সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২ ২৩:০১ Asia/Dhaka

মহামারি কোভিড এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশেও শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে একধরনের মন্দা বিরাজ করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে চাহিদায় ভাটা পড়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রফতানিমুখী শিল্প-কারখানাগুলোয় ক্রয়াদেশও কমছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ এবং গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। লোকসান বাড়ছে। কারখানা বন্ধ হচ্ছে এবং শ্রমিক কাজ হারাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজেওএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান গণমাধ্যমকে বলেছেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিদেশি ক্রেতাদের কার্যাদেশ যথাসময়ে সম্পাদন করা যাচ্ছে না। একই রকম সংকটের কথা বলেছেন বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি মহাম্মদ হাতেম।

অন্যান্য শিল্প খাতের অবস্থা একই রকম। বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) সেক্রেটারি জেনারেল মো. শহীদুল্লাহ গণমাধ্যমকে  বলেছেন, স্বাভাবিক সময়েও উৎপাদন সক্ষমতার ৬০ শতাংশ ব্যবহার করা যায়। বর্তমানে উৎপাদন সেই ৬০ শতাংশেরও নিচে নেমেছে। ইস্পাত ও সিমেন্ট মিলিয়ে উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশের মতো।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ফজলুল হক বলেন, গ্যাসের সমস্যা সারা দেশেই। শিল্পোদ্যোক্তাদের সবার জন্যই পরিস্থিতি খারাপ। গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন নয়, কখনো থাকে আবার কখনো থাকে না। সরকারি নির্দেশে সপ্তাহে এখন নির্দিষ্ট দিন নির্দিষ্ট এলাকার কারখানা বন্ধ রাখতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা থাকে যে বাকি দিনগুলো ভালো চলবে, কিন্তু  বাস্তবে দেখা যাচ্ছে প্রতিদিনই পাঁচ-ছয়বার বিদ্যুৎ চলে যায়। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। মূলত গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণেই এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে কারণে সিরাজগঞ্জে জেলার তাঁত কারখানাগুলোতে কাপড় উৎপাদনে ধস নেমেছে। বেলকুচির রায় প্রডাক্টসের মালিক রিপন সাহা বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে জেনারেটর দিয়ে কারখানা চালু রাখা হতো। কিন্তু হঠাৎ করে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জেনারেটরও চালানো যাচ্ছে না। ৪ থেকে ৫ ঘন্টা জেনারেটর চালু রাখলে পাঁচ-সাত লিটার তেল প্রয়োজন হচ্ছে। এই কয়েক ঘন্টার জন্য ১ হাজার টাকা খরচ হয়। এতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে অনেক বেশি।

বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডিবিএল সিরামিকস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ জব্বার গণমাধ্যমকে বলেছেন,  কেবল যে গ্যাসের চাপ কম তা-ই নয়, একটা নির্দিষ্ট সময় সরবরাহও বন্ধ থাকে। চাপ যখন শূন্যে চলে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়। ফলে উৎপাদন পর্যায়ে অনেক বেশি অপচয় হচ্ছে।

ভারী শিল্পের মধ্যে ইস্পাত ও সিমেন্টের মতো বৃহৎ শিল্পোদ্যোক্তারাও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে বিদ্যুতের সমস্যার বিষয়টিকে বড় সংকট বলে জানিয়েছেন তারা। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটির দিনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খাত দুটির ওপর। অন্যদিকে গ্যাসেরও চাপ কম। অনুমোদিত পিএসআই ১৫-এর বদলে পাওয়া যাচ্ছে দুই বা তিন পিএসআই। যার কারণে প্রভাবিত হচ্ছে ইস্পাত ও সিমেন্টের উৎপাদন।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ