২০১৯-১০-১৩ ২০:২৬ বাংলাদেশ সময়

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে বিভিন্ন সময় নানাপর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও এখনো থামছে না নিরস্ত্র নাগরিক হত্যা। গতরাতেও (শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে) চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাসুদপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে জোহরুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি রাখাল নিহত হয়েছেন। নিহত জহরুল ইসলাম শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঠুটাপাড়া গ্রামের আবদুল কাদিরের ছেলে।

জানা যায়, জোহরুল ইসলামসহ কয়েকজন বাংলাদেশি রাখাল গরু আনার জন্য রাত ৩টার দিকে মাসুদপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করে। এসময় ভারতের শোভাপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা গুলিবর্ষণ করলে জোহরুল ইসলাম নিহত হন। পরে তার সহযোগিরা জোহরুলের লাশ উদ্ধর করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসলে পরিবারের লোকজন গোপনে তার নানির বাড়ি বালুটুঙ্গি এলাকায় দাফন করে।

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন অধিকার তাদের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এ বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর এ ন’মাসে বিএসএফের হাতে ২৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন, অপহরণের শিকার হয়েছেন আরও ১৭ জন।

গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ী সীমান্ত থেকে তিন র‍্যাব সদস্য ও তাদের দুই নারী সোর্সকে আটক করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। পরে এ নিয়ে বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) সঙ্গে এক পতাকা বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ১০ ঘণ্টা আটকে রাখার পর তাদের ফেরত দেয় বিএসএফ।

স্থানীয়রা সাংবাদিকদের জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের ধাওয়া করতে গিয়ে ওই র‍্যাব সদস্যরা সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলার সংলগ্ন একটি বাড়িতে যান এ সময় ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে ফেললে বিএসএফ তাদের আটক করে।

ড. এ কে আবদুল মোমেন

এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন গতকাল সিলেটে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, সীমান্তে যারা মারা গেছে তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেছে কিংবা চুরি করতে গেছে। অবৈধভাবে প্রবেশ করা বন্ধ হলে বর্ডারে হত্যাও বন্ধ হবে। 

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৪,০৯৬ কিলোমিটার (২,৫৪৫ মাইল) দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমানায় চোরাচালান ও বাংলাদেশ থেকে কথিত অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিতর্কিত শ্যূট-অন-সাইট (দেখামাত্র গুলি) নীতি বহাল আছে, যার প্রেক্ষিতে বিএসএফ কারণে কিংবা অকারণে গুলি করতে পারে।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকায় গুলি চালনার ঘটনা ছাড়াও বিএসএফ সন্দেহভাজনদের আক্রমণাত্মক ভীতি প্রদর্শন, নিষ্ঠুরভাবে প্রহার এবং নির্যাতন করে থাকে বলে প্রায়ই গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।   

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল

এ প্রসঙ্গে বিএনপি’র যুগ্ন মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল রেডিও তেহরানকে  বলেন, ভারতের সাথেও এত বন্ধুত্ব থাকার পরও সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হচ্ছে তাদের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে। একটি  জনসমর্থনহীন সরকারের পক্ষে জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষার চেয়ে নিজেদের গদি রক্ষা করাটাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

সম্প্রতি দু'দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে সীমান্তে  বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যার অভিযোগ নাকচ করেন বিএসএফ মহাপরিচালক। তিনি বলেছেন, বিএসএফ-এর গুলিতে যাঁরা মারা যান, তাঁদের হত্যার উদ্দেশে গুলি করা হয় না।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/ আশরাফুর রহমান/১৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ

মন্তব্য