২০১৯-০৯-০২ ১৮:১১ বাংলাদেশ সময়
  • খালেদার বিরুদ্ধে ১১ মামলার শুনানি পেছাল: ফখরুলসহ বিএনপির ৮ নেতার জামিন মঞ্জুর

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা নাশকতা, হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাসহ ১১ মামলার শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ৬ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছে আদালত। মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় করা নাশকতার আটটি, যাত্রাবাড়ী থানার দুটি ও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা।

আজ (সোমবার) এ মামলাগুলোর শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার পক্ষে হাইকোর্ট এসব মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে জানিয়ে শুনানি পেছানোর আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে নবনির্মিত ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। 

এদিকে, সরকারবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য এবং পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ ৮ নেতার জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত।

জামিন পাওয়া অপর আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

আদালতে মির্জা ফখরুল ইসলাম (ফাইল ফটো)

আজ (সোমবার) ঢাকা মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় আসামিদের জামিনের আদেশ দেন। এর আগে অভিযুক্ত বিএনপি নেতৃবৃন্দ আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ সরকার বিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদানসহ কর্মসূচি ঘোষণা করে। সেদিন সমাবেশ থেকে ফেরার পথে মগবাজার রেলগেইটে ৭০/৮০ জন 'রাষ্ট্রীয় নাশকতা ও ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম' করার লক্ষ্যে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তারা পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইট, পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরদিন হাতিরঝিল থানার এসআই শরিফুল ইসলাম বিএনপি’র ৫৫ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করে।

ইতোমধ্যে হাইকোর্ট এ মামলায় চার্জশিট দাখিল পর্যন্ত জামিনের মঞ্জুর করলেও   রাষ্ট্রপক্ষ এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে। এরপর আপিল বিভাগ অভিযুক্তদের দুই সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের আদেশ দেয়। সে আদেশ মোতাবেক আসামিরা আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।

আজ আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের শুনানি উল্লেখ করেন, এটি একটি গায়েবী মামলা। সেদিন সেখানে এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন। জামিনের অপব্যবহার তারা করেননি। আর হাইকোর্ট তাদের জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছেন। আমরা আসামিদের জামিনের প্রার্থনা করছি। এ প্রেক্ষিতে আজ বিচারিক আদালত অভিযুক্ত বিএনপি নেতাদের জামিন মঞ্জুর করেন।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য