার ৫ আগস্ট ডিজেল ও কেরোসিনের লিটারে ৩৪ টাকা, পেট্রল ৪৪ ও অকটেনে ৪৬ টাকা দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ানো হয় পরিবহন ভাড়া। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পরিবহন ভাড়া বেড়েছে সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ।

এ প্রেক্ষিতে ব্যাপক জনঅসন্তোষ এবং রাজনৈতিক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে সরকার গত রোববার ডিজেলে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার কথা ঘোষণা করে। পরদিন সোমবার অকটেন, ডিজেল, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৫ টাকা করে কমানো হয়। আজ থেকে এ নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, তেলের  চোরাচালান কিছুটা কমে আসায় জনগণের কথা বিবেচনা করে জ্বালানি তেলের দাম  লিটার প্রতি পাঁচ টাকা কমানো হয়েছে। 

তবে, সাধারণ ভোক্তারা বলেছেন, লিটারে ৪৬ টাকা বাড়িয়ে মাত্র পাঁচ টাকা কামানো এটা জনগণের সাথে এক ধরনের তামাশা।

এদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি জ্বালানি তেল ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত  ২২ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। বাম গণতান্ত্রিক জোট  মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার হরতাল পালন করেছে। 

বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, এই পাঁচ টাকা মূল্য কমানোর কারণে প্রকৃত অর্থে পরিবহনের ভাড়া কমবে না, অন্যান্য ক্ষেত্রেও বর্ধিত মূল্যও কমবে না। তার ফলে পরিবহন মালিক ও অন্যদের আয় কমবে না বরং সরকারের রাজস্ব কমবে মাত্র।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিবৃতি

এদিকে, বাম গণতান্ত্রিক জোট আজ (মঙ্গলবার) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে- জ্বালাানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে দ্রব্যমূল্য আরেক দফা বাড়ানো হয়েছে। বাম গণতান্ত্রিক জোট এর বিরোধিতা করে যুক্তিসংগতভাবে প্রমাণ করে দিয়েছিল যে, দুর্নীতি, লুটপাট বন্ধ করলে তেলের মূল্যবৃদ্ধি করার তো কোনো কারণ নেই বরং আগের দামেই বিক্রি করা সম্ভব।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী এবং বিপিসির আর্থিক হিসাবের অসংগতি দূর করলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রয়োজন নেই। তেলসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিরুদ্ধে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা হরতালে জনগণের নৈতিক সমর্থন প্রমাণ করেছে, জনগণ এই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি মানে না। জনমনের অসন্তোষকে প্রশমিত করার নামে গতকাল ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি পাঁচ টাকা কমানোর যে ঘোষণা সরকার দিয়েছে, তা জনগণের সঙ্গে তামাশা এবং ব্যবসায়ীদের সুবিধা বৃদ্ধির নতুন পাঁয়তারা।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিবৃতিতে পরিবহন, কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে বেশি ব্যবহৃত ডিজেলের দাম কমিয়ে আগের মতো ৮০ টাকা নির্ধারণ করার দাবি জানান হয়।

সিপিবির বিবৃতি

এক পৃথক বিবৃতিতে সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ও কমানো নিয়ে সরকারের বর্তমান কার্যক্রম সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক ধরনের মশকরা। তাঁরা বলেন, ‘আমরা সব সময় দেখে আসছি, সরকারের জ্বালানি নীতি ও কৌশল ভুল, দুর্নীতিগ্রস্ত, লুটেরাবান্ধব। সরকার জানে, জ্বালানির সঙ্গে দেশের অর্থনীতি-দ্রব্যমূল্য-খাদ্য নিরাপত্তার নিবিড় সম্পর্ক আছে। তারপরও সরকার এই খাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নেয়নি।

সিপিবির দুই নেতা তেলের দাম কমানো, জনবান্ধব জ্বালানি নীতি গ্রহণ, জ্বালানি খাতের দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা বন্ধ করার দাবি জানান।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ