অক্টোবর ০৪, ২০২২ ১৯:১২ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। এ কারণে দেশের অধিকাংশ স্থান হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎহীন।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ (মঙ্গলবার) দুপুর ২টা ৫ মিনিটে এ বিপর্যয় ঘটার ফলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লার বড় অংশে বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আছে। দুপুর ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত সময়ে যমুনা নদীর পাড় থেকে টঙ্গী পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা গেছে। বাকি অংশে কাজে চলছে।’

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় গ্রিডের পূর্বাঞ্চলে (যমুনা নদীর এপার) বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে আজ বেলা ২টা ৫ মিনিটে একযোগে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর থেকে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের বিস্তৃত এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। কখন বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউ।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড মেইন্টেন্যান্স) মো. মাসুম আলম বকসী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এখনও জানি না, কী হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি। শুধু এটুকু বলতে পারি যে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ মুহূর্তে বিদ্যুৎ নেই।’

ওদিকে, জাতীয় গ্রিডে ত্রুটির কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবকটি ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। আজ দুপুর ২টা ৫ মিনিটে এ সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও অন্যান্য পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ট্রান্সমিশন-১ লাইন ‘ব্ল্যাক আউট’ হয়ে যায়।

আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এম এম সাজ্জাদুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘দুপুর ২টা ৫ মিনিটে ব্লাক আউটের কারণে ইউনিটগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এতে আমাদের কোনো ত্রুটি ছিল না।’ 

সমস্যার সমাধান প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে সাজ্জাদুর রহমান কখন বন্ধ ইউনিটগুলো চালু হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি। তবে, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিজস্ব প্রকৌশলীরা বন্ধ ইউনিটগুলো চালু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, বন্ধ হওয়া ইউনিটগুলো হলো ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন নর্থ ইউনিট ও একই ক্ষমতা সম্পন্ন সাউথ ইউনিট, ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট, ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন গ্যাস ইঞ্জিন ইউনিট, ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৪নং ইউনিট এবং ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৫নং ইউনিট। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে এক হাজার ৪৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে।

অপরদিকে, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটার কারণে টেলিযোগাযোগ সেবায় বিঘ্ন ঘটার খবর পাওয়া গেছে। মুঠোফোনের ইন্টারনেট ও ক্ষুদে বার্তা পাঠাতে সমস্যা হচ্ছে বলে গ্রাহকেরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া কল করতেও বেশি সময় লাগছে বলে জানা গেছে।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) বলছে, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন সমস্যা হচ্ছে। সাময়িক সময়ের জন্য টেলিযোগাযোগ সেবা বিঘ্নিত হতে পারে। সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের প্রতি এমটবের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

টেলিযোগাযোগ নির্বিঘ্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বেজ ট্রান্সিভার স্টেশন (বিটিএস)—যা মোবাইল টাওয়ার নামে পরিচিত। কোনো কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে জেনারেটর দিয়ে দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিটিএস চালু করা যায়। কিন্তু, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে তখন জেনারেটর দিয়েও বিটিএসের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয় না।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ