২০১৯-১১-০৭ ১৯:৪৪ বাংলাদেশ সময়
  • সাদেক হোসেন খোকার জানাজায় হাজার হাজার মানুষ
    সাদেক হোসেন খোকার জানাজায় হাজার হাজার মানুষ

সর্বসাধারণের শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধা রাজনীতিবিদ ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা অবশেষে তার প্রিয় মাতৃভূমিতে রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন। এর আগে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। 

গত সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোন ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাদেক হোসেন খোকা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

নিউইয়র্ক থেকে বৃহস্পতিবার সকালে সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। কফিন গ্রহণ করেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে খোকার লাশ সরাসরি সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিন তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাদেক হোসেন খোকার জানাজায় বিএনপি’র নেতাকর্মী ছাড়াও অংশ নেন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ। জানাজা শেষে তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান পরিবারের সদস্যরা।

তোফায়েল আহমেদ

খোকা বিনয়ী ও মার্জিত আচরণের ব্যক্তি ছিলেন: তোফায়েল

এসময় আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ সাদেক হোসেন খোকাকে একজন 'মানবিক গুণসম্পন্ন রাজনীতিবিদ' বলে উল্লেখ করে তার বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

মুক্তিযুদ্ধে খোকার অবদানের কথা স্মরণ করে আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল বলেন, ‘আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিজীবনে তিনি চমৎকার মানুষ ছিলেন। ব্যক্তিজীবনে আমাদের প্রত্যেক্যের মধ্যেই ত্রুটি রয়েছে। সাদেক হোসেন খোকা মানুষ হিসেবে ছিলেন অমায়িক ও ভদ্র।’

জানাজায় উপস্থিত এলডিপি নেতা সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব) অলি আহমেদ ঢাকা মহানগরীতে বিএনপিকে সুসংগঠিত করার ব্যাপারে সাদেক হোসেন খোকার অবদানের কথা স্মরণ করেন।

জাতীয় সংসদ প্লাজায় খোকার জানাজা

জাতীয় সংসদ প্লাজায় জানাজা শেষে সাদেক হোসেন খোকার কফিন সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য নেয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। দুপুর বারোটা থেকে একটা পর্যন্ত জাতীয় শহীদ মিনারে তাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ। স্মৃতিচারণ করেন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীরা।

এরপর তার কফিন নিয়ে আসা হয় নয়াপল্টনে বিএনপি’র কার্যালয়ে। সেখানে শেষবারের মতো নেতাকে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির নেতাকর্মীরা। দুপুর ২টায় নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে সাদেক হোসেন খোকার আরেক দফা জানাজা আনুষ্ঠিত হয়।

বিকেল ৩টায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভবনের সামনে নেয়া হয় অভিভক্ত ঢাকা সিটির সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার কফিন। সেখানে সিটি করপোরশনের  কর্মকর্তা কর্মচারীসহ নগরীর পরিচ্ছন্নতা কর্মী নারী-পুরুষ সকলে ফুল হাতে নিয়ে সরিবদ্ধ হয়ে শ্রদ্ধা জানান তাদের অতিপ্রিয় সাবেক এ নগরপালকে।

নগর ভবন থেকে সাদেক হোসেন খোকার মরদেহবাহী কফিনটি নিয়ে আসা হয় গোপীবাগের পৈত্রিক বাসভবনে। এরপর পুরান ঢাকার ধুপখোলা মাঠে শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর, জুরাইন কবরস্থানে তার মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয় এ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।

খোকার মরদেহবাহী গাজীর চারপাশে মানুষের ঢল

এর আগে নিউইয়র্কে সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন সাংবাদিকদের কাছে আক্ষেপ করে বলেছেন, 'আমার বাবার বুকে চাপা কষ্ট রয়েছে, তিনি নিজ দেশে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারেননি। তিনি ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে এখানে এসেছেন। তিনি ২০১৭ সালে পাসপোর্ট নবায়ন আবেদন করেছেন কিন্তু সেটা পাননি।'

খোকার ছেলে আরও বলেন, 'আমি যে দিন নিউইয়র্ক গেলাম, আমার বাবা সেদিন শেষ কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, তার জানাজা যেন দেশে হয়। আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই আমার বাবার মরদেহ দেশে আনতে সহযোগিতা করার জন্য।'

জানাজা শেষে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা সংসদের বিরোধী দলের নেতা পক্ষ থেকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমেদসহ বর্তমান ও সাবেক সংসসদ সদস্যরা খোকার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

জানাজায় অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নেন সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএনপি নেতা ড. আব্দুল মঈন খান, ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, এলডিপি সভাপতি অলি আহমেদ, জাতীয় পার্টির নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদির সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য