সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২২ ১১:৫৯ Asia/Dhaka
  • হযরত শাহজালাল বিমানবন্দনে শেখ হাসিনা
    হযরত শাহজালাল বিমানবন্দনে শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনকে ছাড়াই ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীরা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর বাতিল করা হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।

তবে, অন্য একটি সূত্র বলছে, সম্প্রতি বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে সমালোচিত হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিশেষ করে ‘শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছি’ এমন বক্তব্য দিয়ে সরকারকে বেশি বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেন তিনি। তাই এ সফর থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী দেশের সরকার প্রধান যখন কোনো রাষ্ট্রীয় সফরে যান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্যই তার সঙ্গে সফরসঙ্গী হন। গতকাল (রোববার) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে সফরসঙ্গী হচ্ছেন। তবে শেষ মুহূর্তে তাকে এ সফর থেকে বাদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

ড. এ কে আবদুল মোমেন

এর আগে, সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভিভিআইপি চার্টার্ড ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতের রেল ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী দর্শনা বিক্রম এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইমরান অভ্যর্থনা জানাবেন। শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দরে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, রেলপথমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীসহ মোট ১৭১ জন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বেশ কিছু বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন রোববার বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে সাতটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

এ ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, কোয়াড, সংখ্যালঘু নির্যাতন, পানি ভাগাভাগি, সীমান্ত সুরক্ষা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, জনযোগাযোগ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সহযোগিতা, মাদক চোরাচালান ও মানবপাচার রোধ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। একইসঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পরিবর্তিত ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপট, চীন-তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্র প্রসঙ্গও আলোচনায় স্থান পেতে পারে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ