২০১৯-০৯-২৩ ১৮:৪০ বাংলাদেশ সময়
  • ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা
    ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) চত্বরে ছাত্রদলের উপর ছাত্রলীগের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ (সোমবার) এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকের এই হামলা আওয়ামী বাকশালী ছাত্রলীগের একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসনের বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার মতো তারা শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে চায় না। ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিদ্যমান থাকলে ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করবে। এই ভয়ে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ এখন লাঠিয়ালের ভূমিকা পালন করছে।

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, ছাত্রলীগের হাতে বই, খাতা, কলমের পরিবর্তে অস্ত্র তুলে দেয়ার কারণেই শিক্ষাঙ্গনগুলো রক্তাক্ত এবং তারা নিজেরা মহাচাঁদাবাজ হিসেবে অভিসিক্ত হয়েছে। ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অঘোষিত শাসকে পরিণত হয়ছে। তারা নিজেরা বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজি, ভর্তি বাণিজ্য, সিট বাণিজ্য, নকল বাণিজ্য ও প্রশ্নপত্র ফাঁস বাণিজ্যে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। আসলে এরাই দেশব্যাপী অরাজকতা ও অনাচারের হোতা। সরকার এদেরকে লেলিয়ে দিয়েছে গণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের এই রক্তাক্ত আক্রমণ কাপুরোষচিত অভিহিত করে মির্জা ফখরুল এই হামলায় জড়িত দুষ্কৃতিকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শান্তি দাবি করেন এবং আহত ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের আশু সুস্থতা কামনা করেন।

এর আগে আজ বেলা ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র হাকিম চত্বর থেকে টিএসসি’র দিকে যাওয়ার সময় রড ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তার আগে হাকিম চত্বরে অবস্থানকালে তাদের ক্যাম্পাস থেকে চলে যেতে নির্দেশ দেয় ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাসসহ তার ক্যাডাররা।

হামলায় ছাত্রদলের অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাত জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, আমরা ১১টার দিকে নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ ক্যাম্পাসে যাই। এসময় ঢাবি শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি আমাদের ক্যাম্পাস থেকে চলে যেতে বলেন। এই কথা বলা অবস্থাতেই ছাত্রলীগের কেডাররা   আমাদের উপর হামলা চালায়।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দীর্ঘদিন ধরেই একচ্ছত্র প্রতিপত্তি বজায় রেখে আসছে সরকার সমর্থক ছাত্রলীগ। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নবনির্বাচিত নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থানের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরে মধুর ক্যান্টিনে সমবেত হয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশের দাবিতে স্লোগান দেয়। ছাত্রদলের আগমনের খবর পেয়ে ক্যাম্পাসে আগে থেকেই অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সে সময় ছাত্র রাজনীতির কেন্দ্রস্থল মধুর কেন্টিনে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলেও কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৩

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

 

ট্যাগ

মন্তব্য