অক্টোবর ২৩, ২০১৯ ১৯:০৭ Asia/Dhaka
  • সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান
    সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান

বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে এক অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা তাদের বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে ধর্মঘট পালন করছেন যা এ দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি নতুন ঘটনা। তবে, এই ধর্মঘটের পেছনে ষড়যন্ত্র আছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড- বিসিবি।  

সোমবার ক্রিকেটারদের সম্মানি, পারিশ্রমিক, ঘরোয়া লিগের ক্যালেন্ডার নির্ধারণ ও ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) নেতৃত্বের পদত্যাগসহ ১১ দফা দাবিতে আসন্ন সব ধরণের ক্রিকেট কার্যক্রম বয়কটের ঘোষণা দেন সাকিব-তামিম-মুশফিকসহ পেশাদার ক্রিকেটাররা।

এ সংকট নিয়ে গতকালই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকদের সাথে এক অনানুষ্ঠানিক সভা করেন। সভা শেষে বিসিবি কর্মকমর্তারা দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

এসময় বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান জানিয়েছেন ক্রিকেটারদের আন্দোলন পূর্বপরিকল্পিত, অপ্রত্যাশিত। সংকট সৃষ্টির পেছনে কিছু একটা উদ্দেশ্য রয়েছে। আর তা শীঘ্রই উদঘাটন করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করা হবে।  

তিনি বলেন, 'দাবি যদি থাকে, দাবি পেশ না করে, সুযোগ না দিয়ে খেলা বন্ধ কিভাবে আগে আসে? দাবি না মানলে তখন বলতে পারতো যে আমরা খেলব না। তা  না করে আগে খেলা বন্ধ। এটা একটা চিন্তার বিষয়।'

ধর্মঘটে ক্রিকেটাররা

বিসিবি সভাপতি বলেন, 'বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে একটা ষড়যন্ত্র চলছে, এটা সবাই বোঝে। বহু চেষ্টা করেছে আইসিসি থেকে নিষধাজ্ঞা করা যায় কি না। এও চেষ্টা করা হয়েছে, জিম্বাবুয়ের মতো আমাদের ৬ মাস-এক বছর ব্যান করে দেয়া যায় কি না। ওইটা যখন পারে নাই তখন এটা হলো ওদের কৌশল। আমরা খুঁজে বের করব, দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছে কারা।'

খেলোয়াড়দের প্রতিটি দাবির বিষয়ে ব্যাখ্যা করে ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি জানান, এর কোনোটি এখতিয়ারের বাইরে, কোনোটি প্রক্রিয়াধীন, কোনোটিতে কাজ শুরু হয়েছে।

বিসিবি সভাপতি জানান. চুক্তিভিত্তিক ক্রিকেটারের সংখ্যা বাংলাদেশেই সর্বোচ্চ। তিনি আরো বলেন, 'আমরা প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে ৮০ জনকে চুক্তি করে টাকা দিচ্ছি।

বোর্ড সভাপতি জানান, শুক্রবার  থেকে ভারত সফরের জন্য ক্রিকেট ক্যাম্প শুরুর কথা। ধর্মঘটে অনিশ্চিত হলেও এ নিয়ে অনড় বোর্ড। বিসিবি সভাপতি ন বলেন, 'আমাদের ক্যাম্প শুরু হচ্ছে। প্লেয়াররা যদি যায় ভালো। না যায়, নাই। যাবে না। আমার কিছু বলার নাই। ওরা যদি বসতে চায়, যেকোনো সময় বসতে পারে।'

সাবের হোসেন চৌধুরী

সাবেক সভাপতির মন্তব্য

এদিকে বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী গতকাল তার এক প্রতিক্রিয়ায় বোর্ডের পক্ষ থেকে ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে পাল্টা অবস্থান নেয়ার সমালোচনা করেছেন। বোর্ডের কাছে ক্রিকেটারদের দাবি পেশ না করার কারণকে 'আস্থার ঘাটতি' হিসেবে দেখছেন সাবের হোসেন চৌধুরী।

ক্রিকেটারদের আন্দোলনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ খোঁজাকে 'বিসিবির আত্মরক্ষার কৌশল' বলে মনে করেন বিসিবি’র সাবেক এ সভাপতি।   

কোয়াবের প্রতিক্রিয়া

এদিকে, ক্রিকেটারদের দাবি প্রসঙ্গে বিসিবির সাথে সুর মিলিয়েছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। তবে, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন জানিয়েছে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটারর্স অ্যাসোসিয়েশন ফিকা।

কোয়াব–এর সভাপতি সাবেক ক্রিকেটার নাঈমুর রহমান দুর্জয় জানিয়েছেন, ক্রিকেটারদের দাবি অনুযায়ী সংগঠনের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করছেন না। তিনি বরং উল্টো কোয়াবের কোনো কাজে বর্তমান ক্রিকেটারদের পাশে না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।#

উল্লেখ্য, ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবির প্রথমটিই ছিলো কোয়াবের শীর্ষ কর্তাদের পদত্যাগ।  ২০০৮ সালে কোয়াব সৃষ্টির পর প্রায় এক যুগ ধরে এর সভাপতির পদে রয়েছেন  বিসিবি’র গুরুত্বপূর্ণ পরিচালক নাঈমুর রহমান দুর্জয়। সহসভাপতি পদে আছেন,  বিসিবি’র ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন বিসিবি আম্পয়ার্স কো অর্ডিনেটর দেবব্রত পাল। ##

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ

মন্তব্য