২০১৯-০৫-১৮ ১৫:৪৩ বাংলাদেশ সময়

বাংলাদেশের ২০ দলীয় জোটের শরীক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, বিএনপি’র কিছু কিছু নেতা খালেদা জিয়া মুক্তি পাক তা চান না। ওই সব নেতারা মনে করেন বেগম জিয়া মুক্তি পেলে তাদের গুরুত্ব কমে যাবে।

গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীতে এলডিপির উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপি’র সাবেক এ নেতা।

এর আগে গত বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ  বিএনপিকে উদ্দেশে করে বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হয় আপনারা নেতৃত্ব গ্রহণ করুন অথবা নেতৃত্ব দেন।

অলি আহমদ বলেন, 'এটা কথার কথা নয়। সত্যিকার অর্থেই আমরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সারাদেশ ঘুরে ঘুরে জনমত সৃষ্টি করব। এটি এলডিপির ব্যানারে হতে হবে- এমনটা নয়। যেকোনো ব্যানারে বেগম জিয়ার মুক্তি চাওয়া যেতে পারে।'

বিএনপি সরকারের সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, 'বেগম জিয়া এখনো কারাবন্দী। শুধু তা-ই নয়, লক্ষাধিক নেতা-কর্মী কারাগারে, আমরা তাদের সম্পর্কে চিন্তাও করছি না। সমগ্র দেশ আজ জেলখানায় পরিণত হয়েছে। আমরা এর জন্য সংগ্রাম করব, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে জনমত গঠন করব।’

তিনি আরও বলেন, 'তাদের ২০ দলীয় জোট ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র হচ্ছে- এ প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগেও একই ষড়যন্ত্র হয়েছিল।

এদিকে ভিন্ন এক অনুষ্ঠানে বিএনপি’র সিনিয়র নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিএনপিতে কোনো নেতৃত্বের সংকট নেই। সরকারের নানামুখী নির্যাতনের কারণে জনগণের সহানুভূতি পেয়ে দলটির জনপ্রিয়তা আরো বেড়েছে। এখন দলকে সুসংগঠিত করেই দেশের মানুষের অতিকার, গণতন্ত্র এবং একইসাথে দলের চেয়াপারসন বেগম জিয়ার মুক্তি আদায় করতে হবে। 

বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকে বাংলাদেশের মানুষ নিরাপদ নয়। দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার নেই। সুতরাং একটি দেশে যদি গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার না থাকে তাহলে ধর্মকর্মের অধিকার কি থাকে? তাই আজকে মানুষের কোনো শান্তি ও কথা বলার অধিকার নেই।

রাজধানীতে ভিন্ন একটি ইফতার মাহফিলে দলের স্থায়ী কমিটির অপর এক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সব সময় ঐক্য গড়ে ওঠে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়। প্রয়োজনের তাগিদে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়। শ্রমিক, ছাত্র ঐক্যবদ্ধ হয়। অর্থাৎ প্রয়োজন যখন হয়, তখন বলে দেওয়া লাগে না। এখন এই প্রয়োজনকে কতোখানি অনুভব করতে পারছেন, সেটাই মূলকথা। ক্ষেত্র প্রস্তুত, কিন্তু আমরা অনুভব করতে পারছি কি-না যে, এখনই সময়।

গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে রাজধানীতে নয়াপল্টনে এটি ছাত্র সংগঠন আয়োজিত ইফতার ও আলোচনা সভায় নজরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদেরই আন্দোলনের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। কেউ তোমাদের সংগঠিত করে দেবে না। নিজেদেরই সংগঠিত হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

ছাত্রদের গণতন্ত্রের আন্দোলনের মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে নজরুল বলেন, তোমরা মাঠে নামো, কথা দিলাম এই বয়সেও তোমাদের পেছনে নয়, পাশেই থাকব।

এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান মন্তব্য করেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি কিছুই করছে না।  

ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত এই আলোচনা সভার নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, দলের সবাই বলছেন তার (খালেদা জিয়া) মুক্তির জন্য কিছু করা দরকার। কিন্তু আলোচনায় থাকলেও বাস্তবে তার জন্য কিছু করা হচ্ছে না।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য